Advertisement

করোনা নেগেটিভ টিম ইন্ডিয়া, শুক্রবার থেকেই শুরু হচ্ছে পঞ্চম টেস্ট

12:22 PM Sep 10, 2021 |
Advertisement
Advertisement

রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়: টিমের (Team India) জুনিয়র ফিজিওথেরাপিস্ট যোগেশ পারমারের করোনা আক্রান্ত হয়ে যাওয়া। শুক্রবার থেকে শুরু হতে চলা ম্যাঞ্চেস্টার টেস্ট নিয়ে ঘোরতর অনিশ্চয়তার বাতাবরণ। ভারতীয় বোর্ডের কাছে ম্যাঞ্চেস্টার টেস্টে ওয়াকওভার দেওয়ার জন্য ইসিবির অনুরোধ পেশ এবং তা বিরাট কোহলিদের (Virat Kohli) পত্রপাঠ খারিজ করে দেওয়া। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর রীতিমতো শঙ্কিত হয়ে বোর্ড কর্তাদের টানা ফোন ঘোরানো।

Advertisement

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ভারতীয় সংসারে করোনা নাটক যে শিরশিরানির জন্ম দিল, তা যে কোনও থ্রিলারকে হার মানাবে। এটা চলত আরও। যদি না রাতের দিকে গোটা টিমের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ চলে আসত।
সোজা কথাটা সরাসরি বলে দেওয়া যাক। ভারতীয় টিমের ফিজিও যোগেশ পারমার করোনা পজিটিভ হলেও গোটা ভারতীয় টিম নেগেটিভ। যার ফলে শুক্রবার থেকে শুরু হতে চলা ম্যাঞ্চেস্টার টেস্টের ভাগ্যে ফের মেঘ কেটে গিয়ে রোদ দেখা দিয়েছে। রাতের দিকে বিবিসির টেস্ট ম‌্যাচ স্পেশ‌্যাল টুইট করে দিয়েছে, ‘ইসিবি থেকে আমাদের জানানো হয়েছে সমস্ত ভারতীয় ক্রিকেটার করোনা নেগেটিভ। ওল্ড ট্র‌্যাফোর্ডে শুক্রবার থেকে টেস্ট যেমন হওয়ার কথা ছিল, তেমনই হচ্ছে।’ ফোনে ভারতীয় বোর্ডমহলেরও একজন বললেন যে, টেস্ট হচ্ছে। কনফার্মড।

[আরও পড়ুন: Sourav Ganguly Biopic: ‘আমার জীবনের সফর নিয়ে ছবি তৈরি হচ্ছে’, বায়োপিকের ঘোষণায় রোমাঞ্চিত সৌরভ]

শেষ পর্যন্ত কী হবে, সেটা আজ দুপুর সাড়ে তিনটেয় পুরোপুরি বোঝা যাবে। তবে চমকে দেওয়ার মতো ব‌্যাপার হল এক সাপোর্ট স্টাফের করোনাকে ঘিরে পারিপার্শ্বিকে এমন উথাল-পাথাল। করোনা ভারতীয় সংসারে এই প্রথম হল না। কিছুদিন আগেই রবি শাস্ত্রী, ভরত অরুণ, ঋষভ পন্থের মতো রাঘববোয়ালরা তাতে আক্রান্তও হয়েছেন। কিন্তু এ রকম অতি নাটক কখনও হয়নি।

ঠিক কী হয়েছে বৃহস্পতিবার গোটা দিন ধরে? আসলে গতকাল, অর্থাৎ বুধবার ভারতের প্র্যাকটিস ছিল। টিমের প্রধান ফিজিও নীতিন প্যাটেল করোনা আক্রান্ত শাস্ত্রীদের সঙ্গে সংস্পর্শে আসায় ম্যাঞ্চেস্টার আসা হয়নি তাঁর। বরং ম্যাঞ্চেস্টারে পাঠানো হয় টিমের জুনিয়র ফিজিও যোগেশ পারমারকে। তা, বুধবার প্র্যাকটিস শেষে পারমার আবিষ্কার করেন, তাঁর শরীর খারাপ লাগছে। দ্রুত তাঁর কোভিড পরীক্ষা করানো হয়। এবং বৃহস্পতিবার সকালে রিপোর্ট আসে– পজিটিভ!

