দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Manipal Hospital

মস্তিষ্ক, কান, স্নায়ুর জটিল অস্ত্রোপচার! মণিপাল ইএম বাইপাসে পূর্ব ভারতের প্রথম স্কাল বেস ইনস্টিটিউট

জটিল স্কাল বেসের রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য এখন আর কলকাতা বা পূর্ব ভারতের বাইরে বড় শহরে ছুটতে হবে না। কাছাকাছিই মিলবে অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা।
Pritimoy Roy Burman
02:42 PM Sep 24, 2026 IST
জটিল স্কাল বেসের রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য এখন আর কলকাতা বা পূর্ব ভারতের বাইরে বড় শহরে ছুটতে হবে না। কাছাকাছিই মিলবে অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা।
মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসে পথ চলা শুরু করল মণিপাল স্কাল বেস ইনস্টিটিউট। রয়েছেন ডা. (প্রফেসর) সম্পত চন্দ্র প্রসাদ রাও-সহ অন্যান্য চিকিৎসকরা। ছবি: নিজস্ব

মস্তিষ্কের পাশেই গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি। কাছেই চোখ, কান, মুখের স্নায়ু। এই জটিল শারীরিক অঞ্চলে একটি ছোট টিউমার বা যে কোনও রোগের চিকিৎসাও, তাই হয়ে উঠতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ। অস্ত্রোপচারের সময় সামান্য ভুলেরও প্রভাব পড়তে পারে শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, মুখের নড়াচড়া বা স্নায়ুর কাজে। ফলে শুধু একজন বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন একাধিক বিভাগের সমন্বিত সিদ্ধান্ত। এই জটিল চিকিৎসাকে আরও সহজ করতেই কলকাতায় চালু হল মণিপাল স্কাল বেস ইনস্টিটিউট।

মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসে চালু হওয়া এই ইনস্টিটিউট পূর্ব ভারতে এই ধরনের প্রথম ইনস্টিটিউট। স্কাল বেস বা মাথার খুলির নীচের জটিল অংশের বিভিন্ন রোগ, টিউমার, কানের জটিল সমস্যা এবং শ্রবণশক্তি হারানোর চিকিৎসায় এখানে ইএনটি, নিউরোসার্জারি এবং সার্জিক্যাল অঙ্কোলজির বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে কাজ করবেন। রোগ নির্ণয় থেকে অস্ত্রোপচার, পুনর্বাসন এবং পরবর্তী পর্যবেক্ষণ, পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

এক জায়গায় তিন বিশেষজ্ঞ বিভাগ
স্কাল বেস এমন একটি শারীরিক অঞ্চল, যেখানে মস্তিষ্কের সঙ্গে মাথা ও ঘাড়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এখানে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু ও রক্তনালি। ফলে এই অংশে টিউমার বা অন্য কোনও জটিল রোগ হলে অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনাও অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে করতে হয়।

এই ধরনের চিকিৎসায় ইএনটি, নিউরোসার্জারি এবং সার্জিক্যাল অঙ্কোলজির সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। মণিপাল স্কাল বেস ইনস্টিটিউটে সেই ব্যবস্থাই গড়ে তোলার কথা জানানো হয়েছে। রোগের ধরন অনুযায়ী এন্ডোস্কোপিক বা ওপেন সার্জারি করা হবে। স্কাল বেসের টিউমার, জটিল কানের রোগ এবং শ্রবণশক্তি সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রেও থাকবে বিশেষ চিকিৎসার ব্যবস্থা।

অস্ত্রোপচারের আগে সমন্বিত পরিকল্পনা
স্কাল বেসে অস্ত্রোপচার মানেই শুধু আক্রান্ত অংশে পৌঁছে চিকিৎসা করা নয়। কোন পথে অস্ত্রোপচার হবে, কোন গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু বা রক্তনালিকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখা হবে, রোগের বিস্তার কতটা, অস্ত্রোপচারের পর রোগীর স্বাভাবিক কাজকর্মে কী প্রভাব পড়তে পারে, সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

এই কারণেই রোগীর পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে চিকিৎসার পরিকল্পনা করবেন। নিউরোসার্জারি, ইএনটি বা ক্যানসার সার্জারির দৃষ্টিকোণ থেকে আলাদা আলাদা মূল্যায়নের বদলে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়াই এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।

