রহস্যে ঘেরা এরিয়া ৫১! আমেরিকার এই মরু অঞ্চলে সত্যিই নামে ভিনগ্রহীরা?
আমেরিকা নাকি এখানেই গোপনে পরমাণু পরীক্ষা চালায়!
Biswadip Dey
08:22 PM Sep 29, 2026 IST
-
-
ঠিক কী মিথ রয়েছে এই স্থানকে ঘিরে? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে পশ্চিম আমেরিকার নেভাদা মরুভূমির এই অঞ্চলটি দখল নেয় মার্কিন সেনা। উদ্দেশ্য, মূলত গোপন সামরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা। রুপো ও শিসার খনি ছিল গ্রুম লেকের নিকটবর্তী এই অঞ্চল একটা সমতল ভূমি। আর সমতল বলেই একে অনায়াসে বিমানের রানওয়ে হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
-
রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার ‘কোল্ড ওয়ার’ শুরু হলে ১৯৫৫ সালে এর নাম দেওয়া হয় এরিয়া ৫১। এখানেই তৈরি হয়েছিল ইউ-২ বিমান। দাবি ছিল, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭০ হাজার ফুট উঁচুতে উড়তে পারা ওই বিমান ফাঁকি দেবে রাশিয়াকে। যদিও বহু প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, এখানকার আশপাশে নাকি ভিনগ্রহীদের উড়ন্ত চাকি দেখা গিয়েছে। আর তাকে ঘিরেই ঘনাতে থাকে নানা গুঞ্জন।
-
মার্কিনদের তৈরি এ-১২ বিমান এখানেই তৈরি হয়। মাটি থেকে ৯০ হাজার ফুট উঁচুতে ২২০০ কিমি প্রতি ঘণ্টার দুরন্ত গতিতে ওড়ার ফলে কোনও রাডারের সাধ্য রইল না এর টিকিটিরও আন্দাজ পাওয়া! পুরো আমেরিকাকে চক্কর লাগাতে লাগত ৭০ মিনিট। সাংবাদিক অ্যানি জেকবসেনের দাবি, ‘‘টাইটানিয়ামের শরীর আর ওই বুলেটের মতো গতি! সূর্যের আলোয় বিমানটির বিচ্ছুরণ দেখলে যে কারওই মনে হবে ওটা ইউএফও।’’
-
চাঁদে নামার মিথ্যে গল্পের পটভূমি হিসেবেও এরিয়া ৫১-কে বেছে নেন 'ষড়যন্ত্রকারী'রা। রাশিয়াকে মাত দিতেই নাকি মার্কিন বিজ্ঞানীরা চক্রান্ত করেছিলেন। আদৌ চাঁদে যাননি নিল আর্মস্ট্রংরা। এরিয়া ৫১-এর জমিই হয়ে উঠেছিল নকল চাঁদের মাটি! যদিও ইউএফও-র মতো এই দাবিও নস্যাৎ করে দিয়েছে আমেরিকা। NASA নানা যুক্তির সাহায্যে প্রমাণ করেছে চাঁদে সত্যি সত্যিই পা রেখেছিলেন মহাকাশচারীরা।
-
এরিয়া ৫১-এ সাধারণের প্রবেশ নিষেধ। মার্কিন সেনা সবসময় ঘিরে রাখে এই অঞ্চল। ফলে যত সময় গিয়েছে ততই বেড়েছে কৌতূহল। গত ফেব্রুয়ারিতে অবশ্য প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছিলেন, “এরিয়া-৫১ কোনও ভিনগ্রহীকে লুকিয়ে রাখা হয়নি। এবং এখানে কোনও গোপন সামরিক ঘাঁটিও নেই বলেই জানি।” তবে এরপরও ওই অঞ্চল ঘিরে জল্পনা অব্যাহত। গল্পের এমন খনিকে কি কেউ অগ্রাহ্য করতে পারে?
Advertisement
Advertisement