দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Food Coma

দুপুরে খাবার পরই চোখ জুড়িয়ে আসে? ‘ফুড কোমা’র আড়ালে কঠিন রোগ নেই তো?

কোন খাবারে বেশি ‘ফুড কোমা’? কখন ঝিমুনি স্বাভাবিক নয়?
Pritimoy Roy Burman
05:42 PM Sep 04, 2026 IST
কোন খাবারে বেশি ‘ফুড কোমা’? কখন ঝিমুনি স্বাভাবিক নয়?
ফুড কোমা!

দুপুরের খাবার শেষ। এবার কাজে ফেরার পালা। কিন্তু চোখের পাতা জুড়িয়ে আসছে, মাথা ঝিমঝিম, কাজে মন নেই, মনে হচ্ছে একটু ঘুমিয়ে নিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। পরিচিত এই অনুভূতিকেই বলা হয় ‘ফুড কোমা’। আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় পোস্টপ্র্যান্ডিয়াল সোমনোলেন্স, অর্থাৎ, খাওয়ার পর সাময়িক ঘুমঘুম ভাব।

খাবার পর এমনটা হওয়া মোটেই অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে দুপুরে বেশি পরিমাণে বা ভারী খাবার খেলে এই ঝিমুনি আরও তীব্র হতে পারে। তবে এর কারণ শুধুই ‘পেট ভরে খাওয়া’ নয়। খাবারের ধরন, শরীরের হরমোনাল প্রতিক্রিয়া, রক্তে বিভিন্ন বিপাকজাত পদার্থের পরিবর্তন, আগের রাতের ঘুম, সবকিছুরই ভূমিকা থাকতে পারে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

খাবার খেলেই চোখ জুড়িয়ে আসে কেন?
একসময় মনে করা হত, খাবার হজম করতে গিয়ে শরীরের রক্তের বড় অংশ পাকস্থলী ও অন্ত্রে চলে যায়। ফলে মস্তিষ্কে রক্ত কম পৌঁছনোর কারণেই ঘুম পায়। কিন্তু বর্তমান বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এতটা সরল নয়।

খাবার শরীরে প্রবেশের পর অন্ত্র থেকে নানা সংকেত যায়, হরমোনের পরিবর্তন হয়, রক্তে পুষ্টি ও বিপাকজাত পদার্থের মাত্রা বদলায় এবং মস্তিষ্কের জেগে থাকার অবস্থাতেও প্রভাব পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় শরীরের নিজস্ব সার্কাডিয়ান রিদম। দুপুরের দিকে স্বাভাবিক ভাবেই শরীরের চনমনে ভাব কিছুটা কমে। তাই দুপুরের খাবারের পর ঘুমঘুম ভাব আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।

খেয়েই ঘুম! ছবি: সংগৃহীত

পুষ্টিবিদদের মতে, অন্ত্রের সংকেত, হরমোনাল পরিবর্তন, রক্তে পুষ্টি উপাদানের প্রবাহ এবং প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমের সক্রিয়তার মতো একাধিক বিষয় দুপুরে খাবারের পর ঘুমের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। সাধারণত খাবার খাওয়ার এক থেকে দু’ঘণ্টার মধ্যে, বিশেষ করে ভারী খাবারের পর এই সমস্যা বেশি অনুভূত হয়।

দোষ কি শুধুই ভাতের?
তা নয়। খাবারের পরিমাণের পাশাপাশি খাবারের গঠনও গুরুত্বপূর্ণ। একবারে খুব বেশি খাবার খেলে শরীর ভারী লাগতেই পারে। তার উপর খাবারে যদি রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, শর্করা বা অতিরিক্ত ফ্যাট থাকে, তা হলে ঝিমুনি আরও প্রকট হতে পারে।

সাদা পাউরুটি, পেস্ট্রি, মিষ্টি, চিনিযুক্ত পানীয়ের মতো খাবার রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়াতে পারে। তার প্রতিক্রিয়ায় ইনসুলিনের মাত্রাও বাড়ে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই ওঠানামার সঙ্গে ক্লান্তি, অলসতা বা মনোযোগ কমে যাওয়ার অনুভূতিও তৈরি হতে পারে।

তবে খাবারের পর ঘুম পেলেই ডায়াবেটিস, এমনটা ভাবা ভুল। একই ভাবে শুধু ঝিমুনি দেখে রক্তে শর্করা কমে গিয়েছে বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়েছে বলেও ধরে নেওয়া যায় না। এমন কোনও সমস্যা আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা জরুরি।

চোখ আসে জুড়িয়ে। ছবি: সংগৃহীত

কোন খাবারে বেশি ‘ফুড কোমা’?
বেশি পরিমাণে খাওয়া, অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত খাবার, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট ও চিনি-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর ঝিমুনি বেশি হতে পারে। লাঞ্চের সঙ্গে অ্যালকোহল থাকলে ঘুমঘুম ভাব আরও বাড়তে পারে। আবার এমন খাবার খেলেন, যেখানে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও প্রোটিনের পরিমাণ অনেকটাই বেশি, তাহলেও দীর্ঘ সময় অলস লাগতে পারে।

তাই দুপুরের প্লেটে শুধু পেট ভরানোর দিকে নজর না দিয়ে ফাইবারসমৃদ্ধ কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ভারসাম্য রাখা জরুরি। খাবারে অতিরিক্ত চিনি ও রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট কমানোও উপকারী।

আগের রাতের ঘুমও কিন্তু দায়ী!
দুপুরের খাবারের পর হঠাৎ ঘুম পেলেই খাবারকে দোষ দেওয়া ঠিক নয়। আগের রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে দিনের বেলায় এমনিতেই চনমনেভাব কম থাকে। তার সঙ্গে ভারী দুপুরের খাবার যোগ হলে চোখের পাতা আরও ভারী হয়ে আসতে পারে। আবার কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ এবং দুপুরে অ্যালকোহল পানও দিনে ঘুমের কারণ হতে পারে।

খাবারেই লুকিয়ে ঘুমের রহস্য? ছবি: সংগৃহীত

কখন ঝিমুনি স্বাভাবিক নয়?
মাঝেমধ্যে খাবারের পর ঘুম পাওয়া সাধারণ বিষয়। কিন্তু প্রতিবার খাওয়ার পর অস্বাভাবিক ক্লান্তি, খাবার কম খেলেও তীব্র ঘুমভাব বা এমন অবসন্নতা যদি নিয়মিত হতে থাকে, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কারণ দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ঘুমের সমস্যা, রক্তাল্পতা বা থাইরয়েডের সমস্যার মতো কিছু শারীরিক অবস্থার যোগ থাকতে পারে। অতিরিক্ত তেষ্টা, বারবার প্রস্রাব, অকারণে ওজন কমা বা বাড়া, চোখে ঝাপসা দেখা বা দীর্ঘদিন ধরে মাথা ধরার মতো উপসর্গ থাকলে আরও সতর্ক হওয়া দরকার।

আর দুপুরের খাবারের পর যদি এতটাই ঘুম পায় যে গাড়ি চালানো বা কোনও যন্ত্র পরিচালনা করতে সমস্যা হচ্ছে, তা হলে কোনও ভাবেই জোর করে তা করা উচিত নয়। ঘুমঘুমভাব না কাটা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই নিরাপদ।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
FoodHealthy Lifestyle TipsSleep
Advertisement
Tags :
FoodHealthy Lifestyle TipsSleep

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন