Exclusive: ভাঙা তো দূর, নন্দীগ্রামে সামান্য চোটও পাননি মমতা! প্রকাশ্যে ২১-এর রিপোর্ট
Kousik Sinha
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে আদৌ পা ভেঙেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? তা নিয়ে শুরু থেকেই নানা মহলে রয়েছে বিস্তর চাপানউতোর। এরই মধ্যে শনিবার দুপুরে বিস্ফোরক দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, সেইসময় আদৌ পা ভাঙেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এমনকী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কোনও বড় চোট পাননি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রমাণ হিসাবে বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের দু'টি রিপোর্ট তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই সময়ের বাঙুরের রিপোর্টে ঠিক কী বলা হয়েছিল? সেই Exclusive রিপোর্ট সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের হাতে।
বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের 'ডিপার্টমেন্ট অফ রেডিওডায়াগোনসিসে'র রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, বুক ও বাঁ হাঁটুর সিটি স্ক্যানে বড় কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। আঘাতের পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বুকের যে এনসিসিটি (HRCT Thorax) স্ক্যান করা হয়েছিল এবং বাঁ হাঁটুর যে NCCT পরীক্ষা করা হয়, তার কোনওটিতেই হাড়ের গুরুতর কোনও চোট বা বুকের অভ্যন্তরে বড় কোনও চোটের লেশমাত্র নেই। তবে বাঁ হাঁটুতে অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা ক্ষয়জনিত বাত ধরা পড়ে ওই রিপোর্টে। তবে চিকিৎসকরা মনে করছেন, সেটা চোটের জন্য নয়, বয়সের কারণেই হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বুকের সিটি স্ক্যান রিপোর্ট অনুযায়ী বায়ু চলাচলের চিত্র একদম স্বাভাবিক। ফুসফুসের চারপাশে জমে নেই অতিরিক্ত তরল। বুকের হাড়ে সামান্য ক্ষয়জনিত পরিবর্তন রয়েছে, তবে কোনও হাড় ভাঙা বা আঘাতের চিহ্নমাত্র নেই।
আরও পড়ুন:
প্রকাশ্যে আসা রিপোর্টে আরও দেখা যাচ্ছে, বুকের দেওয়ালের নরম টিস্যুতে কোনও রক্তজমাট বাঁধার (হেমাটোমা) চিহ্ন নেই। পেটের যে অংশ স্ক্যান করা হয়, সেখানে আগের গলব্লাডার অপারেশনের 'ক্লিপ' দেখা যাচ্ছে। ছবিতে আরও দেখা যাচ্ছে, পাকস্থলীর ফান্ডাসের পিছনের দিকে দেওয়ালের কাছে একটি ছোট ক্যালসিয়াম জমাট বেঁধে রয়েছে।
বাঁ হাঁটুর সিটি স্ক্যানের যে রিপোর্ট সামনে এসেছে সেখানে স্পষ্ট যে হাঁটুর প্রধান দুই জয়েন্টের সংযোগ দিব্যি বহাল আছে। হাড় ভাঙা বা জয়েন্ট সরে যাওয়ার বিন্দুমাত্র প্রমাণ নেই। হাঁটুর হাড়ের প্রান্তে হাড়ের অতিরিক্ত বৃদ্ধির প্রমাণ সামনে এলেও সেটা চোট লাগার জন্য নয়। বয়সজনিত কারণে হাঁটুর সামনের অংশের জয়েন্টের ফাঁক কমে গিয়েছে। কিন্তু হাঁটুর স্ক্যানে কোনও সন্দেহজনক হাড়ের ক্ষত পাওয়া যায়নি। উল্লেখযোগ্য, হাঁটুর সংযোগস্থলে বা জয়েন্টে অতিরিক্ত তরলও জমে নেই। আশপাশের নরম টিস্যু একদম স্বাভাবিক ছিল।
অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরসের সম্পাদক বিশিষ্ট অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রিপোর্টে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা হল, ওঁর হাঁটুতে বয়সজনিত কারণে হাড়ের ক্ষয় ছাড়া আর কোনও সমস্যা নেই।”
যদিও এই প্রসঙ্গে পালটা মুখ খুলেছেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বেলেঘাটার বিধায়ক সোশাল মিডিয়ায় লিখছেন, ‘মমতাদির পায়ের জখম নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনীতি দুর্ভাগ্যজনক ও রুচিহীন। কারও ব্যক্তিগত জখম নিয়ে কুৎসা ও অপপ্রচার আপত্তিকর। মমতাদির পায়ের জখম ছিল এবং সংশ্লিষ্ট ডাক্তাররা তার সাক্ষী। যে সংস্থায় যাঁরা চিকিৎসা করেছিলেন, তাঁরা জানেন। এখন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন হাতে আছে বলে যে কোনও বিকৃত প্রচার করা ঠিক নয়।’
তিনি আরও লিখছেন, "শুভেন্দুর বোঝা উচিত, ভাঙলে তবু জোড়ে বা সারে। কিন্তু নরম টিস্যু, মাসল আর হাড়ের উপর গভীর আঘাত সারা কঠিন। এখনও মমতাদির পায়ে ফোলা অংশ স্বাভাবিক নয়। আমি যতদূর জানি, পুরো সারেনি। তা নিয়ে উপনির্বাচনের আগে এই কুৎসিত রাজনীতি আপত্তিকর, নিন্দনীয়। মমতাদিকেই যে বিজেপি আসল প্রতিপক্ষ ভাবে এবং তাদের শয়নে, স্বপনে, জাগরণে মমতাদিকেই দেখে, সেটা আবার প্রমাণিত। তাছাড়া চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠানের কখনও কারও ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য বাইরে আনার রীতি নেই, সরকার সেটাও যেন মনে রাখে। রাজনীতিকে আর কত নিচে নামাবে এরা? মমতাদির পায়ের সেই ভয়ংকর আঘাত নিয়ে নোংরামি চূড়ান্ত আপত্তিকর।"