দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Iceberg

৪০ বছরেই গলে জল! নেপাল বিপর্যয়ের মাঝে বিশ্বের বৃহত্তম হিমবাহকে ঘিরে শঙ্কার কালো মেঘ

বালি দ্বীপের সমান আয়তন হিমবাহ A23a-এর, যা এক দশক ধরে ওয়েডেল সমুদ্রের কাছে আটকে ছিল।
Sucheta Sengupta
05:14 PM Aug 31, 2026 IST
বালি দ্বীপের সমান আয়তন হিমবাহ A23a-এর, যা এক দশক ধরে ওয়েডেল সমুদ্রের কাছে আটকে ছিল।
পৃথিবীর বৃহত্তম হিমবাহ A23a, যা মাত্র ৪০ বছরেই গলে জল! ছবি: সংগৃহীত

এক হিমবাহ ভেঙে যাওয়ায় মহাপ্রলয় দেখেছে নেপাল। গোটা দেশ প্রায় তছনছ। কী ছিল আর কী হয়েছে, সেই তফাৎ চাক্ষুষ করছেন সকলে। নেপালের এই টাটকা ক্ষতর মাঝেই হিমবাহ নিয়ে আশঙ্কার কথা শোনাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। জানা গিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিমবাহ, এ২৩এ (A23a) গত ৪০ বছর ধরে ধীরে ধীরে গলতে গলতে একেবারে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে! আন্টার্কটিকা ও লাগোয়া দক্ষিণ মহাসাগরের যে অংশ জুড়ে ছিল, তা গলে জল হয়ে গিয়েছে। এর যে কী প্রভাব পড়বে মেরুপ্রদেশ এবং সংলগ্ন ইউরোপ মহাদেশে, তা হয়ত দূরতম কল্পনাতেও আমরা টের পাচ্ছি না।

২০২৩ সালের শেষদিকে অর্থাৎ মাত্র ৩ বছরের মধ্যে দেখা যায়, হিমবাহটির বরফ গলে সমুদ্রের জলে মিশে গিয়েছে। সেটা ছিল বড় বিপদের ইঙ্গিত। কিন্তু এরপরই A23a-এর আচরণে অদ্ভুত বদল! উত্তরমুখী চলনের বদলে উত্তাল সমুদ্রস্রোতের মধ্যে আটকে পড়ে এর ভেঙে পড়া অংশ। অর্থাৎ সমুদ্রের মধ্যে খাড়া হয়ে ছিল একখণ্ড বরফ। দেখে অনেকটা মনে হয়েছিল যেন সমুদ্রের মধ্যে একটা পাহাড়ের অবস্থান। তাকে নাম দেওয়া হয় - টেলর কলাম। সেটা ২০২৪ সাল।

A23a-র বর্তমান চেহারা, ছবি: সংগৃহীত

আড়ে-বহরে বালি দ্বীপের আয়তনের সমান, প্রায় ২০০০ বর্গ মাইল এলাকা। এতটাই ছিল A23a নামের হিমবাহটির আকার। বরফাবৃত আন্টার্কটিকার 'ফিলশনার আইস শেলফ' থেকে ১৯৮৬ সালে আলাদা হয়ে গিয়েছিল একটা বড় অংশ। পরে ১৯৯১ সালে ভূবিজ্ঞানীরা চিহ্নিত করেছেন, A23a পৃথিবীর সর্ববৃহৎ হিমবাহ। পরের বছরগুলিতে হিমবাহটির পরিস্থিতি নজরে রাখছিলেন তাঁরা। তেমন বিচলন খালি চোখে ধরা পড়েনি। আচমকা ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া বিভাগের নজরে পড়ে, আরে! এ যে গতিশীল হয়েছে। অশনি সংকেত দেখা গিয়েছিল তখনই। বিজ্ঞানীরা সতর্কবার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, ‘‘সাবধান! A23a কিন্তু নড়াচড়া করতে শুরু করেছে।'' ২০২৩ সালের শেষদিকে অর্থাৎ মাত্র ৩ বছরের মধ্যে দেখা যায়, হিমবাহের বরফ গলে সমুদ্রের জলে মিশে গিয়েছে। সেটা ছিল বড় বিপদের ইঙ্গিত।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

কিন্তু এরপরই A23a-এর আচরণে অদ্ভুত বদল! উত্তরমুখী চলনের বদলে উত্তাল সমুদ্রস্রোতের মধ্যে আটকে পড়ে এর ভেঙে পড়া অংশ। অর্থাৎ সমুদ্রের মধ্যে খাড়া হয়ে ছিল একখণ্ড বরফ। দেখে অনেকটা মনে হয়েছিল যেন সমুদ্রের মধ্যে একটা পাহাড়ের অবস্থান। তাকে নাম দেওয়া হয় - টেলর কলাম। সেটা ২০২৪ সাল। তাতে সমুদ্রের স্বাভাবিক স্রোত, গতি ব্যাহত হয়। ধীরে ধীরে টেলর কলামের বরফ গলে গলে মিশতে থাকে উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের সঙ্গে, গলন ত্বরান্বিত হয়। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে আবার সাউথ জর্জিয়ার কাছে প্রায় ৭০ বর্গ মাইল জোড়া এলাকায় A23a-এর একটি খণ্ড আটকে যায়।

A23a দক্ষিণ মহাসাগরে মিশে যখন 'টেলর কলাম' হয়ে দাঁড়ায়, ছবি: সংগৃহীত

হিমবাহটির গতিবিধির দিকে নজর রাখা বিজ্ঞানী জেরম বুভিয়ের জানান, ‘‘একটা শক্তপোক্ত দেওয়াল তৈরি হয়। সঙ্গে কিছু গুহামুখ অর্থাৎ বরফখণ্ডের মাঝেমাঝে গর্ত তৈরি হয়েছে। আর ক্রমাগত চূড়ার মতো বরফ ঝরে ঝরে পড়ছে।'' এরপর সবচেয়ে বড় হিমবাহের তকমা হারায় A23a। এমন সময় সমুদ্রের তলদেশে ভিডিওগ্রাফি করতে গিয়ে ছোট ছোট পেঙ্গুইন, তিমি, পাখি, মাছের মতো জলজ প্রাণী ধরা পড়ে। ডুবুরিরা অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানান, মনে হচ্ছিল যেন একটুকরো আন্টার্কটিকাই এখানে উঠে এসেছে। কিন্তু বাস্তবে বেগতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রমাদ গুনেছিলেন বিজ্ঞানীরা। ২০২৬ সালে সেটাই বাস্তবায়িত হল। এখন A23a-র অস্তিত্বই প্রায় নেই। যেটুকু বরফ বেঁচে আছে, তাতে জমে গিয়েছে ক্লোরোফিল। অর্থাৎ হিমবাহের চরিত্র সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এবার কোন প্রলয় দেখবে পৃথিবীর আরেক প্রান্ত?

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
AntarcticaIcebergMelt
Advertisement
Tags :
AntarcticaIcebergMelt

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন