মুণ্ডচ্ছেদের আগে যেমন ছিলেন গণেশ! দেশের একমাত্র এই মন্দিরে সেই রূপেই পূজিত হন গণপতি
Utsa Tarafdar
সম্প্রতি সারা ভারত জুড়ে পূজিত হয়েছেন গণপতি। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে তিনি যে জনপ্রিয়তম দেবদেবীদের মধ্যে অন্যতম, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভারত তথা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে তাঁর মন্দির। ক্ষেত্রবিশেষে পুজোর রীতি কিংবা মূর্তির নির্মাণে তফাৎ থাকলেও গণেশ মাত্রেই যে তাঁর মাথাটি হাতির হবে, এ আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
কিন্তু তামিলনাড়ুতে রয়েছে এমন এক মন্দির (Tamil Nadu Temple), যেখানের বিগ্রহটিকে দেখলে প্রাথমিক দর্শনে তা কোনওভাবেই গণেশের বলে মনে হয় না। কেন? কারণ এই মন্দিরে গজাননের শুঁড় নেই, এমনকি মাথাটিও হাতির নয়! বরং অন্যান্য সিংহভাগ দেবদেবীর মতো মানুষের আদলেই নির্মিত তাঁর মুখাবয়ব। তামিলনাড়ুর থিলাথর্পণপুরী এলাকায় অবস্থিত আদি বিনায়ক মন্দিরের এই আশ্চর্য বিগ্রহই বর্তমানে সোশাল মিডিয়ায় নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। এখানে গণেশকে পূজা করা হয় ‘নর মুখ বিনায়ক’ নামে—অর্থাৎ মানুষের মুখবিশিষ্ট বিনায়ক।
আরও পড়ুন:
প্রচলিত পুরাণকথায়, পার্বতী গণেশকে সৃষ্টি করেছিলেন নিজের দেহের ময়লা থেকে। বালক গণেশকে রেখে স্নানে গিয়েছিলেন তিনি, বলে গিয়েছিলেন, তিনি স্নান করে না ফেরা পর্যন্ত আর কাউকে যেন সে পথা আসতে না দেওয়া হয়। মায়ের আদেশ একাগ্রচিত্তে পালন করেন গণেশ। মহাদেব সে পথে যেতে চাইলে, গণেশ তাঁরও পথ আটকে দাঁড়ান। গণেশকে যে পার্বতীই সৃষ্টি করেছিলেন, তা জানতেন না মহাদেব। এক পর্যায়ে ক্রুদ্ধ হয়ে তাই আঘাত হানেন গণেশের ওপর। আঘাতে গণেশের মাথাটি বিচ্ছিন্ন হয়। পরে তাঁর দেহে হাতির মস্তক স্থাপন করে তাঁকে পুনর্জীবিত করা হয়।
মন্দিরটি মুক্তীশ্বরর মন্দির চত্বরে, কোঠানুরের কাছে থিলাথর্পণপুরীতে অবস্থিত। স্থানীয় ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশের হাতির মাথা পাওয়ার আগের রূপই এখানে পূজিত হয়। পৃথিবীর আর কোথাও এই রূপটির পুজো হয় বলে জানা যায় না। মূর্তিটির আর একটি বিশেষত্ব হল, সেটির আকার ও অলংকরণ। বিভিন্ন প্রতিবেদন জানায়, প্রায় ৫ ফুট উচ্চতার এই বিগ্রহের কোমরে রয়েছে নাগাভরণম, অর্থাৎ সাপের অলংকার। অনুমান করা যায়, এই প্রাচীন মন্দিরের স্থাপনা সপ্তম শতকে।
আশ্চর্য গণেশ মূর্তিটি ছাড়াও আরও নানা কারণে ধর্মীয় গুরুত্ব পেয়েছে এই মন্দিরটি। থিলাথর্পণপুরীতে মানুষ আসে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ বা পিতৃকর্ম সম্পাদনের জন্যও। ‘থিল’ ও ‘তর্পণ’ শব্দের সঙ্গে যুক্ত এই নাম থেকেই জায়গাটির ধর্মীয় পরিচয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিভিন্ন সূত্র জানায় যে স্থানীয় বিশ্বাস রয়েছে, এখানে নাকি রামচন্দ্রও পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ করতে এসেছিলেন।