হারের ভয়ে পারিবারিক 'গড়' রায়বরেলিতেও লড়তে চাননি রাহুল, বিস্ফোরক অখিলেশের দলের সাংসদ
Subhajit Mandal
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে নিজের পারিবারিক গড় হিসাবে পরিচিত রায়বরেলি আসনেও লড়তে চাননি বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। ২০১৯ সালে আমেঠিতে হারের পর তিনি এতটা ভীত ছিলেন, যে রায়বরেলিতেও জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন না। বিস্ফোরক দাবি করলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ শিবপাল সিং। তাঁর দাবি, অখিলেশ যাদব আশ্বস্ত করার পরই রাহুল ওই কেন্দ্রে নির্বাচনে লড়েন।
দু'বছর আগে লোকসভা নির্বাচনে মসৃণ জোট হয়েছিল সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেসের। যার সুবাদে উত্তরপ্রদেশে বিজেপিকে পিছনে ফেলে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি আসন জেতে ইন্ডিয়া জোট। কিন্তু ২০২৭ লোকসভা নির্বাচনের আগে সেই সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেস নিজেদের মধ্যে কলহে জর্জরিত। আসন সমঝোতা নিয়ে দু'দলের বিবাদ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অখিলেশ যাদব রাহুল গান্ধী-মল্লিকার্জুন খাড়গেদের সাক্ষাৎ পর্যন্ত এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। মূল কারণ আসন নিয়ে কংগ্রেসের 'বেমক্কা' দাবি।
আরও পড়ুন:
কংগ্রেসের এই বাড়তি আসনের দাবি নিয়ে প্রতাপগড়ের সাংসদ শিবপাল সিং এতটা ক্ষুব্ধ যে, জোট শরিককে রীতিমতো কড়া ভাষায় নিশানা করেছেন তিনি। শিবপাল বলছেন, "২০২৪ সালে জোট না হলে উত্তরপ্রদেশে একটি আসনেও জিততে পারত না কংগ্রেস। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ওদের শীর্ষনেতা রাহুল গান্ধীও নিজের আসনে লড়তে চাইছিলেন না। অন্যত্র লড়তে চাইছিলেন। এতটাই ভয় পেয়েছিল।" সমাজবাদী পার্টির সাংসদের দাবি, অখিলেশ যাদবই রাহুল গান্ধীকে রাজি করান রায়বরেলি থেকে লড়তে। শিবপাল সিং বলেন, "উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস যে ক'টা আসন জিতেছে, সবটাই সমাজবাদী পার্টির জন্য। সপার সব ভোট কংগ্রেসে গিয়েছে। নাহলে একটা আসনেও জিততে পারত না।"
উল্লেখ্য, ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে মাত্র ১ আসন জেতে কংগ্রেস। নিজের পারিবারিক গড় আমেঠি থেকেও হেরে যান রাহুল গান্ধী। ২০২৪ সালে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোটের সুবাদে ৬ আসন পায় হাত শিবির। এবার রায়বরেলি থেকে ৩ লক্ষ ৯০ হাজার ভোটে জেতেন রাহুল। আমেঠি থেকেও জেতেন কংগ্রেস প্রার্থী কিশোরীলাল শর্মা।