নেই স্মার্টফোন, তবু প্রতি মাসে বইতে হচ্ছে ইন্টারনেটের খরচ! এয়ারটেল-ভিকে কড়া নির্দেশ কেন্দ্রের
Anwesha Adhikary
ইন্টারনেটের দরকার নেই, স্রেফ ফোন করে কথাটুকু বলতে পারলেই হবে। দেশের বহু মোবাইল ব্যবহারকারীদের এমনটাই দাবি। মূলত বয়স্ক বা আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষ স্রেফ কথা বলার জন্যই ফোন ব্যবহার করেন। তা সত্ত্বেও তাঁদের ডেটাসমেত টকটাইম এবং এসএমএসে প্ল্যান রিচার্জ করতে হয়। অধিকাংশ টেলিকম সংস্থাই শুধুমাত্র ভয়েস কল এবং এসএমএসের জন্য কোনও রিচার্জ প্যাক রাখে না। এবার এই ইস্য়ুতে নড়েচড়ে বসল টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI)।
এয়ারটেল, ভি-এর মতো সংস্থাগুলির প্রিপেড রিচার্জ তালিকায় দেখা যায়, শুধুমাত্র টকটাইম এবং এসএমএসের জন্য আলাদা করে প্যাকের সংখ্যা খুবই কম। অধিকাংশ রিচার্জ প্যাকের সঙ্গে ডেটাও যুক্ত করা আছে। অথচ সেই ডেটা অব্যবহৃতই থেকে যায়, তার খরচ গুণতে হয় উপভোক্তাকে। এই ব্যবস্থা বন্ধ করতে নির্দেশ দিল ট্রাই। সংস্থার তরফ থেকে বলা হয়, টেলিকম কনজিউমার প্রোটেকশন (থার্টিনথ অ্যামেন্ডমেন্ট) রেগুলেশনস, ২০২৬ অনুযায়ী, ভয়েস ও এসএমএসের জন্য বিশেষ রিচার্জের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ডেটা বাদ দেওয়ার ফলে খরচ কমবে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে এই রিচার্জগুলির দামও কমাতে হবে।
আরও পড়ুন:
শুধু তাই নয়, টকটাইম এবং এসএমএসের প্যাকে কম মেয়াদের রিচার্জের ব্যবস্থা করতেও নির্দেশ দিয়েছে TRAI। তারা জানিয়েছে, ৩০ দিনের বেশি মেয়াদের অন্তত একটি ভয়েস-এসএমএস প্ল্যান রাখতে হবে প্রতিটি সংস্থাকে। বর্তমানে ভয়েস ও এসএমএস প্ল্যানগুলি অধিকাংশই দীর্ঘ মেয়াদের। স্বভাবতই সেই রিচার্জ করতে খরচ বেশি। ট্রাইয়ের নির্দেশ, কম মেয়াদে টকটাইম রিচার্জের ব্যবস্থা করতে হবে কম দামে। মূলত আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা গ্রাহকদের সুবিধার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার বলে জানিয়েছে ট্রাই।
উল্লেখ্য, যেভাবে ২৮ দিনের প্ল্যান বানিয়ে ১২ মাসে ১৩ বার রিচার্জ করতে হয়, সেই ইস্যু নিয়ে সংসদে সুর চড়িয়েছিলেন সাংসদ রাঘব চাড্ডা। তাঁর দাবি ছিল, মোবাইল রিচার্জ ৩০ বা ৩১ দিনের হওয়া উচিত। তবে এখনও সরকার বা ট্রাইয়ের তরফ থেকে এই বিষয়টি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তবে টকটাইম রিচার্জ নিয়ে ট্রাইয়ের নির্দেশিকায় আমজনতার উপকার হবে বলেই অনুমান।