ঘরের বদলে ঘরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সময়সীমা পেরিয়েছে। কিন্তু মেলেনি সরকারি ঘর। কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও লাভ হয়নি। তার পরিপ্রেক্ষিতেই রবিবার রাতে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন উত্তেজিত জনতা। দীর্ঘক্ষণ ধরে বেলেঘাটার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যালয়ে আটকে কুণাল। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাঁর বক্তব্য, "এই বিষয়টা কেএমডিএ-র আওতাধীন। আমি অভিযোগ পেয়েই ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা আসবেন বলে কথা দিয়েছেন।"
জানা গিয়েছে, বেলেঘাটায় ভগ্নপ্রায় আবাসনের পরিবর্তে সেখানকার বাসিন্দাদের নতুন ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তীর তরফে। কয়েকটি পরিবার ঘরের চাবি পেয়েছেন। বাকিদের জানুয়ারিতে ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। পরবর্তীতে বলা হয়, ভোট মিটলে ঘর মিলবে। কিন্তু তা মেলেনি বলেই দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের অভিযোগ, একাধিকবার কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও লাভ হয়নি। রবিবার এলাকার পার্টি অফিসে বিধায়ককে দেখা মাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। বাড়ির দাবিতে কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে কুণাল ঘোষকে ঘিরে ধরেন তাঁরা। একাংশ বাইরে জমায়েত করে। ওঠে জয় শ্রীরাম স্লোগান। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনও কার্যালয়ে আটকে কুণাল। ক্রমশ বাড়ছে উত্তেজনার পারদ।
এপ্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, "এটা কেএমডিএ'র প্রজেক্ট। ঘরের পরিবর্তে ঘর দেওয়ার কথা ছিল শুনছি। ২ টি টাওয়ার ইতিমধ্যেই হয়েছে। কিছু লোক ঘরে ঢুকে গিয়েছে। কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এখনও কিছু কাজ বাকি। ওনারা ওনাদের দাবি জানাচ্ছেন, কেউ স্লোগান তুলছেন, ওটা গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে এখানে তো আমার কিছু করার নেই। আমি ইতিমধ্যেই কেএমডিএ'র ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ওরা আগামিকাল আসবে বলে জানিয়েছে।" এপ্রসঙ্গে অভিযুক্ত কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তী বলেন, "কেএমডি বাড়ি করছে। কিছু লোক ফ্ল্যাট পেয়েছে। বাকিটা জুনের মধ্যে তৈরি হওয়ার কথা। ওনারা এখন অশান্তি করলে আমরা কী করতে পারি। কাজের সময়টা তো দিতে হবে।"
