৬ মাসের শিশুর প্রাণ বাঁচাতে প্রয়োজন ১৭ কোটি! জনতার দরবারে 'ত্রাতা' হয়ে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
Subhankar Patra
মারণ রোগে আক্রান্ত ৬ মাসের শিশু। একমাত্র পথ জিন থেরাপি। ইনজেকশন আনতে হবে আমেরিকা থেকে। যার দাম ১৭ কোটি টাকা। পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব। মঙ্গলবার অসহায় মা-বাবা হাজির মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে। তাতে মিলেছে আশ্বাস। সরকারের তরফে যতটা সম্ভব সাহায্য করার তা করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের আধিকারিক গৌতম দাস নিজের এক মাসের বেতন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সবার কাছে যথা সম্ভব সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন শিশুটির বাবা-মা। তাঁদের আবেদন সবাই এগিয়ে এলে ছেলের জীবন বাঁচাতে পারবেন।
দম্পতি বেলঘরিয়ার বাসিন্দা। তাঁদের ৬ মাসের শিশুপুত্র স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি (SMA) টাইপ-১ রোগে আক্রান্ত। বয়স অনুযায়ী তার ঘাড় শক্ত হয়নি। সমবয়সি অন্য শিশুরা এই সময় হাত-পা না নাড়িয়ে যে ভাবে খেলে তা পারে না ছোট্ট পিয়ল। এই রোগে মেরুদণ্ডের স্নায়ুকোষ (মোটর নিউরন) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে হাত, পা, ঘাড় নড়াচড়া করার পেশি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়। ধীরে ধীরে শুকিয়েও যায়। ৩ মাস বয়সে পিয়লের এই রোগ ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানান, জিন থেরাপির এই ঔষুধ আনতে হবে সুদূর আমেরিকা থেকে। ভারতীয় মুদ্রায় সেই ওষুধের দাম ১৭ কোটি টাকা। বর্তমানে পিয়ারলেস হাসপাতালে ডাঃ সংযুক্তা দে-র অধীনে শিশুর চিকিৎসা চলছে।
আরও পড়ুন:
শিশুটির পরিবার জানাচ্ছে, শিশুপুত্র প্রথমে হাত-পা নাড়াতে না পারায় তাঁদের সন্দেহ হয়। চিকিৎসকের কাছে গেলে তাঁদের একাধিক টেস্ট করাতে বলা হয়। রিপোর্টে দেখা যায় মারণ স্নায়ু রোগে আক্রান্ত ছোট্ট পিয়ল। চিকিৎসা বাবদ খরচের হিসাব শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে পরিবারের! কিন্তু শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত নিজের সন্তানকে বাঁচানোর পুরো চেষ্টা করছেন দম্পতি। সেই আশা নিয়ে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে আসেন তাঁরা।
শিশুপুত্রের মা বলেন, "জটিল রোগে আক্রান্ত আমার ছেলে। চিকিৎসার জন্য যে অর্থ প্রয়োজন তা আমাদের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসেছি। উনি সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।" অসহায় বাবা জানান, "আমেরিকা থেকে ইনজেকশন আনতে হবে। প্রয়োজন ১৭ কোটি টাকা। সাধারণ পরিবারের পক্ষে তা জোগাড় করা সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। সকলের কাছে অনুরোধ আপনারা এগিয়ে এসে সাহায্য করলে সন্তানের জীবন বাঁচাতে পারব।"