shono
Advertisement

Breaking News

Kalyan Banerjee

কীসের খোঁজে কালীঘাটের তৃণমূল দপ্তরে তল্লাশি সিআইডির? মমতার বাড়িতে ঢুকে 'নাটক' কল্যাণের 

মমতার বাড়ির বাইরে বসে কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 05:46 PM Jun 09, 2026Updated: 06:22 PM Jun 09, 2026

সই জাল কাণ্ডে কালীঘাটে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূলের মূল কার্যালয়ে সিআইডি তল্লাশির মাঝে চূড়ান্ত 'নাটক' তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায়ের। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম জড়িয়ে সিআইডি আধিকারিকদের অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। মেজাজ হারান সংবাদমাধ্যমের উপরও। এদিকে মমতার বাড়ির বাইরে বসে কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র। অর্থাৎ এই কঠিন পরিস্থিতিতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই পুরনো ৩ নেতাই। সূত্রের খবর, বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নামে যে প্রস্তাবনাপত্রের সই নিয়ে যাবতীয় বিতর্ক, সেটির কপি খুঁজতেই নাকি ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের তৃণমূল কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় সিআইডি। যদিও ঘণ্টাখানেকের তল্লাশিতে কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি বলেই খবর। 

Advertisement

 

মঙ্গলবার দুপুরে ঘড়ির কাঁটায় ৩ টে বেজে ১৫ মিনিট নাগাদ ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট অর্থাৎ তৃণমূলের সেন্ট্রাল পার্টি অফিসে পৌঁছন সিআইডি আধিকারিকরা। মহিলা টিম ঘিরে ফেলে কার্যালয়ের গেট। ঘটনাস্থলে পৌঁছন কালীঘাট ও ভবানীপুর থানার বিশাল পুলিশ টিম ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। সিআইডির তরফে জানানো হয়, সই জাল কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে চান তাঁরা। সঙ্গে ছিল সার্চ ওয়ারেন্টও। এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে। আপাতত কার্যালয়ের দায়িত্বে দলের কোষাধ্যক্ষ তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিষ চক্রবর্তী। তিনি পেশায় আইনজীবী। এদিন দলনেত্রী ও অভিষেক না থাকায় সিআইডির মুখোমুখি হন শুভাশিষই। সাফ জানান, তিনি তল্লাশির অনুমতি দিতে পারবেন না। সিআইডির সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান তিনি। যদিও তাতে লাভ হয়নি। ঘণ্টাখানেকের টানাপোড়েনের পর কার্যালয়ে ঢোকেন আধিকারিকরা। শুরু করেন তল্লাশি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ-মদন মিত্র। দিল্লি থেকে ফেরার পথে বিমানবন্দরে নেমে তল্লাশির খবর পেয়েই কালীঘাটে পৌঁছে যান কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্যায়। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ পেরিয়ে ঢুকে পড়েন মমতার বাড়ির উঠোনে। সেখান থেকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করেন সিআইডি আধিকারিকদের। নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও।

৯ জুন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি। ছবি-ব্রতীন কুণ্ডু

ঘটনার সূত্রপাত কিছুদিন আগে। নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নামের প্রস্তাবপত্র চেয়েছিলেন বিধানসভার সচিব। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নামে সম্মতি জানিয়ে ৭০ বিধায়কের সই করা যে প্রস্তাবনা পত্র জমা পড়েছিল তা নিয়েই যাবতীয় বিতর্ক। সই না মেলায় সন্দেহ হয় বিধানসভার সচিবের। এরপর প্রকাশ্যে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। 'বিদ্রোহী' বিধায়করা দাবি করেন, তাঁরা সই করেননি। অর্থাৎ সই জাল করার অভিযোগ ওঠে। জল গড়ায় সিআইডি পর্যন্ত। সিআইডির দাবি, পরবর্তীতে চিঠিতে অভিষেক জানিয়েছিলেন কালীঘাটের কার্যালয়েই বিতর্কিত প্রস্তাবনা পত্রে সই করা হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, যেখানে সই সংগ্রহ করা হয়েছে, সেখানে রেজোলিউশনের কপি থাকার কথা। সেটির খোঁজেই এদিনের তল্লাশি। তা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ। তাঁর কথায়, "যেখানে মিটিং হয়েছে, সেখানে রেজোলিউশন কপি থাকবে তার কোনও অর্থ নেই। সিআইডি কিছুই জানে না, সেই কারণেই তল্লাশির নামে হেনস্তা।" তল্লাশি অভিযান শেষে এদিন সওয়া ৬ টা নাগাদ সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিষ চক্রবর্তী। তিনি জানান, কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement