২০০ বছর পর পরিবারে কন্যা! রথে চেপে, ঢাকঢোল বাজিয়ে 'লক্ষ্মী' এল ঘরে, মুগ্ধ নেটপাড়া
Kishore Ghosh
'কন্য়াভ্রুণ হত্যা', 'কন্যা দায়গ্রস্ত পিতা', 'লিঙ্গ বৈষম্য' যে সমাজের চেনা বাক্যবন্ধ, সেখানেই রথ সাজিয়ে, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে, নাচ-গান করে শোভাযাত্রার সঙ্গে সদ্যোজাত কন্যা সন্তানকে ঘরে আনল মহারাষ্ট্রের একটি পরিবার। ২০০ বছর পর 'লক্ষ্মী' এল ঘরে, সেই কারণেই এলাহি আয়োজন, দাবি পরিবারের সদস্যদের।
চার প্রজন্ম পর বাড়িতে কন্যাসন্তান আগমনে আনন্দের বাঁধ ভেঙেছে বীড জেলার দহিফলে পরিবারের। সাধ করে মেয়ের নাম রাখা হয়েছে গার্গী। কন্যা সন্তান হয়েছে, জানার পরেই মা ও সদ্যোজাত মেয়েকে স্বাগত জানাতে এলাহি ব্যবস্থা হয়। সেই মতো হাসপাতাল থেকে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চেপে ঘরে এল গার্গী। রাস্তায় ঢাক-ঢোল বাজিয়ে, শোভাযাত্রা করে কন্যারত্ন প্রাপ্তির কথা সকলকে জানান দেয় পরিবারটি।
আরও পড়ুন:
গার্গীর দাদু লিম্বাজি দহিফলে নাতনিকে বাড়িতে নিয়ে আসার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, পরিবারে একটি মেয়ের জন্ম হওয়া অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। এত বছর ধরে পরিবারে মেয়ে সন্তান না থাকার যে আক্ষেপ ছিল, গার্গীর জন্মে সেই আক্ষেপ পূরণ হয়েছে। আরও বলেন, তাঁর দুই পুত্রবধূকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসেন। আজ গান-বাজনা ও নাচের তালে রথে চড়িয়ে নাতনিকে বাড়ি আনতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।
গার্গীর দিদা সুরেখা দহিফলে জানান, হাসপাতালে থাকাকালীনই পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নবজাতককে ধুমধাম করে বরণ করা হবে। তিনি বলেন, “আজ আমাদের ঘরে লক্ষ্মীর আগমন ঘটেছে, এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।” গার্গীর বাবাও বেজায় খুশি। তিনি বলেন, “সাধারণত মানুষ পুত্রসন্তান কামনা করে, কিন্তু কন্যাসন্তান লাভের অনুভূতি ও আনন্দই আলাদা। মেয়েরা সাধারণত বাবার ঘনিষ্ঠ হয়। আমরা মেয়েকে ফুলের মতো করে বড় করব।”
কন্যাসন্তানের জন্মকে এভাবে উদযাপনের জন্য পরিবারটির প্রশংসা করেছেন সমাজকর্মী অনন্ত ইংলে। এখনও সমাজের একাংশের মধ্যে কন্যাসন্তানের জন্ম নিয়ে সংকীর্ণতা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গার্গীর জন্মকে উদযাপন করে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে দহিফালে পরিবার। এভাবেই হয়তো একদিন 'কন্য়াভ্রুণ হত্যা', 'কন্যা দায়গ্রস্ত পিতা', 'লিঙ্গ বৈষম্যে'র মতো বাক্যবন্ধের অপমৃত্যু হবে এদেশে, বলছে মুগ্ধ নেটপাড়া।