খাগড়াগড়-কাণ্ডের ১২ বছর পর ফের বঙ্গে সক্রিয় জেএমবি! এবারও 'বৃহত্তর বাংলাদেশ' গঠনের ছক?
Kousik Sinha
২০১৪ সালের ২ অক্টোরর। অষ্টমীর সকাল। উৎসবের আমেজে মেতে গোটা বাংলা। আচমকাই প্রবল বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল বর্ধমানের খাগড়াগড়। সেখানকার একটি বাড়িতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার তদন্তে নেমে জামাত-উল-মুজাহিদিন অর্থাৎ জেএমবি যোগ সামনে আসে। এমনকী এই ঘটনার পিছনে 'বৃহত্তর বাংলাদেশ' তৈরির ছক ছিল বলেও জানতে পারেন তদন্তকারীরা। ঘটনার ১২ বছর পর বাংলার বুকে ফের তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন জেএমবির স্লিপার সেল! তাও আবার ঠিক ২ অক্টোবরের আগে। উৎসবের আগে এমন বিস্ফোরক তথ্য হাতে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। ডায়মন্ড হারবার, বর্ধমান-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে এক ইমাম-সহ বেশ কয়েকজন যুবককে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। ধৃতদের সঙ্গে সরাসরি জামাত-উল-মুজাহিদিন অর্থাৎ জেএমবির শাখা সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’র যোগ আছে বলে খবর।
পূর্ব বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে নেমে হতবাক হয়ে যায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। যদিও এই ঘটনায় শাকিল গাজি ও করিম শেখ নামে দুই সন্দেহভাজন জঙ্গির ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। কিন্তু খাগড়াগড়ের ওই অভিশপ্ত বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৫৫টি আইইডি, আরডিএক্স, ঘড়ির ডায়াল, সিম কার্ড-সহ একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। সামনে আসে বিরাট নাশকতার ছক। শুধু তাই নয়, তদন্তে সেই সময় উঠে আসে 'বৃহত্তর বাংলাদেশ' গড়ার লক্ষ্যেই নাকি বর্ধমানে জোড়ো হয়েছিল জঙ্গিরা। কিন্তু একটা বিস্ফোরণই গোটা ছক ভেস্তে দেয়। জেএমবির স্লিপার সেল ভাঙতে সেই সময় একেবারে কোমর বেঁধে ময়দানে নামে এসটিএফ এবং পুলিশ। শুরু হয় একের পর এক গ্রেপ্তার। বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কুখ্যাত জেএমবির শীর্ষ নেতা মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজানকে।
ধৃত বোমারু মিজানকে জেরা করে খাগড়াগড় বিস্ফোরণের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। জানা যায়, বাংলাকে কেন্দ্র করে 'বৃহত্তর বাংলাদেশ' গড়তে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি কোটি কোটি টাকা খরচ করে। আর তার সবটাই বোমারু মিজানের হাত ধরে বর্ধমানে আসে বলেও তদন্তকারীরা জানতে পারেন। এমনকী খাগড়াগড়ে ওই বাড়িতে তৈরি হওয়া বিস্ফোরক পাচারের ক্ষেত্রেও বোমারু মিজানের বড় ভূমিকা ছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে। যদিও খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর বঙ্গে জেএমবি জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেলকে সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন করে একের পর এক গ্রেপ্তারে রীতিমতো চিন্তার ভাঁজ তদন্তকারীদের কপালে। প্রশ্ন উঠছে, এবারও কি 'বৃহত্তর বাংলাদেশ' গঠনের ষড়যন্ত্রের জাল ছড়ানো হচ্ছে!
জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে অসমে জঙ্গি সন্দেহে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে এনআইএ। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ধৃত ওই যুবক জামাত-উল-মুজাহিদিনের সক্রিয় সদস্য। শুধু তাই নয়, তাঁকে জেরা করেই বাংলাদেশের এই জঙ্গি সংগঠনের মডিউল বাংলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও জানতে পারেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এমনকী বাংলার মাটিতে স্লিপার সেল তৈরি করতে বাংলাদেশের এই জঙ্গি সংগঠন কাজ করছে বলেও তদন্তে উঠে আসে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বিভিন্ন সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করে বাংলার বেশ কিছু যুবকের মগজধোলাই করা হচ্ছে। অসমে ধৃত ওই যুবককে জেরা করে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে। ধৃতের ল্যাপটপ-সহ বেশ কিছু নথি ঘেঁটেও আরও তথ্য পান। এরপরেই এদিন সকালে এনআইএ’র একাধিক টিম রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে তল্লাশি শুরু করেন। জানা গিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক নথি, মোবাইল উদ্ধার করেছে এনআইএ। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।