দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Passive Smoking

ধূমপান না করলেও ধূমপায়ীদের সঙ্গে হরদম ওঠাবসা? সাবধান, অন্যের ধোঁয়ায় ভারতে বাড়ছে মৃত্যু

সিগারেট ধরেন না, তবু কি আপনি নিরাপদ? অন্যের ধোঁয়াই বাড়াচ্ছে অসুখের ঝুঁকি।
Pritimoy Roy Burman
08:59 PM Sep 08, 2026 IST
সিগারেট ধরেন না, তবু কি আপনি নিরাপদ? অন্যের ধোঁয়াই বাড়াচ্ছে অসুখের ঝুঁকি।
ধূমপান না করেও বিপদ! ছবি: এআই

ধূমপান করেন না বলেই যে আপনি তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পুরোপুরি নিরাপদ, তা নয়। আশপাশের কেউ ধূমপান করলে তার ধোঁয়া নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকে পড়ে। আর দীর্ঘদিনের এই পরোক্ষ ধূমপানই হয়ে উঠতে পারে গুরুতর অসুস্থতা এমনকী অকালমৃত্যুর কারণ। দ্য ল্যানসেট পাবলিক হেলথ-এ প্রকাশিত নতুন গবেষণায় ভারতে প্যাসিভ স্মোকিংয়ের ভয়াবহ প্রভাবের ছবিটাই উঠে এসেছে।

গবেষণা বলছে, ১৯৯০ সালে ভারতে সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মোক বা পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ২ লক্ষ ১৭ হাজার ৭০০ জনের। ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬০০, অর্থাৎ, ৩৩ বছরে বৃদ্ধি প্রায় ৫০ শতাংশ!

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

ধোঁয়ার সংস্পর্শে ৪৪ কোটিরও বেশি!
২০২৩ সালে চিনের পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে এসেছে ভারতে। সংখ্যাটি প্রায় ৪৪ কোটি ৪০ লক্ষ। ১৯৯০ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ৫০ লক্ষ। অর্থাৎ, তিন দশকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৮.৪ শতাংশ।

তবে জনসংখ্যার অনুপাতে ছবিটা কিছুটা ইতিবাচক। ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসার হার ১৯৯০ সালের ৪৩.২ শতাংশ থেকে কমে ২০২৩ সালে ৩০.৬ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ, জনসংখ্যার তুলনায় এক্সপোজার কমলেও ভারতের বিপুল জনসংখ্যার কারণে মোট আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।

পরোক্ষ ধূমপান শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ছবি: সংগৃহীত

বেড়েছে নারী-পুরুষ উভয়ের মৃত্যুই
পরোক্ষ ধূমপানের অভিঘাত নারী-পুরুষ কাউকেই ছাড়েনি। গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৪০০ জন নারীর। ২০২৩-এ তা বেড়ে হয় ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৯০০। পুরুষদের ক্ষেত্রে একই সময়ে মৃত্যু বেড়েছে ১ লক্ষ ৪ হাজার ৩০০ থেকে ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৭০০।

শুধু ফুসফুস নয়, আক্রান্ত হতে পারে হৃদ্‌যন্ত্রও
অন্যের সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্যের ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢোকার ঘটনাকেই বলা হয় প্যাসিভ স্মোকিং বা পরোক্ষ ধূমপান। নিজের হাতে সিগারেট না থাকলেও শরীর তার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রেহাই পায় না।

গবেষণায় পরোক্ষ ধূমপানের সঙ্গে হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যানসার, সিওপিডি, স্তন ক্যানসার, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, অ্যাজমা ও শ্বাসনালির সংক্রমণের মতো একাধিক রোগের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি ছোটদের। তাদের ফুসফুস ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন বিকশিত হচ্ছে, তখন পরোক্ষ ধূমপানে তাদের ফুসফুস-সহ একাধিক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। 

পরোক্ষ ধূমপানে বিকল হার্ট, ফুসফুস! ছবি: সংগৃহীত

বছরে ৯২ লক্ষের বেশি সুস্থ জীবনে ভয়ংকর প্রভাব
পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি শুধু মৃত্যুতেই থেমে নেই। গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে প্রায় ৯২.৮ লক্ষ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে একাধিক জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা। এর মধ্যে অনেকেই ঢোলে পড়েছেন মৃত্যুর কোলে। বিশ্বজুড়ে ২০২৩ সালে প্রায় ২৭১ কোটি মানুষ সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মোকের সংস্পর্শে এসেছেন। এর অর্ধেকেরই বাস চিন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায়।

ধোঁয়া থেকে দূরে রাখুন পরিবারকে
প্যাসিভ স্মোকিং কমাতে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। বাড়ি, কর্মক্ষেত্র ও জনসমাগমের জায়গায় ধূমপান বন্ধ করা যেমন প্রয়োজন, তেমনই পরিবারের সদস্যদের সামনে, বিশেষ করে শিশুদের আশপাশে ধূমপান না করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিগারেট হয়তো একজনের হাতে জ্বলে, কিন্তু তার ধোঁয়ার ক্ষতি ছড়িয়ে পড়ে বহু মানুষের শরীরে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Healthy Lifestyle TipsQuit Smoking‪‎Smoking
Advertisement
Tags :
Healthy Lifestyle TipsQuit Smoking‪‎Smoking

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন