শুধু ভাই নয়, স্বামীকেও পরানো যায় রাখি! আসল কারণ জানলে চমকে উঠবেন
Buddhadeb Halder
রাখিবন্ধন বললেই চোখে ভাসে মিষ্টির থালা। রেশমি সুতো। আর দাদা-ভাইয়ের কাছ থেকে বোনের উপহার আদায়ের মিষ্টি আবদার। কিন্তু গিন্নি যদি হঠাৎ প্লেটভর্তি মিষ্টি আর রাখি হাতে আপনার দিকে এগিয়ে আসেন, তাতে চমকে ওঠার কিছু নেই! আজকাল বরের হাতে রাখি বাঁধার চল রয়েছে। ঘরের বউদের নিজের স্বামীকেই রাখি পরাতে দেখা যাচ্ছে আকছার। অবিশ্যি, স্বামীর হাতে রক্ষাসূত্র বাঁধার এই 'ট্রেন্ড' আজকের নয়, বরং বেশ পুরনো।
আমাদের ধারণা, রাখি শুধুই ভাই-বোনের উৎসব। অথচ হিন্দু শাস্ত্র কিন্তু তা বলছে না! শাস্ত্র মতে, ‘রক্ষাসূত্র’ আসলে সুরক্ষা ও স্নেহের এক অমোঘ কবচ। এর পরিধি কেবল ভাই-বোনের সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নয়। ‘ভবিষ্য পুরাণ’-এর একটি গল্পের কথা ধরা যাক। দানবদের সঙ্গে দেবতাদের যখন তুমুল যুদ্ধ চলছে, তখন চরম সংকটে পড়েছিলেন দেবরাজ ইন্দ্র। এদিকে স্বামীর জয় ও সুরক্ষার কামনায় ব্যাকুল হয়ে ওঠেন দেবী ইন্দ্রাণী। তিনি তখন ইন্দ্রের কবজিতে একটি বিশেষ রক্ষাসূত্র বেঁধে দেন। সেই সুতোর প্রভাব ও আশীর্বাদেই যুদ্ধে জয়ী হন ইন্দ্র। অর্থাৎ, পুরাণের পাতায় স্বয়ং দেবরাজকেই প্রথম রাখি পরিয়েছিলেন তাঁর সহধর্মিণী!
আরও পড়ুন:
দাম্পত্যে সুরক্ষার অঙ্গীকার
বিবাহবন্ধনে স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক। দু’জনেই দু’জনের রক্ষক। তাই কোনও স্ত্রী যদি স্বামীর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করে তাঁর হাতে রাখি বাঁধেন, তবে তাতে শাস্ত্রের কোনও মানা নেই। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বন্ধন গাঢ় করতেই এই প্রথা মেনে চলা যায়।
২০২৬ রাখিবন্ধনের দিনক্ষণ ও চন্দ্রগ্রহণ
চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে আগামী ২৮ আগস্ট, শুক্রবার পালিত হবে রাখিবন্ধন উৎসব। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী ভদ্রাকাল সূর্যোদয়ের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই সকাল থেকেই সূচিত হবে শুভ সময়।
তিথি সূচনা: ২৭ আগস্ট, সকাল ৯:০৮ মিনিট।
তিথি সমাপ্তি: ২৮ আগস্ট, সকাল ৯:৪৮ মিনিট।
শুভ মুহূর্ত: ২৮ আগস্ট, সকাল ৫:৫৭ থেকে ৯:৪৮ মিনিট পর্যন্ত (মোট ৩ ঘণ্টা ৫১ মিনিট)।
কাকতালীয়ভাবে এই দিনেই বছরের শেষ চন্দ্রগ্রহণ ঘটতে চলেছে। গ্রহণের সময়সীমা সকাল ৬:৫৩ থেকে দুপুর ১২:৩১ মিনিট পর্যন্ত। তবে স্বস্তির খবর হল, এই গ্রহণ ভারতে দৃশ্যমান নয়। ফলে কোনও ‘সূতক কাল’ বা ধর্মীয় কড়াকড়ি থাকছে না। নিশ্চিন্ত মনেই স্বামীদের হাতে বাঁধতে পারেন রক্ষাসূত্র!