ব্যস, যার পর থেকে মোটামুটি দক্ষযজ্ঞ বেঁধে যায়। ভারতীয় ক্রিকেটারদের সোজা হোটেল রুমে নিভৃতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্র্যাকটিস, নির্ধারিত প্রাক ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলন– সব বাতিল করে। গোটা টিমের আরটিপিসিআর করানো হয়। আসলে টিম ভয় পাচ্ছিল যে, যোগেশ একাধিক ভারতীয় ক্রিকেটারের সংস্পর্শে এসেছিলেন। রোহিত শর্মা, চেতেশ্বর পুজারা, মহম্মদ শামি, ইশান্ত শর্মা, মহম্মদ সিরাজদের চোটের শুশ্রূষা করেছিলেন তিনি। ভারতীয় বোর্ড আইপিএল নিয়েও ভয় পাচ্ছিল। কারণ– টুর্নামেন্ট শুরু ম্যাঞ্চেস্টার টেস্ট শেষের পাঁচ দিন পর। দু’টো টিমেরই আইপিএল প্লেয়ারদের চার্টার্ড ফ্লাইটে ম্যাঞ্চেস্টার থেকে আমিরশাহি যাওয়ার কথা। ভারতীয় সংসারে করোনার প্রভাব যদি আইপিএলে পড়ত, তা মোটেও সুখকর হত না বোর্ডের জন্য। টুর্নামেন্ট পিছনোও সম্ভব নয়। কারণ, আইপিএল শেষের দু’দিনের মধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু আমিরশাহিতে। ফ্র্যাঞ্চাইজিরা ভয় পাচ্ছিল, যদি তাদের কোনও ক্রিকেটার করোনা আক্রান্ত হন, তা হলে তাঁকে লম্বা নিভৃতাবাসে থাকতে হবে। এমনিতেই আইপিএলের শেষ পর্ব মাত্র এক মাসের। সেখানে কোনও ক্রিকেটারকে দশ-পনেরো দিন না পাওয়া গেলে আর থাকে কী?

[আরও পড়ুন: টি-২০ বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়ার মেন্টর হওয়া নিয়ে বিতর্কে ধোনি, উঠল স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ]

ফিজিও করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরপরই এ দিন ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে ভারতীয় বোর্ড। পরবর্তী রোডম্যাপ জানতে চেয়ে। ক্রিকেটাররা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বোর্ডের উপরই ছেড়ে দেন। কিন্তু রাতের দিকে আবার নাটক বাড়ে। ইসিবি হঠাৎ ভারতীয় বোর্ডকে প্রস্তাব দেয়, শেষ টেস্টে ওয়াকওভার দিতে। সেটা দিলে সিরিজ ২-২ হয়ে যেত। ভারতীয় বোর্ড সেটা কোহলিদের জানালে, তাঁরা নাকি পত্রপাঠ না বলে দেন। বলে দেন, হয় শেষ টেস্ট বাতিল করে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে ভারত সিরিজ জিতে যাবে। নইলে দু’দেশের বোর্ড কথা বলে ঠিক করুক, কোথায় খেলবে। ভারত নামবে খেলতে। করোনা থাকুক বা না থাকুক।
গভীর রাতের দিকে করোনা রিপোর্ট আসার পর সেই জট কাটল। কিন্তু আতঙ্কটা পুরোপুরি গেল না। শোনা গেল, একজন সিনিয়র ভারতীয় ক্রিকেটারই নাকি মাঠে নামতে চাইছেন না! করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরেও না! পরিবারও তাঁকে বারণ করছে!

Advertisement
Next