দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Kolkata Police

গভীর রাতে আবাসনের সুইমিং পুলে ছাত্রীর দেহ! 'খুন' নাকি অন্য কিছু? তদন্তে পুলিশ

গভীর রাতে বহুতল অভিজাত আবাসনের সুইমিং পুলে কিশোরী দেহ! শহরের নামি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে রহস‌্য। আবাসনের আটতলা থেকে উদ্ধার হল তার মোবাইল।
Suhrid Das
12:18 AM Sep 08, 2026 IST
গভীর রাতে বহুতল অভিজাত আবাসনের সুইমিং পুলে কিশোরী দেহ! শহরের নামি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে রহস‌্য। আবাসনের আটতলা থেকে উদ্ধার হল তার মোবাইল।
এআই দ্বারা নির্মিত ছবি।

গভীর রাতে বহুতল অভিজাত আবাসনের সুইমিং পুলে কিশোরী দেহ! শহরের নামি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে রহস‌্য। আবাসনের আটতলা থেকে উদ্ধার হল তার মোবাইল। পুলিশের মতে, আটতলা থেকে ঝাঁপের পর ছয়তলার একটি বারান্দায় ধাক্কা খায় সে। এরপর সরাসরি গিয়ে পড়ে সুইমিং পুলে, তারপরই মৃত্যু হয়! পড়াশোনা নিয়ে চাপ অথবা মা-বাবার বিচ্ছেদের কারণে হতাশায় 'আত্মহত‌্যা'? নাকি মৃত্যুর পিছনে রয়েছে অন‌্য কোনও রহস‌্য? পুলিশ শুরু করেছে তদন্ত। ঘটনাটি খাস দক্ষিণ কলকাতার।

ওই ছাত্রীর মা পূর্ব যাদবপুর থানায় রবিবার আত্মহত‌্যার প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, আত্মহত‌্যার প্ররোচনার অভিযোগ তিনি দায়ের করেছেন ঠিকই। তবে মেয়ের মৃত্যুতে 'খুন' বা অন‌্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা, তাও যেন খতিয়ে দেখা হয়। ঘটনাটি দিন কয়েক আগে দক্ষিণ কলকাতার এক অভিজাত আবাসনের। পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি রাত দেড়টা নাগাদ ইএম বাইপাসের ধারেই ওই অভিজাত আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীরা সুইমিং পুলে জোরে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে ছুটে যান। তাঁরা ১৫ বছর বয়সের ওই কিশোরীকে জলের ভিতর পড়ে থাকতে দেখেছিলেন।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

তদন্ত শুরু করে পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশ। সেই তদন্তেই বেরতে থাকে একের পর এক তথ্য। মৃত্যুরহস্যের মোড় ঘোরে ওই আবাসনের আটতলায়। সেখানে ফায়ার এক্সিট ব‌্যালকনি থেকে উদ্ধার হয় ওই ছাত্রীর মোবাইল। অথচ ৬ তলার বাসিন্দা ছিল সে।

জল থেকে তুলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছিল আগেই ওই কিশোরী মারা গিয়েছে। সেটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু? সেই তদন্ত শুরু করে পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশ। সেই তদন্তেই বেরতে থাকে একের পর এক তথ্য। মৃত্যুরহস্যের মোড় ঘোরে ওই আবাসনের আটতলায়। সেখানে ফায়ার এক্সিট ব‌্যালকনি থেকে উদ্ধার হয় ওই ছাত্রীর মোবাইল। অথচ ৬ তলার বাসিন্দা ছিল সে।

ময়নাতদন্তের পর পুলিশকে চিকিৎসকরা জানান, তার দেহের ঘাড়, পা ও অন‌্যান‌্য জায়গায় বেশ কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। জলে ডুবে যাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে ওই কিশোরীর। তাহলে কি আটতলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিল কিশোরী? তদন্তে নেমে ঠিক ছয়তলার নিচের বারান্দায় রক্তের দাগ দেখতে পায় পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, ঝাঁপ দেওয়ার পর ওই কিশোরী সম্ভবত ওই বারান্দায় ঘা খেয়েছিল। সেখান থেকেই রক্তপাত। এরপর সোজা সুইমিং পুলে গিয়ে পড়ে কিশোরী, তৎক্ষনাৎ মৃত্যু। পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশের অভিমত, মেয়েটি আটতলা থেকে লাফ দেয়। 

ওই এলাকায় কি কোনও সিসিটিভি নেই? জানা গিয়েছে, ক্যামেরা থাকলেও ওই অংশের বারান্দা লেন্সবন্দি হয় না। সেই কারণে ঘটনার কোনও ফুটেজ পুলিশ হাতে পায়নি। পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, ওই কিশোরীর বাবা-মায়ের গত পাঁচ বছর আগে ডিভোর্স হয়েছে। বাবার কাছে মেয়ে থাকত। মায়ের সঙ্গে মেয়ের খুব বেশি যোগাযোগ ছিল না।

কিন্তু ওই এলাকায় কি কোনও সিসিটিভি নেই? জানা গিয়েছে, ক্যামেরা থাকলেও ওই অংশের বারান্দা আওতায় না থাকায় লেন্সবন্দি হয় না। সেই কারণে ঘটনার কোনও ফুটেজ পুলিশ হাতে পায়নি। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, ওই কিশোরীর বাবা-মায়ের গত পাঁচ বছর আগে ডিভোর্স হয়েছে। বাবার কাছে মেয়ে থাকত। মায়ের সঙ্গে মেয়ের খুব বেশি যোগাযোগ ছিল না। মেয়েটির বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, সে মুকুন্দপুরের একটি নামি ইংরেজি মাধ‌্যম স্কুলে দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এখন তার পরীক্ষা চলছে। অঙ্ক ও বাংলা পরীক্ষা নিয়ে সে মানসিক চাপে ছিল। কিন্তু সেই কারণে কি সে মরণঝাঁপ দেয় কিনা, তাই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

পুলিশের দাবি, খাতাপত্র, মোবাইল ঘেঁটে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। ঘটনার সময় রাত সোয়া একটা নাগাদ সে হোয়াটসঅ‌্যাপে সাড়াও দেয়। তারপর এমন হল কীভাবে? শুধু তাই নয়, গভীর রাতে ছয়তলা থেকে আটতলায় ওই ছাত্রী কীভাবে পৌঁছল? তাকে কেউ দেখেছিল কিনা? সেই তথ্য পাওয়ারও চেষ্টায় পুলিশ।

 

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
JadavpurKolkataKolkata Police
Advertisement
Tags :
JadavpurKolkataKolkata Police

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন