পূরণ হয়নি প্রতিশ্রুতি, বিজেপি সাংসদদের দুষে ইন্ডিয়া গেটের সামনে অনশনে জলপাইগুড়ির ২ চা শ্রমিক

10:33 PM Sep 27, 2022 |
Advertisement

সোমনাথ রায়, নয়াদিল্লি: বছরের পর বছর কেটে গিয়েছে। বদলেছে শাসক। বদলায়নি শুধু চা শ্রমিকদের দুর্দশা। ইচ্ছা ছিল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে দরবার করবেন। দুই বিজেপি সাংসদ প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করিয়ে দেবেন। সেই প্রতিশ্রুতি পেয়ে দিল্লি চলে যান জলপাইগুড়ির ওদলাবাড়ির দুই আদিবাসী চা শ্রমিক শ্যাম ওঁরাও এবং পিলাতোষ ওঁরাও। কিন্তু কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জন বার্লা (John Barla) ও জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ ডা. জয়ন্ত রায় (Dr Jayanta Kumar Roy) সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি। তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ইন্ডিয়া গেটে আমরণ অনশন অবস্থানের হুমকি দিলেন তাঁরা। অনশন চলাকালীন তাঁদের মৃত্যু হলে তার জন্য বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরাই দায়ী থাকবেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

Advertisement

সময় বদলেছে। বদল এসেছে শাসকে। কিন্তু ব্রিটিশ জমানার মতো এখনও বঞ্চিত তাঁরা। না আছে কাজের সময়ের ঠিক, না ন্যূনতম মজুরি। দেড়শো বছরের বেশি বাংলায় থেকেও নেই জমির পাট্টা। রাইসিনা হিলে প্রথমবার একজন আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি আসীন হতেই তাঁদের মনে জেগেছে আশার আলো। হয়তো এবার মুক্তি মিলতে পারে বঞ্চনা, অবহেলা, কষ্টের থেকে। এই বিশ্বাসে ভর করেই ওদলাবাড়ির চা বাগানে ওঠে নতুন সূর্য। ঠিক হয় দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) কাছেই দরবার করা হবে।

Advertising
Advertising

[আরও পড়ুন: ড্রাগ, মদ, মধুচক্র সবই মিলত রিসর্টে! ক্রমেই ফাঁস হচ্ছে উত্তরাখণ্ডের বিজেপি নেতার ছেলের কীর্তি]

কিন্তু কীভাবে আসবে সুযোগ? একদিকে যেমন টান পকেটে, তেমনই আছে বিধিনিষিধের কড়া ব্যারিকেড। তবু খানিকটা জেদে ভরসা করেই দুই ভাই শ্যাম ও পিলাতোষ ঠিক করেন পায়ে হেঁটেই রওনা দেবেন দিল্লির দিকে। সেইমতো ২২ আগস্ট শুরু হয় তাঁদের পথচলা। তাঁদের এই অভিযানের খবর ইতিমধ্যেই পৌঁছিয়েছে জন বার্লা (John Barla) ও জয়ন্ত রায়ের কাছে। পিলাতোষ-শ্যামদের দাবি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন দুই বিজেপি নেতা। গত শুক্রবার দিল্লি পৌঁছনোর পর থেকেই তাঁরা আছেন জন বার্লার নতুন বাংলোর সামনে ছোট্ট এক গুমটিতে। তারপর থেকে আর কোনও পাত্তা নেই জন-জয়ন্তর।

[আরও পড়ুন: চিন সীমান্তে এবার ‘তেজস্বী’র তেজ, সুখোই ওড়াবেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিন নারী]

দীর্ঘ পথে হেঁটে আসায় পায়ে ক্ষত। শরীরে ক্লান্তির ছাপ। কিন্তু চোখেমুখে এক অদম্য জেদ। ঠিক করেছেন আর মাত্র দু’দিন অপেক্ষা করবেন। রাজধানীতে আসার পর বৃহস্পতিবার ঘুরে যাবে সপ্তাহ। তার মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা না হলে ইন্ডিয়া গেটের সামনে আমৃত্যু অনশনে বসবেন। বলছিলেন, “খালি বলে দেখা করার ব্যবস্থা করে দেবে। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। ভোটের সময় কত বড় বড় কথা, প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ওদের সংসদে পাঠিয়ে তাহলে আমাদের কী লাভ হল? এইটুকু কাজও যদি না করতে পারে তাহলে ইন্ডিয়া গেটে (India Gate) অনশনে বসব। আমাদের কিছু হলে, দায়ী হবেন ডা. জয়ন্ত রায়।”

Advertisement
Next