ইনস্টিটিউটের ক্লিনিক্যাল টিমে রয়েছেন ইএনটি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. সৌভিক রায়চৌধুরী, ইএনটি ও ককলিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জন ডা. অমিতাভ রায়, নিউরোসার্জারির সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. হর্ষ জৈন এবং হেড অ্যান্ড নেক সার্জিক্যাল অঙ্কোলজির সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. হর্ষ ধর।

সূচনা হল পূর্ব ভারতের প্রথম স্কাল বেস ইনস্টিটিউট। মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস। ছবি: নিজস্ব

শ্রবণশক্তি হারালেও চিকিৎসার সুযোগ
শুধু স্কাল বেসের অস্ত্রোপচার নয়, শ্রবণশক্তি হারানোর চিকিৎসাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এই ইনস্টিটিউটে। গুরুতর থেকে অত্যন্ত বেশি মাত্রায় শ্রবণশক্তি কমে গেলে এবং সাধারণ শ্রবণযন্ত্রে পর্যাপ্ত উপকার না হলে উপযুক্ত রোগীদের ককলিয়ার ইমপ্লান্টের প্রয়োজন পড়তে পারে।

শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক, দু’ক্ষেত্রেই থাকবে এই পরিষেবা। শ্রবণশক্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন, ইমপ্লান্ট বসানো এবং পরবর্তী শ্রবণ পুনর্বাসন, গোটা প্রক্রিয়াটিকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা জানিয়েছে হসপিটাল কতৃপক্ষ। শিশুদের ক্ষেত্রে কথা বলা, ভাষা শেখা ও শিক্ষার সঙ্গে শ্রবণক্ষমতার সম্পর্ক বিবেচনা করে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করা হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে শ্রবণ এবং দৈনন্দিন জীবনের মান উন্নত করার দিকে নজর থাকবে।

দূরে যেতে হবে না
ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গালুরুর মণিপাল হসপিটালের স্কাল বেস সার্জারির প্রোগ্রাম লিড, ইএনটি ও হেড-নেক সার্জন এবং ককলিয়ার ইমপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ ডা. (প্রফেসর) সম্পত চন্দ্র প্রসাদ রাও। তাঁর নেতৃত্বে বেঙ্গালুরুর মণিপাল হসপিটালে (Manipal Hospital) প্রায় দেড় দশক আগে স্কাল বেস সার্জারির বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল।

ডা. রাও বলেন, সেই অভিজ্ঞতা এবার কলকাতাতেও বিস্তৃত হল। তাঁর বক্তব্য, জটিল স্কাল বেসের রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য এখন আর কলকাতা বা পূর্ব ভারতের বাইরে বড় শহরে ছুটতে হবে না। কাছাকাছিই মিলবে অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা।

ডা. সৌভিক রায়চৌধুরীর মতে, স্কাল বেসের রোগ অনেক সময় কান, নাক, গলা এবং স্নায়ুতন্ত্রের একাধিক অংশকে প্রভাবিত করে। তাই রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় একাধিক বিভাগের সমন্বয় জরুরি। ডা. হর্ষ জৈন জানান, মস্তিষ্ক, গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও ক্র্যানিয়াল নার্ভ বা করোটিক স্নায়ুর কাছাকাছি অবস্থানের কারণে স্কাল বেস সার্জারি অত্যন্ত সূক্ষ্ম পরিকল্পনা দরকার। ডা. হর্ষ ধরের বক্তব্য, স্কাল বেসের টিউমারের ক্ষেত্রে অনেক সময় অস্ত্রোপচারের সঙ্গে ক্যানসার চিকিৎসার বিশেষজ্ঞেরও প্রয়োজন হয়।

মণিপাল হসপিটাল কতৃপক্ষের দাবি, নতুন ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে কলকাতা এবং পূর্ব ভারতের রোগীদের জটিল স্কাল বেসের রোগ, মাথা-ঘাড়ের টিউমার, কানের সমস্যা এবং শ্রবণশক্তি হারানোর ক্ষেত্রে আরও সমন্বিত আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হবে। অর্থাৎ, যেখানে একাধিক বিশেষজ্ঞের দরকার, সেখানে রোগীকে এক দরজা থেকে অন্য দরজায় ঘুরতে না দিয়ে একই ছাদের নিচে চিকিৎসার পরিকল্পনা করাই এই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Health TipsManipalHospital
Advertisement
Tags :
Health TipsManipalHospital

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন