মমতা-অভিষেকের লড়াই? ‘সব মিডিয়ার খেলা’, ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেত্রী

03:46 PM Sep 08, 2022 |
Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: তৃণমূলের (TMC) অন্দরে নবীন-প্রবীণের দ্বন্দ্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিস্তর কাটাছেঁড়া করছে বিরোধীরা। তবে তা যে ভিত্তিহীন, নেতাজি ইন্ডোরের সাংগঠনিক সভা থেকে যেন তেমনটাই স্পষ্ট করে দিতে চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই কাটাছেঁড়ার জন্য দুষলেন সংবাদ মাধ্যমকে। দাবি করলেন, কোন্দলের সমস্ত খবরই মিডিয়ার খেলা। পাশাপাশি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) প্রশংসা করলেন তিনি। বললেন, “অভিষেক বরাবরই ভাল বলে।”

Advertisement

তৃণমূলের রাশ থাকবে কার হাতে, তা নিয়ে নাকি তৃণমূলের অন্দরে প্রবল অশান্তি চলছে। বারবার বিভিন্ন ইস্যুতে এমনটাই দাবি করে বিরোধী দলগুলি। এও দাবি করা হয়, নেতাদের একাংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ, একদল নাকি অভিষেক ঘনিষ্ঠ। আর এই দুই দলের মধ্যে কোন্দলের তত্ত্বও বারবার তুলে ধরে বাম-বিজেপি। এই আলোচনা-জল্পনা যে একেবারেই ভিত্তিহীন, তা বারবারই নিজের মন্তব্যে তুলে ধরতে চেয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বারবার তিনি বলেছেন, তৃণমূলের একজনই নেত্রী, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বাকি প্রত্যেকে কর্মী, নেত্রীর সৈনিক। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকেও বারবার নেত্রীর অনুগত কর্মী বলেই দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বুঝিয়ে দিলেন, দ্বন্দ্ব নয়, মতবিরোধ থাকলেও একসঙ্গে জোট বেঁধে মানুষের জন্য কাজ করছেন তৃণমূল পরিবারের প্রত্যেকে।

[আরও পড়ুন: পশ্চিম মেদিনীপুুরে গণধর্ষণের তদন্তে পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হাই কোর্ট, তদন্তভার যেতে পারে CID’র হাতে]

এদিন পঞ্চায়েত ভোটের আগে দলীয় অনুশাসন ও শৃঙ্খলা নিয়ে নেতাজি ইন্ডোরে দলের সাংগঠনিক সভার আয়োজন করা হয়েছিল তৃণমূলের তরফে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সি-সহ ছিলেন দলের নেতা, বিধায়ক, সাংসদ, মন্ত্রীরা। এদিনও স্বমেজাজে বক্তব্য রাখেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক হয়ে কাজ করার ডাক দেন। এরপরই অভিষেকের ভূয়সী প্রশংসা করেন মমতা। বলেন, “অভিষেক বরাবরই ডেয়ারডেভিল, ভাল বলে।” এতে কার্যত অনেকটাই স্পষ্ট মমতা-অভিষেকের সম্পর্ক। তবে শুধু নিজেদের কথা নয়, শতাব্দী রায়-অনুব্রত মণ্ডল-সহ যে সকল নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের নিয়েও মুখ খোলেন দলনেত্রী। বলেন, “মিডিয়ার অনেকে আছে যারা তৃণমূলের গন্ধ শুঁকতে ব্যস্ত। শকুনির মতো বসে আছে। এর সঙ্গে ওকে লাগাচ্ছে। শতাব্দীর সঙ্গে কেষ্টকে লাগাছে। আমার সঙ্গে অভিষেককে লাগছে।” এরপরই তিনি কড়া ভাবে বলেন, “এ ভাগাভাগি হওয়ার নয়।”

Advertising
Advertising

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার বুকে বেশ কিছু পোস্টার পড়েছিল। সেখানে নতুন তৃণমূল তৈরির ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই পোস্টারে শুধু মাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল, যা বিতর্ক তৈরি করেছিল। বিরোধীরা দাবি করছিলেন, দলনেত্রীকে সরিয়ে সামনে আসতে চাইছেন অভিষেক। যদিও পরবর্তীতে সেই পোস্টার সরিয়ে দেওয়া হয়।

[আরও পড়ুন: ‘নেতাজির মূর্তি উন্মোচনে যথাযথভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি’, কেন্দ্রকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর]

Advertisement
Next