দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Purattasi Sani

অভাব অনটন, বিবাহে বাধা? ‘পুরট্টাসি সানি’ পুজোয় দূর হবে বিঘ্ন, জানাচ্ছে শাস্ত্র

ভক্তদের একাংশ মনে করেন, এই মাসেই ভগবান ভেঙ্কটেশ্বর বৈকুণ্ঠ থেকে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তাই তিরুপতি সহ বিভিন্ন বিষ্ণু মন্দিরে এই সময়ে বিশেষ পুজো ও উৎসবের আয়োজন করা হয়।
Utsa Tarafdar
01:51 PM Sep 21, 2026 IST
ভক্তদের একাংশ মনে করেন, এই মাসেই ভগবান ভেঙ্কটেশ্বর বৈকুণ্ঠ থেকে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তাই তিরুপতি সহ বিভিন্ন বিষ্ণু মন্দিরে এই সময়ে বিশেষ পুজো ও উৎসবের আয়োজন করা হয়।
এই সময় অনেক ভক্তই কঠিন উপবাস পালন করে।

শনিদেবের পুজো যাঁরা নিয়মিত করেন, তাঁরা জানেন এ নেহাত সহজ কাজ নয়। ভক্তের পরীক্ষা নেন শনিবার, তুষ্ট হলে ভরিয়ে দেন আশীর্বাদে। চলতি মাসে তাই তামিল নাড়ু জুড়ে মহা ধুমধামে চলবে শনিদেবের পুজো। বাংলায় যা আশ্বিন, তামিল ক্যালেন্ডারে তারই নাম পুরট্টাসি মাস। বাংলায় এ সময় পিতৃপক্ষ চলে, উত্তর ভারতের অন্যান্য জায়গায় চলে নবরাত্রির প্রস্তুতি।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

তামিল নাড়ুতে এ সময়েই ভগবান ভেঙ্কটেশ্বর বা তিরুপতির বালাজির পুজো করা হয়। পুরট্টাসি মাসের শনিবারগুলি পরিচিত ‘পুরট্টাসি সানি' নামে (Purattasi Sani)। তামিল ভাষায় ‘সানি’ শব্দটি এসেছে ‘সানিকিঝামাই’ থেকে, যার অর্থ শনিবার। চলতি ২০২৬ সালে পুরট্টাসি মাসের শনিবারগুলি হল ১৯ সেপ্টেম্বর, ২৬ সেপ্টেম্বর, ৩ অক্টোবর, ১০ অক্টোবর এবং ১৭ অক্টোবর।

ভক্তদের একাংশ মনে করেন, এই মাসেই ভগবান ভেঙ্কটেশ্বর বৈকুণ্ঠ থেকে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তাই তিরুপতি সহ বিভিন্ন বিষ্ণু মন্দিরে এই সময়ে বিশেষ পুজো ও উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই মাসে অনেক ভক্ত নিরামিষ খাবার খান। তামিল নাড়ুতে সাধারণত পিঁয়াজ-রসুনকে আমিষের তালিকায় ধরা হয় না। তবে সেসবও খাবারে এড়িয়ে চলেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার সম্পূর্ণ উপবাস পালন করেন এই মাসের প্রতিটি শনিবার। এই সংযম যেন হয়ে ওঠে শরীর ও মনকে শুদ্ধ রাখার এক আধ্যাত্মিক অনুশীলন।

‘পুরট্টাসি সানি বিরথম’ অর্থাৎ শনিবারের ব্রত পালনের সঙ্গে ভগবান শনি এবং ভেঙ্কটেশ্বরকে ঘিরে একটি প্রচলিত কাহিনিও রয়েছে। কথিত আছে, তিরুমালায় এক দরিদ্র ভক্ত কঠিন সময়ের মধ্যেও ভেঙ্কটেশ্বরের উপাসনা চালিয়ে যেতেন। শনির সাড়ে সাতির প্রভাবে নানা সমস্যার মুখোমুখি হলেও তাঁর ভক্তিতে কোনও পরিবর্তন আসেনি। তাঁর নিষ্ঠায় সন্তুষ্ট হয়ে ভেঙ্কটেশ্বর তাঁকে রক্ষা করেন। এরপর থেকেই বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে যে, পুরট্টাসি শনিবারে নিষ্ঠাভরে ভেঙ্কটেশ্বরের পুজো করলে শনির অশুভ প্রভাব কমে।

এই ব্রতে উপবাসের পাশাপাশি বিশেষ পুজো ও নৈবেদ্য দেওয়ার রীতি রয়েছে। মাভিলাক্কু, মিষ্টি পঙ্গল, পুলিয়োদরাই, সুন্দল, নারকেল ভাত, দই ভাত, তিল ভাত এবং বড়া-সহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার ভগবানকে নিবেদন করা হয়। কলাপাতায় খাবার সাজানো, প্রদীপ জ্বালানো, মন্ত্রপাঠ ও বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠও এই পুজোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই মাসে ঈশ্বরকে নিবেদিত পবিত্র ভোগ।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পুরট্টাসি সানি বিরথম পালন করলে ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করা যায়। বিভিন্ন বাধা, আর্থিক সমস্যা, অসুস্থতা দূর হয়। বিয়েতে বাধা থাকলে তাও কেটে যায় বলে ধারণা ভক্তদের। তবে কেবল একটি মাসেই শেষ হয় না ঈশ্বরভক্তির গুরুদায়িত্ব। সংযম, নিয়মিত প্রার্থনা ও সহজ-সরল জীবনযাপনের অভ্যাস ধরে রাখতে হয় বছরভর।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Hindu ReligionShani Dev
Advertisement
Tags :
Hindu ReligionShani Dev

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন