বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে একাধিক বিষয়ে কথা মোদির, কমল শুল্ক উদ্বেগ?
Kishore Ghosh
বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি-সহ একাধিক ক্ষেত্র নিয়ে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমের পোস্টে নিজেই একথা জানালেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে মোদির দাবি, ‘বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-কে এগিয়ে নিয়ে যেতে, দ্বিপাক্ষিক ঘনিষ্ট সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রশ্ন হল, শুল্ক উদ্বেগ কতটা কমল?
আরও পড়ুন:
এক্স পোস্টে মোদি লিখেছেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, জরুরি প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছি। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিসরে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে একমত হয়েছি।’’ প্রধানমন্ত্রীর আরও লেখেন, ‘‘আমরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেছি। যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার অগ্রগতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।’’
বর্তমানে কঠিন বৈশ্বিক কূটনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে রয়েছে দেশ। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে আগ্রহী ভারত, অন্যদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানির কেনার রাস্তাও খোলা রাখতে চাইছে দিল্লি। ব্রিকস-এ জিনপিং আসার পর আন্তজার্তিক কূটনীতি কোন পথে এগোয় সেদিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। এই অবস্থায় বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন মোদি-ট্রাম্পের। এছাড়াও পশ্চিম এশিয়ার চলমান অশান্তি নিয়েও কথা হয়েছে উভয় রাষ্ট্রনেতার মধ্যে।
যদিও ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের হল আমেরিকার শুল্কবাণ। ইতিমধ্যে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাশ হয়েছে ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া এবং ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ বিল। এর শক্তিতে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘অপরাধে’ ভারতীয় পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে ওয়াশিংটন। (যদিও রাশিয়া থেকে নিজেদের ইউরেনিয়াম আমদানির রাস্তা খোলা রেখেছেন ট্রাম্প)। এই পরিস্থিতিতে মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।