১১ বছরের কিশোরীর মুখে ৮১টি দাঁত! এক্স রে-তে চোখ কপালে, কোন রোগের ইঙ্গিত?
Pritimoy Roy Burman
দাঁতে ব্যথা। সেই সমস্যা নিয়েই চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিল ১১ বছরের এক কিশোরী। বাইরে থেকে দেখে অবশ্য অস্বাভাবিক কিছুই বোঝার উপায় ছিল না। কিন্তু চোয়ালের এক্স-রে করতেই সামনে এল অবিশ্বাস্য ছবি। দেখা গেল, কিশোরীর মুখে স্বাভাবিক দাঁতের পাশাপাশি রয়েছে আরও ৩১টি অতিরিক্ত দাঁত! সব মিলিয়ে দাঁতের সংখ্যা ৮১!
ঘটনাটি ব্রাজিলের মিনাস জেরাইসের। বিরল এই ঘটনাটি প্রথম চিকিৎসাবিজ্ঞানের নথিতে আসে ২০১১ সালে। সম্প্রতি সেই পুরনো ঘটনা ও এক্স-রে-র ছবি সোশাল মিডিয়ায় ফের ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
কী দেখা গেল এক্স-রে-তে?
১১ বছর ৮ মাস বয়সি কিশোরীটি চিকিৎসকের কাছে এসেছিল উপরের চোয়ালে দাঁত সংক্রান্ত সমস্যার নিয়ে। মুখগহ্বর পরীক্ষা করে তেমন কোনও অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি। কয়েকটি স্থায়ী দাঁত বেরিয়ে এলেও বেশিরভাগই তখনও ছিল দুধের দাঁত।
চিকিৎসকেরা এরপর প্যানোরামিক এক্স-রে করেন। ছবিতে চোয়ালের ভিতরে অস্বাভাবিক সংখ্যক দাঁত দেখতে পান তাঁরা। বিষয়টি নিশ্চিত করতে করা হয় সিবিসিটি স্ক্যান।
সেখানেই ধরা পড়ে আসল চমক, মুখে মোট ৮১টি দাঁত। এর মধ্যে ১৮টি দুধের দাঁত, ৩২টি স্বাভাবিক স্থায়ী দাঁত এবং ৩১টি অতিরিক্ত দাঁত! বেশ কিছু দাঁত চোয়ালের হাড়ের ভিতরে আটকে ছিল। কয়েকটির গঠনও ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে আলাদা।
কেন তৈরি হয় এত অতিরিক্ত দাঁত?
স্বাভাবিক সংখ্যার বেশি দাঁত তৈরি হওয়ার এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় হাইপারডনশিয়া (Hyperdontia)। অতিরিক্ত দাঁতগুলিকে বলা হয় সুপারনিউমেরারি টিথ।
সাধারণত এক বা দু’টি অতিরিক্ত দাঁত দেখা যায়। তিনটি বা তার বেশি দাঁত থাকাও বিরল। কিন্তু একই ব্যক্তির মুখে ৩০টির বেশি অতিরিক্ত দাঁত থাকা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তাই এই কিশোরীর ঘটনা হাইপারডনশিয়ার অন্যতম বিরল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অতিরিক্ত দাঁত সবসময় মুখের বাইরে দেখা যায় না। অনেক সময় সেগুলি চোয়ালের হাড়ের ভিতরেই আটকে থাকে। ফলে বাইরে থেকে সমস্যা বোঝা না গেলেও এক্স-রে করালে বিষয়টি ধরা পড়তে পারে।
এর কারণ কী?
হাইপারডনশিয়ার নির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। দাঁত তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত ডেন্টাল ল্যামিনা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়া এবং জিনগত কারণকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হয়।
কিছু ক্ষেত্রে ক্লিডোক্রেনিয়াল ডিসপ্লাসিয়া, গার্ডনার সিনড্রোম বা ঠোঁট ও তালুর জন্মগত ত্রুটির মতো অবস্থার সঙ্গেও এর সম্পর্ক দেখা যায়। তবে এই কিশোরীর ক্ষেত্রে কোনও পরিচিত সিনড্রোম পাওয়া যায়নি।
জেনেটিক পরীক্ষায় ক্রোমোজোম ৯-এ একটি পরিবর্তন ধরা পড়লেও সেটিকে অতিরিক্ত দাঁত তৈরির সরাসরি কারণ বলা যায়নি। ফলে ঘটনাটি নন-সিনড্রোমিক মাল্টিপল হাইপারডনশিয়া হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়।
বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও চোয়ালের ভিতরে যে এত বড় অস্বাভাবিকতা লুকিয়ে থাকতে পারে, এই ঘটনা তারই বিরল উদাহরণ।