দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Real vs Fake Cinnamon

দোকান থেকে কেনা দারচিনিতে স্বাদ-গন্ধ পাচ্ছেন না? আসল না নকল, বুঝে নিন ৫ উপায়ে

তবে মনে রাখতে হবে, চোখে দেখা, গন্ধ বা স্বাদ দিয়ে কেবল প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়; শতভাগ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
Utsa Tarafdar
02:58 PM Aug 21, 2026 IST
তবে মনে রাখতে হবে, চোখে দেখা, গন্ধ বা স্বাদ দিয়ে কেবল প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়; শতভাগ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
গুঁড়ো কিংবা গোটা দারুচিনি চেনা নেহাত সহজ কাজ নয়।

রান্নায় পরিমাণমতো দারুচিনি দিয়েও স্বাদ-গন্ধ মালুম পড়ছে না। তবে কি দারুচিনিতে ভেজাল? গৃহস্থের এমন চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। বাঙালির রান্নাঘরে দারুচিনির পাকাপাকি অবস্থান। পোলাও, বিরিয়ানি, মাংসের ঝোল হোক, অথবা পায়েস, চা, সন্দেশ— রকমারি পদ তৈরিতে ব্যবহার হয় দারুচিনি। কিন্তু দারুচিনির নামে বাজারে যা কিনতে পাওয়া যায়, তার সবই যে খাঁটি, এমন কোনও কথা নেই।

ভারতীয় রান্নায় অপরিহার্য দারুচিনি।

দারুচিনি বিস্বাদ হলে অনেকেই ঠাট্টার ছলে বলেন, বুঝি দোকানদার অন্য কোনও গাছের ছাল কেটে দিয়েছেন! আদতে তা নয়, বাজারে দুই ধরনের দারুচিনি চালু আছে। যাদের পোশাকি নাম যথাক্রমে, সিলন (ceylon) ও ক্যাসিয়া (cassia)। সিলন দারুচিনিকেই ‘আসল দারুচিনি’ বলে চিনি আমরা। দুই ধরনের দারুচিনির মধ্যে রং, গন্ধ, স্বাদ, বাকলের গঠনের পার্থক্য রয়েছে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

আপনার বাড়িতে যেটি আনা হয়েছে, তা আসল কি-না বোঝার জন্য রইল কয়েকটি সহজ পরীক্ষা।

১. গোটা দারুচিনি কিনলে প্রথমেই তার রং লক্ষ্য করুন। সিলন দারুচিনি হালকা লালচে-বাদামি রঙের হয়। অন্যদিকে ক্যাসিয়া তুলনামূলকভাবে গাঢ় লালচে-বাদামি। তবে শুধু রং দেখে দারুচিনির জাত নিশ্চিত করা যায় না। গাছের ধরন, শুকানোর পদ্ধতি এবং সংরক্ষণের কারণে রঙে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

২. গোটা দারুচিনি চেনার ক্ষেত্রে বাকলের গঠন দেখা সবথেকে জরুরি। সিলন দারুচিনির কাঠি তলার দিকে থেকে বহুস্তরযুক্ত রোলের মতো দেখতে লাগে। অন্যদিকে ক্যাসিয়ার বাকল সাধারণত অনেক বেশি মোটা ও শক্ত, পাতলা স্তরের পরতও থাকে না বললেই চলে। তাই বাজার থেকে গোটা দারুচিনি কিনলে ভেতরের অংশ দেখতে হবে সবার আগে।

৩. সিলন দারুচিনির কাঠি পাতলা, হাতের চাপে সহজেই ভাঙা যায়। ক্যাসিয়ার কাঠি সাধারণত মোটা ও শক্ত হয়। হাতে নিলে দুই ধরনের কাঠির গঠনের পার্থক্য বোঝা যায়।

৪. সিলন দারুচিনির সুগন্ধ হালকা ও মিষ্টি। ক্যাসিয়ার গন্ধ তুলনামূলকভাবে তীব্র, ঝাঁঝালো এবং কড়া। তবে রান্নায় দিলে ক্যাসিয়ার আলাদা গন্ধ ছাড়ে না বললেই চলে। দুই ধরনের দারুচিনির স্বাদেও যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সিলন দারুচিনির স্বাদ মিষ্টি। ক্যাসিয়ার স্বাদ ঝাঁঝালো ও কিছুটা তিক্ত বা কষাটে বলা চলে।

দারুচিনির গা পুরু নাকি, পাতলা, স্তরযুক্ত কি-না, তা দিয়ে চেনা যায় আসল নকল।

৫. যদি গোটার বদলে প্যাকেটজাত দারুচিনি কেনেন, তবে প্যাকেটের গায়ে ‘সিলন সিনামন’ বা ‘সিনামোমাম ভেরাম’ লেখা আছে কি না দেখুন। বিশেষত গুঁড়ো দারুচিনি কেনার ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করে রাখা জরুরি— ক্যাসিয়া মানেই নকল দারুচিনি নয়। ক্যাসিয়াও রান্নায় বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, তবে তা বাঙালি বা ভারতীয় স্বাদের থেকে একেবারেই আলাদা।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন