এআই গবেষণায় নতুন উদ্যোগ টিসিএস ও আইইএম কলকাতার, তৈরি হচ্ছে ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’
Utsa Tarafdar
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক গবেষণা, উদ্ভাবন এবং অ্যাপ্লায়েড লার্নিং প্রসারের উদ্দেশে একসঙ্গে কাজ করতে চলেছে টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (TCS) এবং কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (IEM)। দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হতে চলেছে এআই-কেন্দ্রিক ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ (Centre of Excellence - CoE)। এই উদ্যোগের লক্ষ্য, পড়াশোনার সঙ্গে বাস্তব শিল্পক্ষেত্রের প্রযুক্তিগত চাহিদার যোগসূত্র আরও মজবুত করা এবং ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ প্রস্তুতিকরণ।
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রকাশিত ঘোষণায় জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে দুই বছরের জন্য এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পড়ুয়া ও শিক্ষকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে হাতে-কলমে কাজ করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, বাস্তবক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির প্রয়োগ, গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রও তৈরি হবে।
আরও পড়ুন:
এই কেন্দ্রের মাধ্যমে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে প্রতিষ্ঠান দুটি। যার মধ্যে রয়েছে– কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কর্মশালা, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ, পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতাভিত্তিক সার্টিফিকেশন প্রভৃতি। এছাড়াও যৌথ গবেষণা, প্রাথমিক পর্যায়ের প্রযুক্তিগত পরীক্ষানিরীক্ষা বা প্রুফ অফ কনসেপ্ট (Proof of Concept) এবং শিল্পক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, টিসিএস-এর পেশাদারদের পরামর্শে সক্রিয় প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পাবেন আইইএম-এর পড়ুয়ারা। ফলে পাঠ্যক্রমের বাইরে বাস্তব সমস্যার সমাধান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। টিসিএস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিজনেস হেড (রিটেল, ইউরোপ) অভিজিৎ নিয়োগী জানিয়েছেন, আগামী দিনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে বাস্তব শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, আইইএম কলকাতার ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. সত্যজিৎ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, শিল্পক্ষেত্র ও সমাজের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাকে যুক্ত রাখাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। টিসিএস-এর সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগ পড়ুয়া ও শিক্ষকদের সে কাজে সাহায্য করবে, এ বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
দুই প্রতিষ্ঠানের আশা, 'সেন্টার অফ এক্সেলেন্স'-এর পরিধি ভবিষ্যতে আরও প্রসারিত হবে। এর ফলে পড়ুয়া, শিক্ষক ও টিসিএস-এর বিশেষজ্ঞদের কাছে জ্ঞান আহরণ, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি হবে। শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত শিল্পের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার এক মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে এই কেন্দ্র।