ফোনের কভারে তেজপাতা, কোন বিশ্বাসে ভাইরাল ট্রেন্ডে গা ভাসাচ্ছেন নেটিজেনরা?
Utsa Tarafdar
ইন্সটাগ্রামে নিত্যনতুন ট্রেন্ড লেগেই থাকে। তারই মধ্যে অন্যতম, স্মার্টফোনের ট্রান্সপারেন্ট কভারের ভিতর শুকনো তেজপাতা ভরে রাখা! কভারটির এপার ওপার দেখা যায় তাকালেই, তাই দেখতে মন্দ লাগে না ঠিকই, কিন্তু এমন করার কারণ কী? কেন তরুণ-যুবক নির্বিশেষে সকলেই তেজপাতা রাখছেন এমনভাবে স্মার্টফোনের গায়ে সেঁটে (Bay Leaf Behind Your Phone Cover)?
এ নিয়ে চলছে হাজারও জল্পনা। কেউ বলছেন, এমনটা করলে রাত পেরোতে না পেরোতেই হয়ে যাওয়া যায় বিপুল ঐশ্বর্যের অধিকারী। কেউ বলছেন, এভাবে তেজপাতা রাখার পর মনে মনে যা চাওয়া যাবে, পূরণ হবে তাই। কেউ আবার বলছে, এর ফলে অশুভ শক্তিরা কাছে আসার সাহসই পাবে না! কিন্তু সত্যিটা কী? রান্নাঘরের এক অতিসাধারণ তেজপাতার কি সত্যিই এমন অলৌকিক কার্যক্ষমতা রয়েছে?
আরও পড়ুন:
আসলে তেজপাতার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে নানা অতিলৌকিক বিশ্বাস। বাস্তু মতে, তেজপাতাকে দেবী লক্ষ্মীর প্রতীক বলে মনে করা হয়। তাই তেজপাতা কাছে রাখলে ধনসম্পদে ভরে যাবে ঘর, এমনটা ধারণা করা হয়। হয়তো ফোনের মাধ্যমেই এমন বিশেষ কোনও যোগাযোগের পথ খুলে যাবে। অথবা ধনশালী হয়ে ওঠার পথে প্রথম সুসংবাদটিই পাওয়া যাবে এই ফোন মারফত!
সময়ের সঙ্গেই এই বিশ্বাস ডালপালা ছড়িয়ে বসেছে। তাই কেউ কেউ বলেন, তেজপাতা নাকি মনের অপূর্ণ ইচ্ছে পূরণ করতে পারে। কেউ তেজপাতার গায়ে খুদে হরফে মনের ইচ্ছে লিখে রাখেন। এই কারণেই কেউ আবার বালিশের নিচেও তেজপাতা রাখেন ঘুমানোর সময়। তাতে নাকি ঘুম গভীর হয়, দুঃস্বপ্ন দেখা কমে বলে বিশ্বাস করা হয়।
একইরকমভাবে এক শ্রেণির মানুষের বিশ্বাস, তেজপাতা অশুভ শক্তিকে ঘেঁষতে দেয় না যেমন, তেমনই দীর্ঘদিনের গভীর মানসিক চাপও দূর করে। কিন্তু সত্যিই কি হয় এমনটা? বিজ্ঞান কিন্তু এমন কোনও ধারণাকে সমর্থন জানায় না। তেজপাতায় থাকা প্রাকৃতিক সুগন্ধি তেল এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগের কারণে এর একটি আলাদা গন্ধ রয়েছে। ফলে পোকামাকড় দূরে থাকতে পারে।
শুকনো তেজপাতা এমনিতে ফোনের কভারের পিছনে রাখলে বিশেষ সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে পাতাটি ভেঙে গুঁড়ো হয়ে ফোনের পোর্ট, স্পিকার বা অন্য কোনও খোলা অংশে ঢুকলে সমস্যা হতে পারে। এছাড়া ফোন অতিরিক্ত গরম হলে কভারের ভিতরে কোনও জিনিস না রাখাই ভালো, কারণ এতে তাপ বের হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে। চাইলে গা ভাসানোই যায় ট্রেন্ডে, তবে অন্ধভাবে তা ফলো করার বদলে সব দিক জেনে বুঝে নিতে পারলেই ভালো।