'সুপ্রিম' ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের, ৪ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজই, হস্তক্ষেপে নারাজ আদালত
Kousik Sinha
সুপ্রিম কোর্টে বিরাট ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে থাকা চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু সেই আবেদনে হস্তক্ষেপ করল না শীর্ষ আদালত। বহাল থাকল কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশই। অর্থাৎ ওই চারটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজই (TMC Account Freeze) থাকছে। ফলত উপনির্বাচন আগে মমতা তৃণমূল ওই চার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারছে না।
সবপক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি এম সুন্দরেশের বেঞ্চ জানায়, তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ় করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই অবস্থায় হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করবে না আদালত। এরপরেই মমতা তৃণমূলের দায়ের করা মামলা খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে থাকা চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে সিআইডি। এহেন পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় মমতা তৃণমূল। কিন্তু এই মামলায় কোনও হস্তক্ষেপ করেনি আদালত। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়। আজ, বৃহস্পতিবার বিচারপতি সুন্দররেশের বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী মনু সিংভি বলেন, প্রায় ১২ কোটি টাকা প্রতি মাসে খরচ হয় দলের। এই পরিস্থিতিতে সামনে উপ নির্বাচন। ফলে দ্রুত অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি যাতে সুপ্রিম কোর্ট দেয় সেই আবেদন জানান আইনজীবী।
আরও পড়ুন:
যদিও এই বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানান সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। পালটা যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ভিন্ন একটি এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়টি। যদিও পুরো বিষয়টি এখন নির্বাচন কমিশনের বিচারাধীন রয়েছে বলেও দাবি করেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল। এছাড়াও বেশ কিছু যুক্তিও এদিন তুলে ধরেন। সবপক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি এম সুন্দরেশের বেঞ্চ জানায়, তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ় করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই অবস্থায় হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করবে না আদালত। এরপরেই মমতা তৃণমূলের দায়ের করা মামলা খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
বলে রাখা প্রয়োজন, সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত এফআইআরের ভিত্তিতে ওই ব্যাঙ্কের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা। এক্ষেত্রে কালীঘাট তৃণমূলের দাবি, কোনও বেআইনি লেনদেনের প্রমাণ নেই। ফলে ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলি দ্রুত খোলার আবেদন জানিয়েই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় মমতার দল। প্রয়োজনে স্পেশাল অফিসার যাতে নিয়োগ করা হয় সেই আবেদনও জানানো হয়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে সেই মামলার শুনানি হয়। কিন্তু তাতে কোনও হস্তক্ষেপ করেনি হাই কোর্ট। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় মমতা তৃণমূল। এবার সেখানেও ধাক্কা খেতে হল।