তৃণমূল আমলে 'ব্রাত্য' কবি সুকান্ত, 'আঠারো বছর বয়স' ফেরানোর আর্জিতে শুভেন্দু সরকারকে চিঠি
Sayani Sen
তৃণমূল সরকারের আমলে সিলেবাসে ব্যাপক বদল করা হয়। সেই সময় থেকে 'ব্রাত্য' কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। তাঁর লেখা 'রবীন্দ্রনাথের প্রতি', 'আঠারো বছর বয়স' কবিতা দু'টি বাদ দেওয়া হয়েছে। কী কারণে বাদ দেওয়া হল সুকান্তর কবিতা, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। কবির জন্মশতবর্ষে তাঁর সৃষ্টি ফের সিলেবাসে ফেরানোর দাবি পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের রাজ্য কমিটির। এই মর্মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে চিঠিও পাঠিয়েছেন পবিত্র সরকাররা।
পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের রাজ্য সভাপতি পবিত্র সরকার বলেন, "সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা ছোটদের সিলেবাসে থাকবে এটা এমন কিছু বেশি চাওয়া নয়। আগের সরকার তাঁর কবিতা সিলেবাস থেকে বাদ দিয়ে অন্যায় করেছে। এখন রাজ্যে নতুন সরকার। তাই তাদের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সুকান্ত ভট্টাচার্যকে ফের সিলেবাসে ফেরানো হোক।" পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রজত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আগের সরকার যখন স্কুলের সিলেবাস থেকে সুকান্ত ভট্টাচার্যকে বাদ দিয়েছিল তখন প্রতিবাদ করেছি। সভা সমিতিতে আলোচনা করেছি। ভেবেছিলাম বিষয়টি সরকারের নজরে আসবে। তবে লিখিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। এবার কবির জন্মশতবর্ষে চিঠি দিয়ে সরকারকে জানানো হয়েছে।"
আরও পড়ুন:
বলে রাখা ভালো, গত ২০২০ সালে কেন্দ্র জাতীয় শিক্ষানীতি পাশ করেছিল। কিন্তু সেসময় রাজ্যে বিরোধী তৃণমূল সরকার থাকায় তা লাগু হয়নি। সরকারের পালাবদলের পর বাংলায় চালু হয়েছে জাতীয় শিক্ষানীতি। এই নীতি অনুযায়ী, স্কুলস্তরে সিলেবাস হবে চাকরিমুখী অর্থাৎ বাস্তবে চাকরি পেতে যে সমস্ত তথ্য জানা প্রয়োজন, তাতে জোর দেওয়া হবে সিলেবাসে। একইসঙ্গে পড়ুয়াদের চাপ যাতে বেশি না হয়, নজর দেওয়া হবে তাতেও। পরীক্ষাব্যবস্থায় সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হবে প্রতি ক্লাসে। বাংলার শিক্ষা পরিকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নতুন সিলেবাস তৈরি হবে। ওয়াকিবহাল মহলের মত, স্কুলের পাঠ্যসূচি হতে চলেছে পুরোপুরি রাষ্ট্রবাদী। মুঘল বা ইসলামিক ইতিহাসের পুরোটাই বাদ যেতে পারে। আপাতত শুধুমাত্র দু, একটি সামান্য বদল করা হতে পারে কোনও কোনও শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে। সুকান্তর কবিতাও এবার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয় কিনা, সেটাই দেখার।