নীতীশকে নিয়ে চরম কোন্দল কংগ্রেসে! কর্মসমিতির বৈঠকে তুমুল বাকযুদ্ধে সোনিয়া-দিগ্বিজয়
Amit Kumar Das
ইন্ডিয়া জোট ছেড়ে ২ বছর হল এনডিএ শিবিরে ভিড়েছেন জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার। তাঁর অভাব এখনও হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বিরোধী ঐক্য। মঙ্গলবার দিল্লিতে কংগ্রেসের কর্মসমিতির (CWC Meeting) বৈঠকে চর্চায় উঠে এলেন বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ। তাঁকে কেন্দ্র করে একদফা বাকযুদ্ধে জড়ালেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও দিগ্বিজয় সিং। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা বলেন, নীতীশকে আটকে রাখা উচিত ছিল আমাদের। যদিও সোনিয়া সে দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দেন।
কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কিছুটা আত্মসমালোচনার সুরে নীতীশের প্রসঙ্গ টেনে আনেন দিগ্বিজয় সিং। তিনি বলেন, "২০২৩ সালে নীতীশকে যদি সন্তুষ্ট করা যেত তাহলে হয়ত উনি জোট ছেড়ে যেতেন না। ওনাকে ইন্ডিয়া জোট ছাড়তে দেওয়া উচিত হয়নি আমাদের। ওঁকে ধরে রাখার জন্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করা উচিত ছিল আমাদের। উনি থেকে গেলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অন্যরকম হত। এই সময়কালে যে নির্বাচনগুলি হয়েছে তার ফলও ভিন্ন হতে পারত।" তবে দিগ্বিজয়ের এই দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দেন সোনিয়া। নীতীশ সম্পর্কে কঠোর মনোভাব নেন তিনি।
আরও পড়ুন:
দিগ্বিজয় বলেন, '২০২৩ সালে নীতীশকে যদি সন্তুষ্ট করা যেত তাহলে হয়ত উনি জোট ছেড়ে যেতেন না। ওনাকে ইন্ডিয়া জোট ছাড়তে দেওয়া উচিত হয়নি আমাদের।'
বৈঠকে দিগ্বিজয়ের মন্তব্যের পালটা সোনিয়া বলেন, নীতীশ কুমার জোট ছেড়ে চলে যাওয়ায় ইন্ডিয়া জোটের উপকারই হয়েছে। তাঁর কথায়, "ঈশ্বরকে অনেক ধন্যবাদ যে নীতীশ কুমার সময়মতো চলে গিয়েছেন। ওনাকে আটকে রাখা যেত না। উনি ওখানেই যেতেন। উনি বিরোধী জোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এবং শেষ পর্যন্ত যেখানে যাওয়ার সেখানেই পৌঁছে গিয়েছেন।" সোনিয়া আরও বলেন, নীতীশ কুমার অনেক আগে থেকেই মনস্থির করে নিয়েছিলেন জোট ছাড়বেন। এরপর থেকে তিনি জোট ছেড়ে বের হওয়ার বাহানা খুঁজছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটকে মাথায় রেখে ২০২৩ সালে গঠিত হয়েছিল ইন্ডিয়া জোট। এই জোটের অন্যতম প্রধান ছিলেন খোদ নীতীশ কুমার। তবে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে হঠাৎই উলটে পালটে যায় সব হিসেব নিকেশ। লোকসভা ভোটের আগে তিনি যোগ দেন এনডিএ শিবিরে। তার আগে অবশ্য বিহারে আজেডির সঙ্গে জোট ভেঙে বিজেপির হাত ধরে ফের মুখ্যমন্ত্রী হন নীতীশ কুমার। বলেন, ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল না। বিরোধী ঐক্য গড়ার চেষ্টা করে কাঙ্খিত ফল তিনি পাচ্ছিলেন না। ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা যায় এনডিএ-র সরকারের অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে উঠেছে নীতীশের জেডিইউ ও চন্দ্রবাবুর দল টিডিপি।