Advertisement

কোভিডের থাবাতেও থমকে নেই কাজ, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর টানেল খোঁড়া শেষ হবে চলতি সপ্তাহেই

09:11 PM May 13, 2021 |
Advertisement
Advertisement

নব্যেন্দু হাজরা: প্রতীক্ষার অবসান। রবিবার সকালে সম্পূর্ণ হচ্ছে হাওড়া ময়দান থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত দু’দিকের সুড়ঙ্গ খননের কাজ। ফলে গঙ্গার তলা দিয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো ছোটার পথে একটা বড় কাজ শেষ এই সপ্তাহেই। ঠিক চার মাসের মাথাতেই শিয়ালদহ থেকে বউবাজার এই ৮০০ মিটার সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ শেষ করছে টানেল বোরিং বেশি (TBM) ঊর্বী। শনিবার রাতের মধ্যেই এই টিবিএম বউবাজার দুর্গাপিথুরি লেনের নিচের ডায়াফ্রাম ওয়াল পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। আর রবিবার সকালে ডায়াফ্রাম ওয়াল ভেঙে সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ শেষ করে ফেলবে। বউবাজারের ওই স্থানে ৩৮ মিটার লম্বা একটি চৌবাচ্চার মতো তৈরি করা হয়েছে, যা চওড়ায় প্রায় ১০ মিটার। এর পাশ দিয়ে লোহার পিলারের একটা দেওয়াল তৈরি করা হয়েছে। সেই দেওয়ালের পিলার ভেদ করে সপ্তাহের শেষেই এসে পৌঁছবে ঊর্বী। 

Advertisement

২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট। বউবাজারের দুর্গাপিথুরি লেনের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময়ই বিস্তীর্ণ এলাকায় ধসের কারণ হয়েছিল ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর (East-West Metro) সুড়ঙ্গ খননকারী যন্ত্র ‘চণ্ডী’। কিছুক্ষণের মধ্যে একের পর এক বাড়িতে ধস নামতে থাকে। আতঙ্কে সর্বস্ব খুইয়ে প্রাণ ভয়ে ছুটোছুটি করতে থাকেন এলাকার বাসিন্দারা। শেষ পর্যন্ত গোটা এলাকার মোট ৭৪টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ধাক্কা খায় ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের কাজ। প্রশ্ন উঠে যায় প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়ে। যে যন্ত্র সুড়ঙ্গ কাটার সময় ধস নেমেছিল বউবাজারে, সেই যন্ত্র মাটির নীচেই আটকা পড়ে। জোড়া সুড়ঙ্গের অন্য টিবিএম ঊর্বীকে প্রথমে বউবাজার থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে ফের বউবাজারের দিকে ফিরিয়ে আনার তোড়জোড় শুরু হয়।

[আরও পড়ুন: করোনায় মৃত্যু, নিজের দেহই দান করা হল না মরণোত্তর দেহদানের পথিকৃৎ ব্রজ রায়ের]

২০২০-র ডিসেম্বরের শেষে শিয়ালদহের (Sealdah) দিক থেকে ফের বউবাজারের দিকে সুড়ঙ্গ খননের কাজ শুরু করে ঊর্বী। অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে ধীরেই মাটি কাটতে কাটতে এগোয় এই টিবিএমটি। কেএমআরসিএল কর্তারা জানন, শিয়ালদহ থেকে বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট বরাবর বউবাজারের (Bow Bazar) দিকে এগোলে সুড়ঙ্গের উপরেই পর পর বহু পুরনো বাড়ি রয়েছে। তাছাড়া বউবাজারে আর একটি টিবিএম ‘চণ্ডী’ রাখা আছে। ঊর্বী গন্তব্যে পৌঁছালে চণ্ডীকে তোলা হবে। আর তা করতে হবে অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে। তবে সুড়ঙ্গ নির্মাণের দায়িত্বে থাকা বহুজাতিক সংস্থা আইটিডির আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, তা হবে করোনা পরিস্থিতি কেটে গেলে। একে তোলার জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিশাল শাফট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্প নির্মাণকারী সংস্থা আইটিডির অপারেশনস হেড রূপক সরকার বলেন, “শনিবার রাত অথবা রবিবার সকালে শিয়ালদহ থেকে বউবাজার পর্যন্ত সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ পুরোপুরি শেষ হবে।ডায়াফ্রাম ওয়াল ভেঙে বেরবে ঊর্বী।”

[আরও পড়ুন: খাস কলকাতায় রেমডেসিভিরের কালোবাজারি, ধৃত ৩, উদ্ধার প্রচুর ওষুধ]

Advertisement
Next