shono
Advertisement
Dilip Ghosh

৫ বছর পরও প্রাসঙ্গিক 'রগড়ে দেব' বিতর্ক, সূত্রপাত হয়েছিল 'সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল'-এর সাক্ষাৎকারেই

রাজ্য বিজেপির তৎকালীন সভাপতির ওই মন্তব্যের অভিঘাত এতটাই বেশি ছিল যে নির্বাচনে সেটি বড়সড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। সম্ভবত সেকারণেই ভোটের পর পরমব্রত 'বিশ্ব রগড়ানি দিবস' শব্দবন্ধটি আমদানি করেন।
Published By: Subhajit MandalPosted: 03:52 PM May 24, 2026Updated: 04:32 PM May 24, 2026

রাজ্যে পালাবদলের পর বড়সড় বিপাকে পড়েছেন টলিউড অভিনেতা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সমাজমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট করার অভিযোগে গড়িয়াহাট থানায় দুই তারকার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। বাংলার দুই প্রথম সারির অভিনেতা এখন রীতিমতো বিতর্কে।

Advertisement

আসলে ২০২১ ভোটের ফলপ্রকাশের পর সোশাল মিডিয়ায় পরমব্রত একটি পোস্ট করেছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস জাদুসংখ্যা ছুঁতেই পরমব্রত সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, 'আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষিত হোক।' অভিনেত্রী স্বস্তিকা উসকানির পালে হাওয়া দিয়ে পালটা লেখেন, 'হাহাহা হোক হোক!' অভিযোগকারীর মতে, এই ধরনের মন্তব্য কার্যত রাজনৈতিক হিংসাকে বাড়িয়ে তোলে। ভোট পরবর্তী উত্তপ্ত পরিবেশে সমাজমাধ্যমে উসকানিমূলক মন্তব্য পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। অভিযোগকারীর অভিনেতা-অভিনেত্রীর এই ধরনের পোস্ট এবং মন্তব্য ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় অপরাধ হিসাবে গণ্য হতে পারে। এই নিয়ে আইনি লড়াই-বিতর্ক চলছে, চলবে।

কিন্তু প্রশ্ন হল, পরমব্রত একুশের ভোটে তৃণমূলের জয়ের দিনটিকে আচমকা 'রগড়ানি দিবস' হিসাবে বর্ণনা করে দিয়েছিলেন কেন? আসলে একুশের নির্বাচনের অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে গিয়েছিল বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের একটি মন্তব্য। ভোটের প্রচারপর্বে সেই মন্তব্যটি দিলীপ করেন ‘সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। আমাদের সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, "বুদ্ধিজীবীরা সমাজের বোঝা।" নির্বাচন উপলক্ষে‌ বিজেপি বিরোধী একটি গান প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে তাঁর জবাব ছিল, ‘‘আমি শিল্পীদের বলেছি, আপনারা গান গান, নাচুন। ওটা আপনাদের শোভা পায়। রাজনীতি করতে আসবেন না। ওটা আমাদের জন্য ছেড়ে দিন। নাহলে রগড়ে দেব। আর শিল্পীরা জানেন, আমি কীভাবে রগড়াই।’’ তাঁর এই মন্তব্যের পরই শিল্পীমহলে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় বিতর্ক। সোশ‌্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই মন্তব‌্যের সমালোচনা করেন। তৃণমূল বা বামমনস্ক শিল্পীরা তো বটেই- তৎকালীন বিজেপি পন্থী অনেক অভিনেতা-শিল্পীও দিলীপের মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন। লকেট চট্টোপাধ্যায়, বনি সেনগুপ্ত, যশ দাশগুপ্ত, রুপাঞ্জনা মৈত্রদের মতো একঝাঁক সেলেব সেসময় বিজেপিতে। তবে একমাত্র রুদ্রনীল ঘোষ ছাড়া বিজেপির কোনও সেলিব্রিটিও দিলীপের পাশে দাঁড়াননি।

সোশ‌্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই মন্তব‌্যের সমালোচনা করেন। তৃণমূল বা বামমনস্ক শিল্পীরা তো বটেই- তৎকালীন বিজেপি পন্থী অনেক অভিনেতা-শিল্পীও দিলীপের মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন। লকেট চট্টোপাধ্যায়, বনি সেনগুপ্ত, যশ দাশগুপ্ত, রুপাঞ্জনা মৈত্রদের মতো একঝাঁক সেলেব সেসময় বিজেপিতে। তবে একমাত্র রুদ্রনীল ঘোষ ছাড়া বিজেপির কোনও সেলিব্রিটিও দিলীপের পাশে দাঁড়াননি।

রাজ্য বিজেপির তৎকালীন সভাপতির ওই মন্তব্যের অভিঘাত এতটাই বেশি ছিল যে নির্বাচনে সেটি বড়সড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। সম্ভবত সেকারণেই ভোটের পর পরমব্রত 'বিশ্ব রগড়ানি দিবস' শব্দবন্ধটি আমদানি করেন। আজ পাঁচ বছর বাদে সেই মন্তব্যই বিপাকে ফেলছে তাঁকে। সেই সঙ্গে স্বস্তিকার মতো সেলেব-যারা সেসময় পরমকে সমর্থন করেছিলেন-তারাও আজ বিপাকে। অর্থাৎ পাঁচ বছর আগে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে দেওয়া দিলীপ ঘোষের সাক্ষাৎকারে করা ছোট্ট একটি মন্তব্য, আজও রাজ্য রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক।

দেখুন ভিডিও। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement