ক্রমশ বাড়ছে ডিভোর্সের প্রবণতা, নেপথ্যে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট-ফেসবুক পোস্ট!
Tiyasha Sarkar
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কেও যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে সোশাল মিডিয়া। অধিকাংশক্ষেত্রেই দুজনই কর্মরত। কোনও ক্ষেত্রে দেখা যায় কর্মসূত্রে স্বামী-স্ত্রী দুজনে থাকেন আলাদা শহরে। ফলে কথা বলার সময় কোথায়! অধিকংশেরই ভরসা হোয়াটসঅ্যাপ। গদগদ প্রেম হোক বা ঝগড়া, সবটাই হয় চ্যাটে। কেউ কেউ আবার মন খারাপ হলেই তা তুলে ধরেন ফেসবুকে। একই সঙ্গে বাড়ে অন্যের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা করার অভ্যাস। এই প্রবণতাই নাকি বাড়াচ্ছে ডিভোর্স। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিয়ে মানে একটা বন্ধন। ভুল-ত্রুটি মানিয়ে নিয়ে একে অপরের সঙ্গে গোটা জীবনটা পার করে দেওয়া। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, ক্রমশ বেড়েই চলেছে বিচ্ছেদের পরিমাণ। বিশেষজ্ঞদের মতে সম্পর্কে স্মৃতি ও ক্ষমা পরস্পরবিরোধী। যতক্ষণ আপনার স্মৃতিতে কোনও ক্ষত টাটকা থাকবে, ততক্ষণ আপনি চাইলেও ক্ষমা করে এগিয়ে যেতে পারবেন না। ঠিক যেমনটা হচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে। এক আইনজীবীর কথায়, “আজকাল কোনও কিছুই সত্যি সত্যি হারিয়ে যায় না। রাগের মাথায় পাঠানো একটি মেসেজ বহুবছর পরও চাইলেই খুঁজে পাওয়া যায়। বহু বছর আগের একটি ছবি কোনও আচমকা সামনে চলে আসতে পারে। যা নিমেষে আপনাকে পৌঁছে দেয় পুরনো সময়ে। যে ক্ষত ভুলে আপনি এগিয়ে গিয়েছিলেন, তা আবার ফিরে আসে নতুন করে। কিন্তু আগে তর্কাতর্কি হলে সেই সময়ই তা মিটে যেত।"
আরও পড়ুন:
আইনজীবী ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এছাড়াও ডিভোর্সে আরও প্রভাব রয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের। সোশাল মিডিয়ায় এখন সকলেই নিজের জীবনের প্রায় প্রতিটি মুহূর্ত তুলে ধরেন। কোথায় যাচ্ছেন, কোথায় খাচ্ছেন, কী পরছেন-সবটাই এখন জেনে যায় সকলে। অন্যদের জীবনের অত্যন্ত যত্নসহকারে সাজানো বা পরিমার্জিত রূপ প্রতিনিয়ত দেখার ফলে মানুষের মনে হতাশা তৈরি হয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জীবনে। বিশেষজ্ঞদের কথায়, “ছবির আড়ালে আসলে কী ঘটছে তা না জেনেই দম্পতিরা নিজেদের সম্পর্কের তুলনা করতে শুরু করেন।” এর ফলে নিজের দাম্পত্য নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। যা দুটো মানুষকে ক্রমশ দূরে সরাতে থাকে। এছাড়া সোশাল মিডিয়ায় বহু মানুষের সঙ্গে কথাবার্তার ফলে অনেকক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। যা মজবুত সম্পর্কও তাসের ঘরের মতো ভেঙে দিতে পারে নিমেষে।