সহপাঠীদের ব্যঙ্গের শিকার সন্তান? পুণের ঘটনার পর এই উপসর্গ দেখলেই সাবধান
Sayani Sen
পুণেতে সহপাঠীদের ব্যঙ্গে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে ছাত্রী। স্কুলেই ঝাঁপ দিয়ে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘটনা দেখে আঁতকে উঠছেন অভিভাবকরা। স্কুলে সন্তান আদৌ ঠিকঠাক আছে তো, বারবার এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বাবা-মায়ের। এই ঘটনা দেখে শিক্ষা নিয়ে আরও সাবধানী হোন। আপনার সন্তানকে স্কুলে সহপাঠীদের ব্যঙ্গের শিকার হচ্ছে কিনা, সেদিকে খেয়াল রাখুন। জেনে নিন মুখে না বললেও কীভাবে বুঝবেন। এই সমস্যা নিরাময়ের উপায়ই বা কী?
সম্প্রতি 'স্প্রিংয়ার নেচার'-এর তরফে কমপক্ষে ১ লক্ষ ৩০ হাজার কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে সমীক্ষা করা হয়। তাতেই দেখা গিয়েছে উদ্বেগজনক ছবি। স্কুলে ব্যঙ্গের ফলে বহু ছাত্রছাত্রী উদ্বেগে ভোগে। কারও কারও রাতের ঘুমও উড়ে যায়। জেনে নেওয়া যাক উপসর্গগুলি কী?
আরও পড়ুন:
- আগে রোজ স্কুল যেত। অথচ দিনকয়েক যদি দেখেন আচমকা সন্তান স্কুল যেতে চাইছে না, তাহলে সাবধান হোন। সন্তানকে বকাঝকা করবেন না। তাকে জিজ্ঞাসা করুন কেন স্কুল যেতে চাইছে না। প্রয়োজনে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন।
- আচমকা যদি দেখেন আপনার স্কুলপড়ুয়া সন্তানের নানা ছোটখাট শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। ধরুন - সে বলছে মাথা যন্ত্রণা করছে কিংবা রাতে ঘুমোতে চাইছে না। বা সে অমনোযোগী হয়ে পড়েছে। তাহলে সাবধান হোন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে মনোবিদের কাছে যেতেও পিছপা হবেন না।
- আপনার সন্তান লোকজন পছন্দ করে। বাড়িতে কেউ আসলে তার সঙ্গে গল্পগুজব করে। অতিথি চলে গেলে দুঃখ পায়। এগুলি স্বাভাবিক উপসর্গ। তবে যদি দেখেন হঠাৎ তার আচরণে বদল এসেছে। কারও সঙ্গে দেখা করতে চাইছে না। একলা ঘরে নিজেকে বন্দি করে রেখে দিয়েছে। তবে কিছু একটা গন্ডগোল হয়েছে। কেন এমন আচরণে বৈপরীত্য তা নিয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন।
- স্কুলে ক্রমাগত ব্যঙ্গের ফলে তার মেজাজ বিগড়ে থাকতে পারে। সে আচমকা চিৎকার করে কাঁদতে পারে। কিংবা অল্পে রেগে গেলে সাবধানতা প্রয়োজন। স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজনে মনোবিদের পরামর্শ নিন।
- অনেক সময় দেখা যায় স্কুলে কেউ জোর করে তার উপর 'দাদাগিরি' করছে। কোনও জিনিসপত্র কেড়ে নিচ্ছে। সেক্ষেত্রে সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন। কোথায় হারিয়ে ফেলেছে, কেউ কেড়ে নিয়েছে কিনা সেসব জিজ্ঞাসা করুন।
খুদে এমন সমস্যায় ভুগলে চুপ করে বসে থাকবেন না। কারণ, কোনওদিন তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিন। স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন। মনোবিদের পরামর্শ নিন।