দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
School Violence

কেন বেসরকারি স্কুলে মাথাচাড়া দিচ্ছে হিংসা? সাউথ পয়েন্টের ঘটনায় বিস্মিত মনোবিদরা

স্পষ্ট হয়নি গোঁফের রেখা। হাত পাকিয়েছে হিংসায়। একটা দুটো নয়। গত পাঁচ বছরে এমন ঘটনা একাধিক।
Sayani Sen
04:29 PM Oct 01, 2026 IST
স্পষ্ট হয়নি গোঁফের রেখা। হাত পাকিয়েছে হিংসায়। একটা দুটো নয়। গত পাঁচ বছরে এমন ঘটনা একাধিক।
ফাইল ছবি

স্পষ্ট হয়নি গোঁফের রেখা। হাত পাকিয়েছে হিংসায়। একটা দুটো নয়। গত পাঁচ বছরে এমন ঘটনা একাধিক।বছর দেড়েক আগের ঘটনা। হুগলির চাঁপদানির স্কুলে বন্ধুর ঘুসিতে প্রাণ যায় বছর পনেরোর অভিনব জালানের। ২০২৫-এর সেপ্টেম্বরে সহপাঠীর ছুরির আঘাতে প্রাণ যায় বাগবাজার হাই স্কুলের ছাত্র মনোজিৎ যাদবের। ওই বছরই ডিসেম্বরে বাঁকুড়ার ওন্দায় একদল ছাত্র চড়াও হয়ে নাক ফাটিয়ে দেয় সহপাঠীর। আর এবার দক্ষিণ কলকাতার সাউথ পয়েন্ট স্কুলে নবম শ্রেণির পড়ুয়ার গলায় ক্লাসমেটের ছুরির কোপ। একের পর এক এমন ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে একাধিক। বেসরকারি স্কুলে সিসিটিভি, নিরাপত্তারক্ষীর ছড়াছড়ি। মা-বাবা শিশুকে স্কুলে দিয়ে নিশ্চিন্তে যান কর্মস্থলে। বুধবারের ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি জো আছে নিশ্চিন্ত হওয়ার?

যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রিন্সিপাল পার্থপ্রতিম বৈদ্যর গলায় বিস্ময়। "কী বলব ভেবে পাচ্ছি না। এ আমরা কোন প্রজন্মকে মানুষ করছি!" কেন বেসরকারি স্কুলে মাথাচাড়া দিচ্ছে হিংসা? মনোবিদদের একাংশ মনে করছেন এর প্রধান কারণ, মাঠের অভাব। এই সমস্ত স্কুলে সময় কাটে চার দেওয়ালের চৌহদ্দিতে। যতই স্মার্ট ক্লাসরুম আর ঝাঁ চকচকে বিল্ডিং থাকুক। মনোবিদরা বলছেন, খেলাধুলা রাগের নিরাপদ বহিঃপ্রকাশ তৈরি করে। শারীরিক কসরত করলে মনের উত্তেজনা একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে প্রকাশ হতে পারে। ২০২৫ সালে একটি সমীক্ষাতেও দেখা গিয়েছিল যে সমস্ত শিশু খেলাধুলা করে তাদের মধ্যে কমে অ্যাগ্রেসিভ বিহেভিয়র। যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রিন্সিপাল পার্থপ্রতিম বৈদ্য জানিয়েছেন, "ছাত্রদের কাউন্সেলিং করাতে হবে।" ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রির অধ্যাপক ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. প্রশান্ত রায় মনে করছেন এমন ঘটনার নেপথ্যে চারপাশের বদলে যাওয়া সমাজ। কী সিনেমা কী ফেসবুক রিল অথবা সমাজমাধ্যমের ভিডিও। চারিদিকে আগ্রাসন।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

ডা. প্রশান্ত রায়ের কথায়, "বাচ্চারা যে ভিডিওগেম খেলছে তাতে শুধু ধুন্ধুমার মারপিট। রক্ত আর হামলার গল্প। এই সমস্ত হিংসাত্মক খেলা থেকে বাচ্চারা এগুলোই শিখছে।" মনোবিদরা বলছেন, স্কুল পড়ুয়াদের মস্তিষ্ক আন্ডার ডেভলপড। চলচ্চিত্র, ভিডিও গেমে হিংসা দেখে তারা সেগুলোই অনুকরণ করতে যায়। সিংহভাগ দায় অভিভাবকদেরই। না চাইতেই তাঁরা উপহার এনে দিচ্ছেন। সন্তানরা ভাবছে জীবনে সবকিছু চাইলেই পাওয়া যায়। অভিভাবকদের প্রতি ডা. প্রশান্ত রায়ের আবেদন, "ছেলেমেয়েদের এই সমস্ত উগ্র, আক্রমণাত্মক ভিডিওগেম, সিনেমা, রিল দেখা থেকে বিরত রাখুন। রাখুন কড়া মনিটরিংয়ের মধ্যে। ছেলেমেয়েদের 'বোর' হতে দিন। না চাইতেই গিফট কিনে আনবেন না। জীবনে একঘেয়েমি থাকার শিক্ষাটা অত্যন্ত জরুরি। উপহার না দিয়ে বরং গল্প করুন। তাতে তার মধ্যে মূল্যবোধ জাগবে।"

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Doctors AdviceSouth Point School
Advertisement
Tags :
Doctors AdviceSouth Point School

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন