দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Jaipur Ganesh Temple

মেহেন্দিতে হাত ছোঁয়ালেই বছর ঘুরতে বিয়ে! গণেশ মন্দিরে ঢল নামল ১৮ লক্ষ ভক্তের

মোতি ডুংরি মন্দিরের এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি ‘সিঞ্জারা’ বা ‘সিনজারা’ উৎসব নামে পরিচিত। এই সময়ে ভগবান গণেশকে মেহেন্দি নিবেদন করা হয়। পুজোর পরে সেই মেহেন্দিই প্রসাদ হিসেবে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
Utsa Tarafdar
01:37 PM Sep 18, 2026 IST
মোতি ডুংরি মন্দিরের এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি ‘সিঞ্জারা’ বা ‘সিনজারা’ উৎসব নামে পরিচিত। এই সময়ে ভগবান গণেশকে মেহেন্দি নিবেদন করা হয়। পুজোর পরে সেই মেহেন্দিই প্রসাদ হিসেবে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে ভক্তরা সংগ্রহ করে এই মেহেন্দি।

এই মেহেন্দিতে হাত ছোঁয়ালেই নাকি বছর ঘুরতে বেজে উঠবে বিয়ের সানাই! সত্যি নাকি? অন্তত সাধারণ মানুষ তাই বিশ্বাস করে। আর তাই এই বিশেষ মেহেন্দির নাগাল পেতে বছরের একটি দিনেই ভিড় করে লক্ষাধিক মানুষ! কোথায় রয়েছে এমন প্রথা? জেনে নেওয়া যাক গোড়ার থেকে।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

রাজস্থানের জয়পুরে রয়েছে এক বিশেষ মন্দির, নাম ‘মোতি ডুংরি মন্দির’। এখানে অধিষ্ঠান করেন স্বয়ং গণপতি। প্রতি বছরই গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে ‘মেহেন্দি উৎসব’ পালিত হয় এখানে। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, প্রায় ২০০ বছর ধরে এমন রীতি পালন করা হয় এইখানে। অন্য কোনও প্রসাদ নয়, এই মেহেন্দির অংশ সংগ্রহ করতেই প্রতি বছর ভক্তদের ঢল নামে এখানে (Jaipur Ganesh Temple)।

এই মেহেন্দি পেতে পারেন যে কেউ, তবে অবিবাহিত নারীরাই এই তালিকায় থাকেন সবার আগে। মনে করা হয়, দীর্ঘদিনের চেষ্টাতেও বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারছেন না যারা, অথবা বিয়ের জন্য যারা সুযোগ্য পাত্র খুঁজছেন, তাঁদের সমস্যার সমাধান করতে পারে এই অতিসাধারণ মেহেন্দিই। এমনিতে বিয়ের সাজের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে হাতে মেহেন্দি পরার রীতি। অনেকেই স্বামীর নামের আদ্যক্ষর লুকিয়ে রাখেন হাতের মেহেন্দির নকশায়। বিয়ের রাতে তা খুঁজে বের করার দায়িত্ব থাকে স্বামীরই। আবার স্বামী ভালবাসলে তবেই ঠিকমতো গাঢ় হয় মেহেন্দির রঙ, এই বিশ্বাস রাখেন অনেকেই।

মোতি ডুংরি মন্দিরের এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি ‘সিঞ্জারা’ বা ‘সিনজারা’ উৎসব নামে পরিচিত। এই সময়ে ভগবান গণেশকে মেহেন্দি নিবেদন করা হয়। পুজোর পরে সেই মেহেন্দিই প্রসাদ হিসেবে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। স্থানীয় বিশ্বাস, গণেশের চরণে নিবেদিত এই মেহেন্দি হাতে লাগালে বিয়ের পথে থাকা বাধা দূর হয়। চলতি বছরে গণেশ চতুর্থীর দিন প্রায় ১৮ লক্ষ মানুষ জড় হন এই মন্দিরে।

এ বছর সোজত থেকে প্রায় ৩,৫০০ কেজি মেহেন্দি আনা হয়েছিল। মন্দিরে ‘মেহেন্দি পূজন’-এর পর তা প্রসাদ হিসেবে বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু ভক্তদের ঢল এতটাই বেশি হয় যে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিতরণ শুরু করতে হয়। সূত্র জানায়, প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যেই সমস্ত মেহেন্দি শেষ হয়ে যায়। এই বিশেষ মেহেন্দির ছোঁয়া পেতে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন।

চলতি বছরে প্রস্তুত করা হয়েছিল প্রায় ৩৫০০ হাজার কেজি মেহেন্দি।

অনুমান করা হয়, এই বছরের ভিড়ের নেপথ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকাও কম নয়। মেহেন্দি গ্রহণ করলেই যে দ্রুত বিয়ে হবে, এমন দাবিতে প্রচুর রিল ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে সাম্প্রতিককালে। ফলে দিল্লি, চণ্ডীগড়, ইন্দোর, ভোপাল, আগ্রা-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ভক্তরা পৌঁছেছিলেন বলে জানা যায়।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Ganesh ChaturthiGanesh Idol
Advertisement
Tags :
Ganesh ChaturthiGanesh Idol

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন