কিছু রোগ উপশমে আয়ুর্বেদ অব্যর্থ! আয়ুষ চিকিৎসকদের উপর ভরসা রাখার আর্জি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
Sucheta Sengupta
এবার ক্রসপ্যাথি বন্ধে সরব হলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের বহু নার্সিংহোম ও বেসরকারি হাসপাতাল মেডিক্যাল অফিসার হিসাবে আয়ুষ চিকিৎসকদের ব্যবহার করে। বিষয়টি যে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বন্ধ করা মুশকিল, তাও মেনে নিয়েছেন চিকিৎসক মন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘কবে যে আয়ুষ চিকিৎসকরা বুঝবেন যে তাঁদের ব্যবহার করা হচ্ছে!" মন্ত্রী এদিন আয়ুষ ডাক্তারদের নিজের প্যাথির উপর বিশ্বাস রাখার কথা বলেন। জানান, ‘‘আয়ুষ চিকিৎসকরা নিজেদের প্যাথি নিয়ে গর্ববোধ করুন। বিশ্বাস করুন, আপনি আয়ুষ চিকিৎসক হয়েছেন নিজের ইচ্ছায়। নিজের চিকিৎসা প্রণালীর উপর বিশ্বাস রাখুন। তবে রোগীর মধ্যে সেই বিশ্বাস স্থাপন করতে পারবেন।" মন্ত্রীর আরও বক্তব্য, ‘‘সিগারেট প্যাকেটের উপর লিখে ধূমপান বন্ধ করা যায়নি। ব্যবহার কিন্তু কমেছে। ক্রসপ্যাথি বন্ধেও সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব বন্ধ করা যায় না।"
সম্প্রতি আয়ুর্বেদ দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্যভবনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাজ্যের আয়ুষ বিভাগ। অনুষ্ঠান শেষে 'সংবাদ প্রতিদিন'-কে শারদ্বতবাবু জানান, আয়ুষ-সহ স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অনেক শূন্যপদ রয়েছে। সেগুলি হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড গড়ে দ্রুত পূরণ করা হবে। মন্ত্রী এদিন আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের একাধিক পরামর্শ দেন। জানান, কিছু রোগের উপশমে আয়ুর্বেদ সিদ্ধহস্ত। যেমন বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, গেঁটে বাত, সর্দি-কাশি। এসব রোগের চিকিৎসা করে আগে আয়ুষ চিকিৎসকরা আস্থা অর্জন করুক সমাজের। শারদ্বতবাবুর এই বক্তব্যকে বার্তা হিসাবেই দেখছে রাজ্যের আয়ুষ মহল।
আরও পড়ুন:
রাজ্যের আয়ুর্বেদ কাউন্সিলের নবনিযুক্ত সভাপতি ডা. জয়রাম হাজরা জানিয়েছেন, ক্রসপ্যাথি অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত। তবে জরুরি ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ লেখার স্বাধীনতাও দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তার জন্য আয়ুষ ডাক্তারদের ছোট সার্টিফিকেট কোর্স করানো যেতে পারে। জয়রামবাবু আরও জানান, তিনি সিআরআই-এর অধিকর্তা থাকার সময় রাজ্য সরকার এই নিয়ে একটা কমিটি গড়েছিল। তাতে তিনি ছিলেন। তখনও তাঁরা কিছু অ্যালোপ্যাথি ওষুধ যাতে আয়ুষ ডাক্তাররা লিখতে পারেন, তাঁর সুপারিশ করেছিলেন। সরকার সেটা মেনেও নিয়েছিল। শ্যামাদাস বৈদ্যশাস্ত্রপীঠের কায়া-চিকিৎসা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান অধ্যাপক ডা. প্রদ্যোৎবিকাশ কর মহাপাত্র জানান, ‘‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথা শুনতে ভালো লাগছে। কিন্তু, বাস্তবে কার্যকর করতে গেলে আগে আয়ুষ
ডাক্তারদের চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি পরিসরে আয়ুষ মতে প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা করতে হবে। ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। নাহলে ক্রসপ্যাথি বন্ধ হওয়া মুশকিল।"
একই বক্তব্য 'হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া' বা হোমাইয়ের সর্বভারতীয় সভাপতি ডা. শ্যামল মুখোপাধ্যায়ের। তিনি জানান, ‘‘দীর্ঘদিন হোমিওপ্যাথির নিয়োগ বন্ধ। সরকার সমকাজে সমহারে সমবেতন নীতি চালু করলে এমনিই ক্রসপ্যাথি বন্ধ হয়ে যাবে।"উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, উপযুক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া অন্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে সেবা প্রদান করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় ক্রসপ্যাথির মাধ্যমে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে তা মারাত্মক অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়। অননুমোদিত ওষুধ প্রয়োগের ফলে রোগীর মৃত্যু ঘটলে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির চিকিৎসক নিজেকে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক হিসাবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা করলে তা প্রতারণার আওতায় আসে।