দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
FSSAI Junk Food Warning Labels

চিপস-ঠান্ডা পানীয়ে 'বিষ', তবু লোভ সামলাতে পারছেন না? এবার প্রতি প্যাকেটে থাকবে বিপদবার্তা!

প্যাকেটের পিছনে থাকা জটিল পুষ্টিতথ্য বা সংখ্যার হিসাব না কষেই যাতে ক্রেতা এক নজরে বুঝতে পারেন খাবারটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।
Pritimoy Roy Burman
08:38 PM Aug 30, 2026 IST
প্যাকেটের পিছনে থাকা জটিল পুষ্টিতথ্য বা সংখ্যার হিসাব না কষেই যাতে ক্রেতা এক নজরে বুঝতে পারেন খাবারটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।
চিপস-ঠান্ডা পানীয়তে মন মজেছে?

চিপস, বিস্কুট, নুডলস বা ঠান্ডা পানীয়। প্যাকেটে এবার থেকে থাকতে হবে সতর্কবার্তা। চিনি, নুন বা ফ্যাট বেশি থাকলে এক নজরে ক্রেতাকে সতর্ক করার প্রস্তাব দিয়েছে এফএসএসএআই (FSSAI)। কিন্তু নিয়মের একটি শর্ত নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।

প্যাকেটজাত খাবারের প্যাকেটে ‘হাই সুগার’, ‘হাই সল্ট’, ‘হাই ফ্যাট’ এবং ‘হাইলি সুইটেনড বেভারেজ’-এর মতো সতর্কবার্তা লেখার প্রস্তাব দিয়েছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই)। ২৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় এই প্রস্তাব দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। উদ্দেশ্য, প্যাকেটের পিছনে থাকা জটিল পুষ্টিতথ্য বা সংখ্যার হিসাব না কষেই যাতে ক্রেতা এক নজরে বুঝতে পারেন খাবারটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

সুপ্রিম কোর্টের চাপেই বদল
প্যাকেটজাত খাবারে ফ্রন্ট-অফ-প্যাক সতর্কবার্তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই টানাপড়েন চলছে। এর আগে এফএসএসএআই প্যাকেটজাত খাবারের জন্য স্টার-রেটিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু কোনও খাবারে চিনি, নুন বা ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকলেও সামগ্রিক রেটিং ভালো হতে পারে, এমন আশঙ্কায় সেই ব্যবস্থার বিরোধিতা করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এতে অস্বাস্থ্যকর খাবারকেও স্বাস্থ্যকর মনে হতে পারে।

এভাবেই থাকবে লেখা? ছবি: সংগৃহীত

পরে কেরলের থ্রি-এস এবং আওয়ার হেলথ সোসাইটি বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যায়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শীর্ষ আদালত এফএসএসএআই-কে ‘হাই ইন সুগার’, ‘হাই ইন সল্ট’ এবং ‘হাই ইন স্যাচুরেটেড ফ্যাট’-এর মতো স্পষ্ট সতর্কবার্তা বিবেচনা করতে নির্দেশ দেয়।

কিন্তু ৩ আগস্ট এফএসএসএআই যে প্রস্তাব দেয়, তাতে প্যাকেটের সামনে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের পাশাপাশি দৈনিক গ্রহণযোগ্য সীমা দেখানোর কথা বলা হয়েছিল। অর্থাৎ, শেষ পর্যন্ত ক্রেতাকেই সংখ্যাগুলি মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হত। সেই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। ১৩ আগস্ট সরকারকে ফের দু’সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। এরপরই সামনে আসে সতর্কবার্তার প্রস্তাব।

‘দুই বা তার বেশি’তেই বড় ফাঁক
বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বড় আপত্তি এই জায়গাতেই। এফএসএসএআই-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে কোনও খাবারে নির্দিষ্ট দুই বা তার বেশি পুষ্টি উপাদান নির্ধারিত সীমা ছাড়ালেই সতর্কবার্তা দিতে হবে।

ফলে কোনও খাবারে চিনি অত্যন্ত বেশি থাকলেও যদি নুন ও ফ্যাটের মাত্রা সীমার মধ্যে থাকে, তাহলে সেই প্যাকেটে সতর্কবার্তা নাও থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, চিনি, নুন বা ফ্যাটের মধ্যে যে কোনও একটি উপাদান নির্ধারিত সীমার বেশি হলেই সতর্কবার্তা থাকা জরুরি। খাবারের ক্যালরির পরিমাণকেও আলাদা সূচক হিসেবে রাখার দাবি উঠেছে।

আরও একটি প্রশ্ন রয়েছে প্রস্তাবিত ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নিয়ে। পরবর্তী পর্যায়ে একটি মাত্র উপাদান বেশি থাকলেও সতর্কবার্তা দেওয়ার কথা। কিন্তু সেই ধাপ কবে চালু হবে, তার কোনও স্পষ্ট বাধ্যতামূলক সময়সীমা নেই। ফলে এই ব্যবস্থা পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পুরো বিষয়টি ক্রেতার কাছে সহজ হোক। ছবি: সংগৃহীত

‘অ্যাডেড’ চিনি নিয়েও প্রশ্ন
চিনি ও ফ্যাটের সংজ্ঞা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধু ‘অ্যাডেড সুগার’ বা ‘অ্যাডেড স্যাচুরেটেড ফ্যাট’-এর উপর নির্ভর করলে কিছু খাবার সতর্কবার্তা এড়িয়ে যেতে পারে। কারণ আইসিএমআর-এনআইএন-এর খাদ্য নির্দেশিকায় মোট চিনি ও মোট ফ্যাটের মাত্রা নিয়ে সীমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি খাবারে থাকা চিনি বা ফ্যাটের কতটা ‘অ্যাডেড’, তা সাধারণ ক্রেতার পক্ষে আলাদা করে বোঝা কঠিন।

লেবেল কতটা চোখে পড়বে?
সতর্কবার্তার আকার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এফএসএসএআই-এর প্রস্তাব, প্যাকেটের পিছনের পুষ্টি-তথ্য তালিকার তুলনায় সতর্কবার্তার অক্ষর এক পয়েন্ট বড় হবে। বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, পুষ্টি-তথ্যই যদি খুব ছোট অক্ষরে লেখা থাকে, তাহলে মাত্র এক পয়েন্ট বড় করলেই কি তা সাধারণ ক্রেতার নজরে আসবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের প্যাকেটে সতর্কবার্তা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু ‘দুই বা তার বেশি’ উপাদানের শর্তটি জটিলতা তৈরি করছে। কোনও খাবারে চিনি বেশি থাকার পরেও শুধু নুন ও ফ্যাট কম থাকার কারণে সতর্কবার্তা না থাকলে তা জনস্বাস্থ্যের উদ্দেশ্যকে দুর্বল করবে।

লেবেল দেখে কিনুন। ছবি: সংগৃহীত

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সতর্কবার্তা?
ছ’টি রাজ্যে হওয়া একটি র‌্যান্ডমাইজড গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সতর্কবার্তা দেখানো হলে ৬০.৮ শতাংশ মানুষ কোনও খাবারে ঝুঁকিপূর্ণ পুষ্টি উপাদান শনাক্ত করতে পেরেছেন। সংখ্যাভিত্তিক তথ্যের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ এবং স্টার-রেটিংয়ের ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ।

ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। আইসিএমআর-এনআইএন-এর হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট রোগের ৫৭ শতাংশের সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের যোগ রয়েছে। চিনি, নুন ও ফ্যাট বেশি থাকা খাবারের বাড়তি গ্রহণ স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

তাই প্যাকেটের সামনে সতর্কবার্তা দেখা যাবে কি না, সেটাই শেষ কথা নয়। কোন খাবারে এই সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক হবে, তার মাপ কত হবে এবং একটি মাত্র ক্ষতিকর উপাদান বেশি থাকলেও সতর্ক করা হবে কি না, তার উপরই নির্ভর করবে এফএসএসএআই-এর এই উদ্যোগ সত্যিই ক্রেতাকে সচেতন করবে, নাকি প্যাকেটের গায়ে আর একটি চিহ্ন হয়েই থেকে যাবে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
FSSAIHealth Tips
Advertisement
Tags :
FSSAIHealth Tips

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন