দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
YouTuber’s Haridwar Experiment

ভিখারি সেজে ৮ ঘণ্টায় উপার্জন ৪০০০! ইউটিউবারের কীর্তিতে নেটজগতে বিতর্ক

ধর্মীয় স্থান ও পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে ভিক্ষাবৃত্তি কি ক্রমশ একটি জীবিকা বা সংগঠিত ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে? প্রশ্ন তোলেন অনেকে।
Utsa Tarafdar
04:07 PM Aug 22, 2026 IST
ধর্মীয় স্থান ও পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে ভিক্ষাবৃত্তি কি ক্রমশ একটি জীবিকা বা সংগঠিত ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে? প্রশ্ন তোলেন অনেকে।
সুত্রঃ ইন্টারনেট।

কেবল ভিক্ষা করে কি মানুষের সংসার চলে? খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি এক সামাজিক পরীক্ষা চালান জনৈক ইউটিউবার। হরিদ্বারের কাঁওড় মেলায় ভিক্ষা করে একজন ভিক্ষুক দিনে ঠিক কত টাকা উপার্জন করতে পারেন, সেটাই ছিল পরীক্ষার উদ্দেশ্য। সেই অভিজ্ঞতার ভিডিও এক্স হ্যান্ডেলে ভাইরাল হয়েছে ইতিমধ্যেই (YouTuber’s Haridwar Experiment)।

ইউটিউবার পুরুষোত্তম বশিষ্ঠ ও তাঁর বন্ধু শচীন এই পরীক্ষাটি করেন। ভিক্ষুকের পোশাকে শচীন নিজেই পরীক্ষায় অংশ হয়ে ওঠেন। ছেঁড়া পোশাক পরে, মুখে ময়লা মেখে, ছোট বাটি হাতে হাজির হন মেলায়। এমনকী গলায় একটি UPI QR কোডও ঝুলিয়ে নেন। এরপর ভিড়ে ঠাসা মেলায় ঘুরতে থাকেন দিগভ্রান্তর মতো।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা ভেবেছিলেন শচীন হয়তো সারাদিনে খুব বেশি হলে ১-২ হাজার টাকা উপার্জন করতে পারবেন। প্রথম কয়েক ঘণ্টায় আয় ছিল খুবই কম। অনেকেই ফিরিয়ে দেন, অনেকেই যদিও সাহায্য করেন। সত্যিকারের ভিক্ষুকদের পাশে বসেও কিছু সময় কাটান তিনি। চার ঘণ্টায় উপার্জন মোটামোটি ৮০০ টাকায় এসে পৌঁছয়। এরপরও পরীক্ষা চলতে থাকে।

পরীক্ষার শেষে পুরুষোত্তম ও শচীন ক্যামেরায় জানান, তাঁরা প্রায় ৪,০০০ টাকা সংগ্রহ করতে পেরেছেন। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, কেউ যদি প্রতিদিন একই পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারেন, তাহলে এক মাসে প্রায় ১.২ লক্ষ টাকা আয় হতে পারে। আরও দীর্ঘ সময় ধরে ভিক্ষা করা গেলে হয়তো তা ৩ লক্ষের কাছে পৌঁছে যাবে। যদিও এর জন্য শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমে বিধ্বস্ত হতে হয়, এ কথাও জানান তাঁরা। সবশেষে তাঁরা দর্শকদের ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে না নেওয়ার পরামর্শ দেন এবং তার পরিবর্তে সৎভাবে কাজ করে উপার্জনের করা বলেন।

তবে ভিডিও ভাইরাল হতেই ছুটে আসে বিতর্কের ঝড়। অনেকেই দাবি করেন যে ভারত জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভিক্ষুকদের বেশিরভাগই আসলে অত্যন্ত ধনী। এমনকী ইন্টারনেটও সায় জানায় সেই যুক্তিতেই। যেমন, ভারতের সবচাইতে ধনী ভিক্ষুক ভরত জৈনের বর্তমান নেট ওয়ার্‌থ সাড়ে ৭ কোটি। লক্ষ্মী দাস, সাম্ভাজী কালে, সারভাতিয়া দেবী প্রত্যেকেই রয়েছেন ধনী ভিক্ষুকদের তালিকায়।

কিন্তু ভিক্ষুক মাত্রেই কি সে ধনী হবে? রয়ে যায় এই প্রশ্নও। ব্যক্তিটি কোথায় বসে ভিক্ষা করছেন, সে সময় কোনও উৎসব কিংবা মেলা চলছে কি-না, সবই নির্ভর করে এর ওপর। ধর্মীয় স্থান ও পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে ভিক্ষাবৃত্তি কি ক্রমশ একটি জীবিকা বা সংগঠিত ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে? সে প্রশ্নও তোলেন অনেকে। আবার সাধারণ মানুষের বিশ্বাস জিতে ভুল পথে ৪০০০ টাকা উপার্জনকেও অন্যায় বলে দায়ী করেন অনেকেই। তবে যে সামাজিক পরীক্ষা চালান পুরুষোত্তম-শচীন, তা যে সফল সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Beggars
Advertisement
Tags :
Beggars

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন