বন্ধুর জন্য সঙ্গী খুঁজছেন? বানিয়ে ফেলুন পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন, জানাচ্ছে হালের ‘ডেট মাই ফ্রেন্ড’ ট্রেন্ড
Utsa Tarafdar
বন্ধুর প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে দেওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন? এ কাজ তেমন নতুন নয়। যুগ যুগ ধরেই বন্ধুর হয়ে সঙ্গী খোঁজার মজার চল রয়েছে বন্ধুসমাজে। তা থেকেই এক ধাপ এগিয়ে সোশাল মিডিয়ার নতুন ট্রেন্ড ‘ডেট মাই ফ্রেন্ড’ (Date My Friend)। আর এই ট্রেন্ডে ম্যাচমেকিং, অর্থাৎ দুজন মানুষকে একত্রে আনার জন্য প্রয়োজন শুধুমাত্র একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন!
অবাক হচ্ছেন নির্ঘাত। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মূল কাজ তো অফিসকাছারিতে। মিটিং চলাকালীন কোনও একটি বিষয়কে ব্যাখ্যা করে বোঝাতে এমন চার্ট তৈরি করতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিকতম ট্রেন্ডটিতে দুই মানুষের প্রেম জমাতে ব্যবহার হচ্ছে তা-ই। এই পদ্ধতিতে নিজের সিঙ্গল বন্ধুকে অন্য কারও সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আগে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে পারেন আপনি। মজার ছবি, মিম, জিআইএফ কাজে লাগিয়ে বন্ধুর স্বভাব, পছন্দ-অপছন্দ—সবই তুলে ধরার সুযোগ থাকবে এই প্রেজেন্টেশনে।
আরও পড়ুন:
এই ট্রেন্ডের নিয়ম বেশ সহজ। যে সিঙ্গল বন্ধুটির জন্য সঙ্গী খুঁজছেন, তাকে নিয়ে তৈরি করে ফেলুন ৩ থেকে ৫ মিনিটের একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন। তারপর অন্য মানুষটিকে তা দেখিয়ে বোঝান, সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী হিসেবে কেন এই ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে যাঁকে নিয়ে প্রেজেন্টেশন তৈরি হচ্ছে, তাঁকে সেই সময় উপস্থিত রাখা চলবে না। সবশেষে প্রেজেন্টেশন দেখে সেই মানুষটি প্রশ্ন করবে আপনার বন্ধুর সম্পর্কে।
ম্যাচমেকিংয়ের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই রীতিমত জনপ্রিয় হয়েছে এই ট্রেন্ড। নেটজনতা বলছেন, এর পিছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও। অনেক সময় নিজের বন্ধুকে ভালোভাবে চেনা থাকলেও, সে কেমন জীবনসঙ্গী হতে পারেন, তা আমরা বিশদে জানি না। অন্যকে বলতে গেলে, অন্যের চোখ দিয়ে নিজের বন্ধুকে নতুন করে দেখতে হলে, নিজেরাও তার স্বভাব, অভ্যাস, পছন্দ-অপছন্দ, সম্পর্কের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্ভাব্য সমস্যা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ পাই। ফলে তার কোনও বদভ্যাস থাকলে, তা বদলানোর পরামর্শও দিতে পারি বন্ধুকে।
এমনকী যাঁর জন্য সম্বন্ধ খোঁজা হচ্ছে, তিনিও সরাসরি প্রশ্ন করে সম্ভাব্য সঙ্গী সম্পর্কে জানতে পারেন। এতে কোনও অসুবিধা বা অমিলের সম্ভাবনা থাকলে তা সামনে আসতে পারে। কারণ একজন ভালো বন্ধু হলেই যে তিনি ভালো জীবনসঙ্গী হবেন, এমনটা নয়।
তবে প্রেজেন্টেশন দেখানোর পর দু'জনের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়াই ম্যাচমেকারের দায়িত্বের শেষ। এরপর তারা নিজেদের মতো এগিয়ে নিয়ে যাবে সম্পর্ক। ম্যাচমেকার যদি পদে পদে ভুল শুধরানোর চেষ্টা করতে থাকেন, তবে যে কারও অনুভূতিই আঘাত পেতে পারে।