উত্তরাখণ্ড, গুজরাটের পর তৃতীয় রাজ্য হিসাবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি পাশ হয়ে গেল অসমে। বুধবার অসম বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয়েছে এই বিল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রকাশিত ইস্তেহারে বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল, সরকার গড়লে কার্যকর হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। সেই প্রক্রিয়া শুরু করে দিলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মারা। উল্লেখ্য, বাংলার নির্বাচনী ইস্তেহারেও একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। এবার কি তবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পথে হাঁটবেন শুভেন্দু অধিকারীও?
দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের জন্য উঠেপড়ে লাগেন হিমন্ত। গত ১৩ মে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই পাশ হয়ে যায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের প্রস্তাব। অসমের মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল সংকল্পপত্রে। বিজেপি সরকার যে প্রতিশ্রুতি পূরণে বদ্ধপরিকর, সেই বার্তা দিতে চান তিনি। সেইমতো অসম বিধানসভার অধিবেশনে মঙ্গলবার পেশ করা হয় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল। বুধবার ধ্বনিভোটে তা পাশ হয়ে গিয়েছে।
হিমন্তের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কি এবার বাংলাতেও কার্যকর হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি? প্রতিবেশী রাজ্যের মতো বাংলাতেও কি নিয়মে কিছু ছাড় থাকবে? নাকি দেশব্যাপী আইনই কার্যকর হবে বাংলাতেও? রয়েছে একাধিক প্রশ্ন।
উল্লেখ্য, বাংলায় সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যে লাগু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, এমনটাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। বিপুল ভোটে জিতে বাংলায় গঠিত হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তারপর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দিল্লি থেকে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, খুব তাড়াতাড়ি বাংলাতেও হয়তো চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। তাঁর মতে, "রাজ্য সরকার যেদিন মনে করবে সেদিনই বাংলায় চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। কারণ, আইনের চোখে সকলেই সমান। কেউই আলাদা নন।"
অসমে অবশ্য পাহাড় এবং সমতলের প্রত্যেক আদিবাসী গোষ্ঠীকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বাইরে রাখা হয়েছে। অসমের মানুষের ঐতিহ্য এবং রীতিনীতিকেও বাদ দেওয়া হয়েছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি থেকে। হিমন্তের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কি এবার বাংলাতেও কার্যকর হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি? প্রতিবেশী রাজ্যের মতো বাংলাতেও কি নিয়মে কিছু ছাড় থাকবে? নাকি দেশব্যাপী আইনই কার্যকর হবে বাংলাতেও? রয়েছে একাধিক প্রশ্ন।
