এই প্রথম রাজভবন, অধুনা লোকভবনে একটি বড় অনুষ্ঠানে গাওয়া হল ‘বন্দেমাতরম’, অতঃপর ‘জনগণমন’। একবার নয়, দু-দুবার। কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া সিদ্ধান্তের পর রাজ্যে নতুন রাজ্যপাল রবীন্দ্রনারায়ণ রবির শপথগ্রহণ (RN Ravi Oath) সেই অর্থে ব্যতিক্রমী মাত্রা পেল বৃহস্পতিবার দুপুরে। তার আগে কোনও রাজ্যপালের শপথে এমন হয়নি। তবে একই সঙ্গে এ-ও লক্ষ্য করা গেল, দু'টি গানের দীর্ঘ সময়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা অতিথি অভ্যাগতদের মধ্যে অস্বস্তি। হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি, বিধানসভার স্পিকার, বিভিন্ন দেশের ডিপ্লোম্যাট, বিচারপতিগণ, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, মুখ্যসচিব-সহ প্রশাসন ও পুলিশের আধিকারিকরা। হাজির রাজ্যপালের স্ত্রী লক্ষ্মীদেবী-সহ গোটা পরিবার।
নবনিযুক্ত রাজ্যপালের স্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র
এত দিন অনুষ্ঠানের আগে বা পরে ৫২ সেকেন্ডের ‘জনগণমন’ গাওয়া একটা অভ্যাসের মতো ছিল। স্কুল জীবন থেকে অনেকেরই গানটি মুখস্থ। কিন্তু কখনও সেভাবে না গাওয়া ‘বন্দেমাতরম’-এ গলা মেলাতে গিয়ে ঢোক গিলতে হল বিশিষ্টদের। গানের কথা সুর অজানা নয়, কিন্তু না গাওয়া অনভ্যাস। আর তিন মিনিট কম কথা নয়। ভাগ্যিস গানটি পরিবেশিত হয় মিউজিকে। এই যা রক্ষে।
এদিন রাজ্যপালকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি। পাঠ এবং খাতায় স্বাক্ষর করানোর আগে ও পরে দু'টি গান গাওয়া হয়। সেও এক বিচিত্র পরিস্থিতি। শপথবাক্য পাঠ হতে লাগে বড়জোর কুড়ি পঁচিশ সেকেন্ড। তারপর সামনে টেবিলে রাখা খাতায় স্বাক্ষর করতে হেঁটে গেলেন রাজ্যপাল এবং ফিরলেন। সময় লাগল এক মিনিট। দুটি পর্ব মেলালে কমবেশি দেড় মিনিট।
লোকভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আর এন রবির সাক্ষাৎ। ছবি: পিটিআই
এই দেড় মিনিটের আগে এবং পরে চার চার আট মিনিট ধরে হল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টাপাধায়ের ‘ন্যাশনাল সং’ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ন্যাশনাল অ্যান্থেম’। দাঁড়িয়ে অংশ নিতে হল উপস্থিত সকলকে। সরকারি অনুষ্ঠানে নতুন প্রোটোকল, মানতেই হবে। কিন্তু গোটা বিষয়টি যে রীতিমতো বোরিং তা অনুভব করলেন সবাই। বয়স্কদের এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছিল। অবশ্য কিছু করার ছিল না, কারণ রাষ্ট্রের নতুন বিধান। এখন থেকে এই ধরনের মর্যাদাপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানে চার বা আট মিনিট যাবে শুধু ‘জাতীয়’ গান গাইতেই!
