এআইয়ের সাহায্যে ভয়ংকর বিস্ফোরক বানাচ্ছে বোকো হারাম, জঙ্গি হানার ছকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
Biswadip Dey
এআই দিনে দিনে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ঢুকে পড়েছে। লেখালেখি, গবেষণা- যে কোনও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এসব তার কাছে 'জলভাত'। কিন্তু সন্ত্রাসের কাজেও এখন ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা! কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় এমনটাই দাবি করা হয়েছে। নাইজেরিয়ার ভয়ংকর বোকো হারাম (Boko Haram) জঙ্গিরা নাকি এআই চ্যাটবটদের সাহায্যে হামলার ছক কষছে। এমনকী তৈরি করছে বিস্ফোরকও।
বোকো হারামের দুই উপগোষ্ঠী মিলিয়ে ২৭ জন প্রাক্তন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এই রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। তাতে জানা যাচ্ছে, হামলার আগে বা চলাকালীন এমনকী পরেও প্রযুক্তিগত ও সামরিক পরামর্শের জন্য নিয়মিতভাবে চ্যাটজিপিটি, ক্লড, গুগল জেমিনি, গ্রক, মেটা এআই এবং চিনের ডিপসিকের মতো এআই টুলগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। এই তথ্য সামনে আসতেই কার্যত চমকে উঠেছে ওয়াকিবহাল মহল। মনে করা হচ্ছে, আগামিদিনে জঙ্গি হানার ছবিটা আরও ভয়কংর হতে চলেছে এআইয়ের হাত ধরে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে, এআইয়ের ক্ষেত্রে তো অনেক রকম ব্যবস্থাই সংস্থার তরফে করা থাকে যাতে সংবেদনশীল তথ্য সে না দেয়। কিন্তু জানা যাচ্ছে, এআই-এর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বা সুরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে কীভাবে অস্ত্র-সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেই 'প্রশিক্ষণ' নিতে থাকে জঙ্গিরা। ক্রমশ তারা এতে পোক্ত হয়ে উঠছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
২০০২ সালে উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ার মাইদুগুরি শহরে বোকো হারামের। ২০০৯ সাল থেকে নাইজেরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু তাদের। সেই থেকেই একের পর এক হামলা ও নাশকতামূলক চক্রান্তে শিরোনামে তারা উঠে এসেছে বারবার। এবার তাদের নামের সঙ্গেই জুড়ে গেল এআইও।
আরও পড়ুন:
তবে কেবল বোকো হারামই নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে হাতিয়ার করে মারণাস্ত্রে সেজে উঠছে মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র সংগঠনগুলিও! সম্প্রতি এমনই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মার্কিন এআই সংস্থা অ্যানথ্রোপিক। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হাউথি সংগঠন সম্ভবত গাইডেড মিসাইলের সফটওয়্যার তৈরির জন্য অ্যানথ্রপিকের এআই চ্যাটবট ক্লাউড ব্যবহার করছে।