দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Calcutta High Court

সোশাল মিডিয়ায় জাত তুলে গালি, তফসিলি জাতি-উপজাতি আইনে বিচার হবে, রায় কলকাতা হাই কোর্টের

তফসিলি সম্প্রদায়ভুক্ত অভিযোগকারী রবিউল ইসলাম বুলবুল ও সায়ন দত্ত নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, এই দুই ব্যক্তি ফেসবুকে তাঁর জাতি, ধর্ম, এমনকী পরিবার তুলে অত্যন্ত অশ্লীল ও অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। তিনি সেই পোস্টের স্ক্রিনশট-সহ বেহালা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
Subhankar Patra
09:05 PM Oct 02, 2026 IST
তফসিলি সম্প্রদায়ভুক্ত অভিযোগকারী রবিউল ইসলাম বুলবুল ও সায়ন দত্ত নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, এই দুই ব্যক্তি ফেসবুকে তাঁর জাতি, ধর্ম, এমনকী পরিবার তুলে অত্যন্ত অশ্লীল ও অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। তিনি সেই পোস্টের স্ক্রিনশট-সহ বেহালা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
কলকাতা হাই কোর্ট। ফাইল ছবি

‘জনসমক্ষে অপমান’ বলতে শুধু রাস্তাঘাট বা হাট-বাজারে অপমান বোঝায় না। সোশাল মিডিয়ায় জাত তুলে গালাগালিও এসসি-এসটি অ্যাক্ট বা তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের আওতায় পড়ে। সংশ্লিষ্ট আইনে পদক্ষেপ নেওয়া যায় বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিচারপতি উদয় কুমার। সোশাল মিডিয়ায় জাত তুলে অপমান নিয়ে এক ব্যক্তির আনা মামলায় এমনই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট।

তফসিলি সম্প্রদায়ভুক্ত অভিযোগকারী রবিউল ইসলাম বুলবুল ও সায়ন দত্ত নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, এই দুই ব্যক্তি ফেসবুকে তাঁর জাতি, ধর্ম, এমনকী পরিবার তুলে অত্যন্ত অশ্লীল ও অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। তিনি সেই পোস্টের স্ক্রিনশট-সহ বেহালা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। ২০২২ সালে বেহালা থানায় মামলা রুজু হয়। পরে আলিপুরের স্পেশাল কোর্টে মামলা। পুলিশ তদন্তে অভিযোগকারীর গোপন জবানবন্দি, সাক্ষীদের বয়ান ও ফেসবুক লিঙ্ক খতিয়ে দেখে। কিন্তু ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি পুলিশ আদালতে ‘নিল’ বা ‘কোনও সূত্র মেলেনি’ বলে ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেয়।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

পুলিশের যুক্তি ছিল, কলকাতা সাইবার থানার মাধ্যমে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে ইউজারের তথ্য চাওয়া হলেও তারা তথ্য দেয়নি। অভিযোগকারী এই রিপোর্টের বিরুদ্ধে আবেদন করেন। কিন্তু আলিপুরের স্পেশাল কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে পুলিশের রিপোর্টই মেনে নেয়। স্পেশাল কোর্টের যুক্তি ছিল, একই অভিযোগকারী আগেও তিনটি মামলা করেছেন যেখানে চার্জশিট জমা পড়েছে, তাই এই মামলায় পুলিশ যখন ‘নিল’ বলছে, তখন তা মেনে নেওয়া উচিত।

নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন আবেদনকারী। সেই মামলাতেই পুলিশের দেওয়া রিপোর্ট খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি উদয় কুমার। আদালত জানিয়েছে, ‘কোনও তথ্য মেলেনি’ বলে পুলিশ যে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছিল, তা গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি, সাইবার-ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

আইনজীবী মহলের একাংশের মতে, এসসি-এসটি অ্যাক্ট অর্থাৎ তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯ হল প্রান্তিক জাতি ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অপরাধ ও সহিংসতা বন্ধ করার জন্য তৈরি। সেক্ষেত্রে আইনের ৩(১)(আর) ও ৩(১)(এস) ধারায় ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান বা ভয় দেখিয়ে জনসমক্ষে 'হেয়' করা হলে ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। ৩(২)(ভি) ধারায় তফসিলি জাতি উপজাতির ব্যক্তিকে অপমান করার অপরাধে শাস্তি ১০ বছর বা তার বেশি, এমনকী আজীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। 

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Calcutta High Court
Advertisement
Tags :
Calcutta High Court

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন