"সোনা পাপ্পু, রাজু নস্করের মতো অপরাধীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চালনা করতেন। বেআইনি নির্মাণ, জমি দখলের বিষয়ে সরকার সব জানত।" একথা বলে আইন মেনে সকলের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।
রবিবারও কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ চালাচ্ছে পুরসভা। কসবা বোসপুকুর অঞ্চলে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ পরিদর্শনে ঘটনাস্থলে আসেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তিনি ঘটনাস্থলে এসে পুরসভার আধিকারিক ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। কসবা থানা এলাকার ওই বেআইনি বিল্ডিংয়ের সঙ্গে সোনা পাপ্পুর নাম জড়িয়ে রয়েছে। এদিন অগ্নিমিত্রা বলেন, "যাঁরা জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণ করেছেন তাঁদের সকলের শাস্তি হবে। বিরোধী থাকার সময়ই আমরা এসব জানতাম। কিন্তু তখন আমাদের কথা পুলিশ, প্রশাসন, সরকার শোনেনি। আগের সরকার অপরাধীদের দিয়ে সরকার চালিয়েছে। সোনা পাপ্পুদের মতো অপরাধীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চালনা করতেন। সেই কারণে বিরোধীদের কথা সরকার শোনেনি।"
পাশাপাশি মন্ত্রীর অভিযোগ, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণের ঘটনা সরকার জানত না তা হতে পারে না। সবাই সব জানতেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। যাঁদের এসব দেখার দায়িত্ব ছিল তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন অগ্নিমিত্রা। ভাঙা পড়া বিল্ডিংগুলির মধ্যে অনেক ফ্ল্যাট এমনও রয়েছে যা মানুষ কিনে ফেলেছেন। এবিষয়টি পুরসভার আধিকারিকরা দেখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এই বেআইনি নির্মাণগুলি ভেঙে যে সকল জিনিসপত্র বেরবে তা রিসাইকেলের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। এখানে তৃণমূলের ক্যাডাররা ঢুকে লোহা, দরজা, জানলা বিক্রি করবে তা একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না।
উল্লেখ্য, দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতেই এগোচ্ছে শুভেন্দুর সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশিকার পর থেকেই শহরের বেআইনি নির্মাণে নজর পুরসভার। রবিবার সকালে শহরজুড়ে চলছে বুলডোজার অ্যাকশন। বেলেঘাটা, তিলজলা, কসবার বেআইনি নির্মাণ গুঁড়িয়ে দিতে অভিযানে নেমেছে পুরসভা। জমি কেলেঙ্কারিতে ধৃত কসবার সোনা পাপ্পুর এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার চলছে। এছাড়াও বেলেঘাটার রাজু নস্করের বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজও শুরু হয়েছে।
