অবৈধ দোকান উচ্ছেদে বেসরকারি জেসিবি ব্যবহার, বুলডোজার-কাণ্ডে রাজ্যকে কী বার্তা হাই কোর্টের?
Sucheta Sengupta
বেআইনি দোকানদারদের উচ্ছেদ নিয়ে আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়ল রাজ্য সরকার। দোকান উচ্ছেদে বেসরকারি ব্যক্তিদের জেসিবি কেন ব্যবহার করা হচ্ছে? এই প্রশ্ন তুললেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তাঁর সাফ কথা, যদি দোকানদাররা অবৈধভাবে দখল করেও থাকেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এ প্রসঙ্গে পুলিশের ভূমিকারও সমালোচনা শোনা গেল বিচারপতির গলায়।
ফুটপাথ কিংবা অন্যত্র জায়গা দখল করে দোকানগুলির ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। বেআইনি দোকান উচ্ছেদ অভিযান চলছে। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এসব দোকান ভাঙা বা তুলে দেওয়া যাবে না। এনিয়ে হাই কোর্টে মামলায় স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়, পুজো পর্যন্ত কোনও উচ্ছেদ হবে না। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর এজলাসে মামলার শুনানিতে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য। তিনি আদালতকে জানান, যে দোকানদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল, প্রশাসন পরে তাঁদের আবার দোকানে ফিরিয়ে দিয়েছে অর্থাৎ পুনর্বাসন হয়েছে।
আরও পড়ুন:
শুনানিতে বিচারপতি একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তাতে দোকানদারকে হয়রান করতে দোকানের সামনে বড় গর্ত খুঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর স্পষ্ট প্রশ্ন, ‘‘কী হচ্ছে এটা? ওরা জেসিবি ব্যবহার করেছে।" এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, ভুল শুধরে নেওয়া হয়েছে। এরপর আদালত জানায়, যদি দোকানদাররা অবৈধভাবে দখল করেও থাকেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু শুধুমাত্র শাসন বদলের কারণে কোনও বেসরকারি ব্যক্তি নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারেন না। বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বেসরকারি সংস্থার লোকজন যখন উচ্ছেদ চালাচ্ছিল, তখন পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। আদালত ফের স্পষ্ট করে দেয়, এই মামলায় কোনও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়াই দোকানদারকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল, যা ঠিক হয়নি। সবমিলিয়ে, উচ্ছেদ ইস্যুতে আদালতে বেশ পিছু হঠল রাজ্য সরকারকে।