দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Sleep With Lights On Heart Health

রাতে আলো জ্বালিয়ে ঘুম! জানেন, হার্টের জন্য কতটা বিপজ্জনক এই অভ্যাস?

চোখ বন্ধ থাকলেও সেই আলো শরীরের স্বাভাবিক ‘রাতের ছন্দে’ ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
Pritimoy Roy Burman
07:48 PM Sep 16, 2026 IST
চোখ বন্ধ থাকলেও সেই আলো শরীরের স্বাভাবিক ‘রাতের ছন্দে’ ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
রাতভর আলোয় ঘুম!

ঘর অন্ধকার, শরীর ঘুমের প্রস্তুতিতে। এমনটাই হওয়ার কথা রাতে। কিন্তু ঘুমের সময় পাশে জ্বলছে বেডসাইড ল্যাম্প, চলছে টিভি, হাতে মোবাইল বা জানলা দিয়ে ঢুকছে বাইরের আলো। চোখ বন্ধ থাকলেও সেই আলো শরীরের স্বাভাবিক ‘রাতের ছন্দে’ ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

কমতে পারে মেলাটোনিনের নিঃসরণ, বিঘ্নিত হতে পারে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র। নিয়মিত এমন হলে প্রভাব পড়তে পারে রক্তচাপ, হৃদ্‌স্পন্দন ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উপরও। ফলে রাতে ঘরে আলো জ্বালিয়ে ঘুমোনোর অভ্যাসটিকে একেবারে হেলাফেলা করা ঠিক নয়।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

শরীরেরও আছে ‘জৈবঘড়ি’
আমাদের শরীরের ভিতরে একটি স্বাভাবিক ‘জৈবঘড়ি’ রয়েছে। দিন-রাত, আলো-অন্ধকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই ঘড়ি ঠিক করে দেয় কখন শরীর সক্রিয় থাকবে, কখন ঘুমের প্রস্তুতি নেবে। দিনের আলো শরীরকে জেগে থাকার সংকেত দেয়। অন্যদিকে, রাতের অন্ধকারে শরীর ধীরে ধীরে বিশ্রামের দিকে যায়।

এই সময় মস্তিষ্ক থেকে মেলাটোনিন নামের একটি হরমোন নিঃসৃত হয়। সহজভাবে বললে, মেলাটোনিন শরীরকে জানায় যে এবার ঘুমের সময়। কিন্তু রাতে ঘরে আলো জ্বলে থাকলে, বিশেষ করে উজ্জ্বল আলো বা চোখের কাছাকাছি আলো থাকলে, মস্তিষ্ক সেই আলোকে অনেকটা দিনের সংকেত হিসেবেই নিতে পারে। ফলে মেলাটোনিনের স্বাভাবিক নিঃসরণ কমে যেতে পারে এবং ঘুমের ছন্দ বিঘ্নিত হতে পারে।

রাতে আলো জ্বেলে ঘুমানোর অভ্যাস? ছবি: সংগৃহীত

ঘুম নষ্ট হলে চাপ পড়ে হৃদ্‌যন্ত্রে
সমস্যাটা শুধু ঘুম কমে যাওয়ায় নয়। ঘুমের গুণমান খারাপ হলে শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াতেই তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত সার্কাডিয়ান রিদমে ব্যাঘাত ঘটলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হৃদ্‌স্পন্দন এবং বিপাকীয় কার্যকলাপে প্রভাব পড়তে পারে।

চিকিৎসকদের কথায়, রাতে আলোর সংস্পর্শ শরীরকে সম্পূর্ণ বিশ্রামের পরিবর্তে তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থায় রাখতে পারে। এতে গভীর ঘুমের পর্যায় ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘদিন ঘুমের গুণমান খারাপ হলে তার প্রভাব পড়তে পারে রক্তচাপ, হৃদ্‌স্পন্দন এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যে।

এই কারণেই ঘুমের ব্যাঘাতকে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের প্রসঙ্গ থেকে আলাদা করে দেখা উচিত নয়। উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, ডায়াবেটিসের মতো একাধিক হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যা ও সার্কাডিয়ান ছন্দের ব্যাঘাতের সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে।

শুধু চোখ নয়, হার্টেও প্রভাব! ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিনের অভ্যাসটাই আসল
এক রাত আলো জ্বেলে ঘুমিয়ে পড়লেই হৃদ্‌যন্ত্রের ক্ষতি হবে, এমনটা নয়। আসল বিষয় হল অভ্যাস। নিয়মিত রাতে আলোয় ঘুমোনোর অভ্যাস থাকলে ঘুম ও শরীরের জৈবঘড়ির উপর তার প্রভাব নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার।

বিশেষ করে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা হৃদ্‌রোগের মতো সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ঘুমের পরিবেশকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তবে রাতের আলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের সম্পর্ক পুরোপুরি বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। আলোর তীব্রতা, ধরন এবং কতক্ষণ তার সংস্পর্শে থাকা হচ্ছে, সেগুলিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তাই বিষয়টিকে এমন নয় যে, 'আলো জ্বেলে ঘুমোলেই হৃদ্‌রোগ হবে।' বরং নিয়মিত রাতের আলো ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করতে পারে এবং সেই ঘুমের ব্যাঘাত হৃদ্‌স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

রাতে ডিভাইস থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। ছবি: সংগৃহীত

ঘুমের সময় আলো যত কম, তত ভালো
ঘুমোতে যাওয়ার আগে ঘরের অপ্রয়োজনীয় আলো নিভিয়ে দিন। টিভি চালিয়ে ঘুমোনোর অভ্যাস থাকলে তা বদলান। শোওয়ার আগে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা অন্য স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকাও এড়িয়ে চলুন।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে শোওয়া ও ওঠার চেষ্টা করুন। ঘরের পরিবেশ যেন হয় শান্ত, আরামদায়ক ও তুলনামূলক ঠান্ডা। নিরাপত্তার জন্য রাতে আলো প্রয়োজন হলে খুব কম উজ্জ্বলতার আলো ব্যবহার করুন এবং তা যেন সরাসরি চোখের কাছে না থাকে।

রাতের অন্ধকার শরীরের কাছে শুধু পরিবেশ নয়, বিশ্রামের একটি স্বাভাবিক সংকেত। তাই ঘুমের সময় যতটা সম্ভব অন্ধকার পরিবেশ তৈরি করাই ভালো। কারণ ভালো ঘুমের প্রভাব শুধু পরদিনের সতেজতায় নয়, দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার উপরও পড়ে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Healthy Lifestyle TipsHeartSleep
Advertisement
Tags :
Healthy Lifestyle TipsHeartSleep

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন