সন্ধেয় বন্ধ পুরীর মন্দিরের দরজা, চূড়ান্ত গোপনীয়তায় পালিত হবে কোন রীতি?
Sayani Sen
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পালিত হবে বিশেষ রীতি। চূড়ান্ত গোপনীয়তায় 'বনকালাগি' রীতি পালন করা হবে। আর সে কারণে বুধবার সন্ধে ৬টা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ থাকবে পুরীর জগন্নাথ মন্দির (Puri Jagannath Temple)। প্রতি বছর এই রীতি পালন করা হয়।
স্নানযাত্রায় ১০৮ ঘড়া জলে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে স্নান করানো হয়। তাতে দুধ, মধুও থাকে। স্নানযাত্রার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁরা। নষ্ট হয় বিগ্রহের রংও। আবারও নতুন করে রং করা হয় জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা। এই রীতিই হল 'বনকালাগি'। এই রীতি শ্রীমুখ শৃঙ্গার নামেও পরিচিত। শ্রীমুখ হল দেবতার পবিত্র মুখ। শৃঙ্গার দেবতার সাজসজ্জা। জগন্নাথদেবের মুখমণ্ডলকে বিশেষ প্রাকৃতিক রঙে সাজিয়ে তোলাই হয় 'বনকালাগি'। এই রীতি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? কারণ, জগন্নাথ কেবল বিগ্রহ নয়। জীবন্ত সত্ত্বা বলেই বিশ্বাস করেন ভক্তরা। তিনি ভক্তদের আগলে রাখেন। তাই 'বনকালাগি' রীতির মাধ্যমে তাঁর সেবা করা উচিত বলেই মনে করেন সেবায়েতরা।
আরও পড়ুন:
কী কী রং ব্যবহার করা হয়? মূলত চারটি রং ব্যবহার করা হয়। লাল, হলুদ, সাদা এবং কালো রং ব্যবহার করা হয়। প্রত্যেক রঙের আলাদা আলাদা অর্থ। সাদা হল পবিত্রতা এবং শুভ্রতার প্রতীক। লাল জীবনশক্তির প্রতীক। হলুদ সমৃদ্ধি ও জ্ঞানের প্রতীক। কালো অনন্তকাল এবং পরম সত্যের প্রতীক। শাঁখ দিয়ে তৈরি হয় সাদা রং, হরিতালের হলুদ, হিঙ্গুলের লাল এবং খাঁটি কালো উপাদান জগন্নাথকে সাজাতে ব্য়বহার করা হয়। বলরাম এবং সুভদ্রাকে নতুন করে রং করা হয়। শ্রীমুখ শৃঙ্গারের কাজ করেন বিশেষ কয়েকজন সেবায়েত। তাঁরা 'দত্ত মহাপাত্র' বলা হয়। এই সেবায়েতরাই কেবলমাত্র গর্ভগৃহে ঢুকতে পারেন। শৃঙ্গারে সময় লাগে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা। শৃঙ্গারের পর জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রাকে রত্নবিছানার উপর রাখা হয়। সিংহাসনে রাখা হয় সুদর্শনকে। সবশেষে নবযৌবন রূপের দর্শন পান ভক্তরা।