দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Gallbladder Surgery

পিত্তথলি বাদ দেওয়ার অস্ত্রোপচারে পিত্তনালীতে আঘাত! জটিলতা সামলানোর উপায় কী? বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা

পিত্তথলিতে পাথর থাকলে তা থেকে পেটে ব্যথা, এমনকী অনেক সময় জ্বর, জন্ডিস বা অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ পর্যন্ত হতে পারে।
Pritimoy Roy Burman
03:00 PM Sep 23, 2026 IST
পিত্তথলিতে পাথর থাকলে তা থেকে পেটে ব্যথা, এমনকী অনেক সময় জ্বর, জন্ডিস বা অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ পর্যন্ত হতে পারে।
অস্ত্রোপচারে এক শতাংশ রোগীর পিত্তনালীতে আঘাত লাগতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

পিত্তথলিতে পাথর, ব্যথা বা বারবার জটিলতা হলে অস্ত্রোপচারই অনেক সময় স্থায়ী সমাধানের পথ। কিন্তু সেই অস্ত্রোপচারেই অনিচ্ছাকৃত আঘাত লাগতে পারে পিত্তনালীতে, তৈরি হতে পারে গুরুতর জটিলতা। তখন কী করণীয়? জানালেন পিয়ারলেস হসপিটালের সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রো-এন্টেরোলজিস্ট ডা. সোমক দাস

পিত্তথলি বা গলব্লাডার বাদ দেওয়ার অস্ত্রোপচার (কোলেসিস্টেক্টমি) এখন অত্যন্ত পরিচিত এক চিকিৎসাপদ্ধতি। পিত্তথলিতে পাথর থাকলে তা থেকে পেট ব্যথা, এমনকী অনেক সময় জ্বর, জন্ডিস বা অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ (অ্যাকিউট বিলিয়ারি প্যানক্রিয়াটাইটিস) পর্যন্ত হতে পারে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

পাথর থাকার কারণে যদি ব্যথা বা উপরোক্ত অন্যান্য সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গলব্লাডার বাদ দিতে হয়, যা বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাইক্রোসার্জারি দ্বারা সম্পন্ন হচ্ছে। চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে বলে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেক্টমি।

সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ মিনিটেই এই সার্জারি (Gallbladder Surgery) সম্পন্ন হয়। সার্জারিতে পিত্তনালীতে আঘাতের সম্ভাবনা না থাকলেও, এক শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে পিত্তনালীতে আঘাত লাগতে পারে। 

পেটে ব্যথার কারণ হতে পারে পিত্তথলির পাথর। ছবি: সংগৃহীত

অস্ত্রোপচারের সময় আশেপাশের অন্যান্য অঙ্গ বা অন্ত্র গলব্লাডারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকলে বা অতিরিক্ত রক্তপাত হলে বা সঠিকভাবে পিত্তথলি বা পিত্তনালীর সংযোগস্থল নির্ধারণ না করতে পারলে, পিত্তনালীতে আঘাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

সেক্ষেত্রে পেটের মধ্যে পিত্ত জমা হওয়া, পেটে লাগানো নল থেকে পিত্ত নিঃসরণ হওয়া বা জন্ডিস দেখা দিতে পারে। আঘাতের পরিমাণের উপর নির্ভর করে এই জটিল সমস্যার সমাধানের পথ নির্ণয় করতে হয়। অল্প কিছু ক্ষেত্রে ইআরসিপি-এর মাধ্যমে এই সমস্যার আপৎকালীন বা নির্দিষ্ট সমাধান সম্ভব।

পেটে পিত্ত জমে থাকলে আলট্রাসোনোগ্রাফির সাহায্যে পেটের মধ্যে নল ঢুকিয়ে জমে থাকা পিত্ত বের করা হয়, প্রয়োজনে মাইক্রোসার্জারির দ্বারা বা পেট কেটে পেটের মধ্যে জমে থাকা পিত্ত ধুয়ে বের করে একাধিক নল স্থাপন করা হয়। এই নল থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য পিত্ত বের হতে পারে।

ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেক্টমি। ছবি: সংগৃহীত

পিত্তনালীতে ক্ষতের কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরবর্তীকালে রোগীর জন্ডিস বা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর দেখা যায়। এই অবস্থায় সাধারণত এমআরসিপি-এর মাধ্যমে এই আঘাতের প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। তার ভিত্তিতে এক অত্যন্ত জটিল সার্জারির মাধ্যমে পিত্তনালী খুঁজে বের করে, তার সঙ্গে ক্ষুদ্রান্ত্রের সংযোগ স্থাপন করা হয়, যাতে করে পিত্ত নিঃসরণের বাধা দূর হয়। জটিল হলেও এর মাধ্যমে এই দুরূহ সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং রোগীকে সার্জারি-পরবর্তী অন্তত পাঁচ বছর চিকিৎসকের নিয়মিত ফলোআপে থাকতে হবে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Doctors AdviceGallbladder
Advertisement
Tags :
Doctors AdviceGallbladder

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন