দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Eco-Friendly Rakhi

চাহিদা তুঙ্গে গোবরের রাখির, ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় থাক বৈদিক ছোঁয়া

Raksha Bandhan 2026: ২৮ আগস্ট দেশজুড়ে পালিত হবে রাখি উৎসব। আর সেই আবহেই বোনদের পছন্দের তালিকায় উঠে এসেছে ‘বৈদিক রাখি’। চুমকি কিংবা প্লাস্টিকে মোড়া কৃত্রিম চাকচিক্য নয়। নিখাদ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি বিশেষ ডোর।
Buddhadeb Halder
04:39 PM Aug 26, 2026 IST
Raksha Bandhan 2026: ২৮ আগস্ট দেশজুড়ে পালিত হবে রাখি উৎসব। আর সেই আবহেই বোনদের পছন্দের তালিকায় উঠে এসেছে ‘বৈদিক রাখি’। চুমকি কিংবা প্লাস্টিকে মোড়া কৃত্রিম চাকচিক্য নয়। নিখাদ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি বিশেষ ডোর।
এ বার চাহিদা তুঙ্গে পরিবেশবান্ধব গোবরের রাখির।

পরশু রাখি। মাঝে আর এক দিন। ইতিমধ্যে দোকানে পসরা সাজিয়ে চলছে দেদার বিক্রিবাটা। ২৮ আগস্ট দেশজুড়ে পালিত হবে রাখি উৎসব। আর সেই আবহেই বোনদের পছন্দের তালিকায় উঠে এসেছে ‘বৈদিক রাখি’। চুমকি কিংবা প্লাস্টিকে মোড়া কৃত্রিম চাকচিক্য নয়। নিখাদ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি বিশেষ ডোর। আর সেই চমকপ্রদ উদ্যোগের মূল কেন্দ্রে গুজরাটের সুরাট।

ছবি: সংগৃহীত

সুরাটের গোশালাগুলিতে দিনরাত এক করে চলছে পরিবেশবান্ধব রাখি তৈরির কাজ। কৃত্রিম প্লাস্টিকের বদলে এ বার স্থান পেয়েছে প্রাকৃতিক জৈব উপাদান। গোবর ভালো করে শুকিয়ে তার সঙ্গে মুলতানি মাটি, ভেষজ গুঁড়ো প্রভৃতি মিশিয়ে বিশেষ ছাঁচে ঢেলে রূপ দেওয়া হচ্ছে এই সব রাখি। গোলাপ, হার্টশেপ, পদ্ম সহ নানা ধরনের ছাঁচে ফেলে তা তৈরি হচ্ছে। মেশানো হচ্ছে প্রাকৃতিক রং। এমনকী ব্যবহার করা হচ্ছে তুলসীর বীজও। রাখি বাঁধার জন্য সাধারণ কোনও সুতো নয়, থাকছে লাল-হলুদ ধাগা। হিন্দুশাস্ত্রে গোবরের পবিত্রতা সর্বজনবিদিত। হিন্দুদের প্রায় সমস্ত পবিত্র আচার অনুষ্ঠানেই যার ব্যবহার আবহমান কাল ধরে চলে আসছে, উৎসবের দিনে সেই গোবরের ছোঁয়াকেই মঙ্গলদায়ক বলে মনে করছেন বোনেরা। অবশ্য এই প্রথমবার নয়, এর আগেও গোবরের রাখি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

ছবি: সংগৃহীত

শুধু পরিবেশ সচেতনতা বা ধর্মীয় বিশ্বাসই নয়, এই উদ্যোগের পিছনে রয়েছে এক বিশেষ সামাজিক বার্তা। ‘গো মাতা আহ্বান অভিযান’-এর অংশ হিসেবে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাখিগুলির উপরে বসানো হচ্ছে ‘গো মাতা-রাষ্ট্র মাতা’ লেখা বিশেষ স্টিকার। উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। ভাইয়ের কবজিতে সুতো বাঁধার সময় কেবল তাঁর দীর্ঘায়ু কামনাই নয়, পাশাপাশি গোরুর সুরক্ষা ও সংরক্ষণের অঙ্গীকারও ঝালিয়ে নেওয়া। দেশি গোরুকে ‘রাষ্ট্র মাতা’র মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে যে আন্দোলন চলছে, তা আমজনতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার এটাই সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম বলে মনে করছেন গোশালার পরিচালকরা।

গোবরের কথা শুনে যাঁরা শুরুতে কিছুটা ইতস্তত করেছিলেন, বাজারের চাহিদা কিন্তু অন্য কথা বলছে। সুরাটের গোশালা ছাড়িয়ে স্থানীয় বাজার তথা বিভিন্ন রাজ্যে এই বৈদিক রাখির চাহিদা এখন তুঙ্গে। চাহিদা সামলাতে কারিগররা নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজে ব্যস্ত। হালকা ও টেকসই এই রাখিগুলি পরিবেশকে বর্জ্যমুক্ত রাখতেও সাহায্য করবে। তাই গতানুগতিক নকশার বাইরে গিয়ে এমন একটি চিন্তাভাবনাকে সাদরে গ্রহণ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার এই অঙ্গীকার রাখি উৎসবকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত

সুরাটের এই অভিনব উদ্যোগ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে উৎসব উদযাপন শুধু আনন্দের নয়, দায়িত্ববোধের বার্তাও বয়ে নিয়ে আসতে পারে। ভাই-বোনের স্নেহের বাঁধনে প্রকৃতির এমন স্পর্শ নিঃসন্দেহে এ বছরের রাখি উৎসবকে অনন্য করে তুলবে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Raksha Bandhan
Advertisement
Tags :
Raksha Bandhan

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন