শুধু ক্রিকেটেই শত্রু পাকিস্তান! এশিয়ান গেমসে পাক খেলোয়াড়দের জড়িয়েও ধরেছেন ভারতীয়রা
Anwesha Adhikary
ভারত-পাক ম্যাচ মানে দুই দলের খেলোয়াড়রা হাত মেলাবেন না। এমনটা ধরে নিয়েছেন ভারতের ক্রীড়াপ্রেমীরা। কিন্তু বাস্তব বলছে, পহেলগাঁও হামলা-অপারেশন সিঁদুর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যতই শত্রুতা থাকুক না কেন খেলার মাঠে সৌহার্দ্য় বজায় রেখেছেন খেলোয়াড়রা। ম্যাচের শেষে কোনওটায় ভারত জিতেছে, কোনওটায় পাকিস্তান। কিন্তু সৌহার্দ্যে ভাটা পড়েনি। তাহলে শ্রেয়স আইয়ারদের আপত্তি কেন?
এশিয়ান গেমসে (Asian Games 2026) একাধিকবার ভারত বনাম পাকিস্তান দ্বৈরথ হয়েছে। ব্যক্তিগত বা দলগত-সমস্ত ইভেন্টেই দুই দেশের খেলোয়াড়রা মুখোমুখি হয়েছেন। টেবিল টেনিসে দলগত ইভেন্টে দুই দলের প্যাডলাররা হাত মিলিয়েছেন। সৌজন্য বিনিময় করেছেন কোচিং স্টাফরাও। স্কোয়াশের মিক্সড ডাবলস সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারত ফাইনালে ওঠে। ম্যাচ শেষে ভারতের অভয় সিং এবং পাকিস্তানের মহম্মদ ইরফানের হাত মেলানোর ছবি নেটদুনিয়ায় ভাইরাল।
আরও পড়ুন:
হকি সেমিফাইনালেও ভারত-পাক দ্বৈরথ। ৩-০ এগিয়ে থাকার পর আচমকাই ম্যাচের রাশ চলে যায় ভারতের হাত থেকে। দুরন্ত কামব্যাক করে ৩-৩ করে ফেলে পাকিস্তান। একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে গোল করে কোনওক্রমে জেতে ভারত। ম্যাচ শেষে স্রেফ হাত মেলানো নয়, চিরশত্রু খেলোয়াড়দের বুকে জড়িয়েও ধরেছিলেন হকি তারকারা। পাকিস্তানি কোচ নিজে এসে ভারতীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। ভলিবলেও ম্যাচ শেষে বজায় ছিল একই সৌজন্যের ছবি।
কিন্তু ক্রিকেটে নেই সৌজন্য। এশিয়ান গেমস ফাইনালে ভারত-পাক ম্যাচ হল। কিন্তু শ্রেয়স আইয়ার এবং সাহিবজাদা ফারহান হাত মেলাননি। মহিলা দল মুখোমুখি হয়নি, তবে মহিলাদের ক্রিকেটেও ভারত-পাক ম্যাচে করমর্দন হয় না। সেখানেই ক্রীড়াপ্রেমীরা বলছেন, কেন এমন পার্থক্য? ভারতের অন্য ক্রীড়াবিদরা যদি সৌজন্য বজায় রাখতে পারেন, তাহলে 'জেন্টলম্যানস গেম' খেলা তারকারা কেন অন্য পথে হাঁটবেন? কেনই বা অন্য খেলার থেকে ক্রিকেট আলাদা সিদ্ধান্ত নেবে? এশিয়ান গেমসে সকল ক্রীড়াবিদ গিয়েছেন দেশের প্রতিনিধি হিসাবে। তাহলে ক্রিকেটাররা কেন অন্য় অ্যাথলিটদের মতো আচরণ করবেন না? প্রশ্ন উঠছে, ভারত-পাক শত্রুতাটা জিইয়ে রাখাই কি ক্রিকেটের কাজ? খেলার স্পিরিটকেও বিসর্জন দেওয়া যায়?