মেট্রোয় চাকরি পেল বিড়াল! স্টেশন চত্বরে দিনরাত নজরদারি চালিয়ে এখন 'বস' চারপেয়ে
Sucheta Sengupta
দেশে নাকি কাজের খুব অভাব, বেকারত্ব বাড়ছে! আবার নিয়োগকারীদের অভিযোগ, দক্ষ-পেশাদার কর্মীর সংখ্যা খুবই কম। তাই ভালো বেতন দিলেও ভালো কর্মী পাওয়া যায় না। সংস্থার চাহিদা আর দক্ষ কর্মীদের মাঝে এতই যখন ফাঁক, সেই ফাঁক গলেই বোধহয় একটা চাকরি হাতিয়ে নিল বিড়াল! শুনে আশ্চর্য হলেন? ঘটনা কিন্তু সত্যি। কাজের প্রতি বিড়ালের নিষ্ঠা দেখে তাকে সাম্মানিক পদ দিয়েছে মুম্বইয়ের মেট্রো কর্তৃপক্ষ। রীতিমতো 'বস' হয়ে বসেছে হলুদ রঙের শান্তশিষ্ট বিড়ালটি। তাকে এতদিন দেখলেও মেট্রোযাত্রীরা তেমন আমল দেননি। মেট্রো স্টেশন ও আশপাশে এমন কত চারপেয়েই তো ঘোরাফেরা করে। এ আর এমন কী? কিন্তু মেট্রোয় চাকরি পাওয়ার পর হলদে বেড়ালের গুরুত্বই বেড়ে গিয়েছে।
মজার ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বইতে। মহা মুম্বই মেট্রো অপারেশন কর্পোরেশন লিমিটেডের অন্তর্গত গুন্ডাভালি স্টেশন। এখানেই দিনরাত থাকে হলুদ রঙের বেড়ালটি। হাবভাব এমন যেন সকলকে নজরে রাখছে। মেট্রো স্টেশনে প্রতিদিন এত মানুষ যাতায়াত করেন, তাঁরা সকলেই দেখতে পায় শান্ত মার্জারটিকে। বেশিরভাগ সময়ে সে চুপচাপ বসে থাকে। কখনও ফাঁকা জায়গা পেলে টানটান হয়ে শুয়ে পড়ে। কখনও আবার একা একা আপন মনে খেলে। চলাফেরা করতে তাকে খুব কমই দেখেছেন যাত্রীরা। যদি মেট্রো স্টেশন থেকে এদিক-ওদিক গেলে কেউ তার নজরদারির আওতার বাইরে চলে যায়, সম্ভবত সেই কারণেই তার এমন স্থবিরতা।
আরও পড়ুন:
দীর্ঘদিন ধরে গুন্ডাভালি মেট্রো স্টেশন দিয়ে যাতায়াতের কারণে বিড়ালটিকে দেখছেন সন্দেশ সামন্ত নামে এক যাত্রী। একদিন তিনি এহেন 'অতন্দ্রপ্রহরী'র ছবি তুলে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। মহা মুম্বই মেট্রো অপারেশন কর্পোরেশন লিমিটেড বা এমএমএমওসিএল-কে ট্যাগ করে আবেদন জানান, দিনরাত একমাত্র এই বিড়ালই পাহারা দেয় মেট্রো স্টেশনটি, কোনও ফাঁকি নেই এতে। তাই তাকে মেট্রো কর্তৃপক্ষ একটা চাকরি দিক।
ব্যাপারটা মজার হলেও সন্দেশের বার্তা বেশ গুরুত্ব সহকারে দেখেছে কর্তৃপক্ষ। পরেরদিনই একটি পোস্ট দিয়ে তারা জানিয়েছে, 'এই হল আমাদের মুখ্য মার্জার আধিকারিক বা চিফ ফেলাইন অফিসার। এর অনেক দায়িত্ব - গোটা স্টেশন পরিদর্শন, যাত্রীদের উপর নজর রাখা এবং ঠিক জায়গামতো বসা, যাতে সকলে তার গুরুত্ব বোঝে ও প্রশংসা করে। এখনও পর্যন্ত সে বেশ ভালো পারফরম্যান্স করেছে।'
ঘটনা বেশ মজার এবং যাত্রীদের মনোরঞ্জনকারী নিঃসন্দেহে। কিন্তু সমস্যাও আছে। সাধারণত মেট্রো স্টেশনের স্থায়ী বাসিন্দা হয় না কোনও চারপেয়ে। তারাও যাত্রীদের মতো যাতায়াত করে। আবার এসব প্রাণীদের অনেকে পছন্দও করেন না। তাই গুন্ডাভালি মেট্রো স্টেশনে সারাক্ষণ এই চিফ ফেলাইন অফিসারকে দেখে তাঁদের কী মনোভাব হবে, সেটা ভাবনার বিষয়। এখনও পর্যন্ত সিএফও-র কোনও নির্দিষ্ট ঘর নেই, নেই পরিচয়পত্রও। কারণ, সারাদিন তার কাজ তো ঘুরে ঘুরে সব নজরে রাখা।